রাজশাহীতে বিএনপির পথসভায় ককটেল হামলা, আহত ১২

প্রথম পাতা

আসলাম-উদ-দৌলা, রাজশাহী থেকে | ১৮ জুলাই ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৩
আসন্ন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নির্বাচনী পথসভায় ককটেল হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের এক সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বেলা পৌনে ১১টায় নগরীর সাগরপাড়া বটতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরা হলেন- বাংলাভিশনের রাজশাহী প্রতিনিধি আদিত্য চৌধুরী, বিএনপি কর্মী স্বপন কুমার ও খোকন। মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ডিকেন স্বাক্ষরিত পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হামলায় তাদের ১০-১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।


নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে খুলনা ও গাজীপুরের মত ভোট কারচুপির চেষ্টার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নৌকার মেয়রপ্রার্থীর সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী ককটেল হামলার ঘটনাকে সাজানো নাটক হিসেবে দেখছে।

নৌকার মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমরা শান্তি চাই। ক্ষমতাসীন হয়েও আমাদের নেতাকর্মীরা কারো সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন না। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, তা মেনে নেয়ার মন-মানসিকতা আমার তৈরি আছে। নির্বাচনকে কেন্দ্রর নারীসহ সর্বস্তরের ভোটাদের মধ্যে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এটি দেখে বিএনপি আতঙ্কিত। তারা মনে করছে, এখানে জয়ী হতে না পারলে সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। সেই হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতেই তারা নিজেরা এই হামলা চালিয়েছে।’

খুলনা ও গাজীপুরের মতো রাজশাহী সিটি নির্বাচনেও ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টির পাঁয়তারার অংশ হিসেবে এ ককটেল হামলা চালানো হয়েছে। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, খুলনা ও গাজীপুরে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে ভোট ডাকাতি করে আমাদের প্রার্থীকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। রাজশাহীর ভোটারদের মাঝে ক্ষমতাসীনরা যাতে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে না পারে সেই কাজগুলোই এখানে আমরা করছি। কিন্তু তারপরও ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করত এই ককটেল হামলা চালানো হয়েছে। রাজশাহীতে ইতোমধ্যেই আমাদের ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভোটাররাও চাচ্ছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যাতে করে ভোট দিতে যেতে পারেন। তাই ভোটারদের ভোটদানে বিরত রাখার জন্য মহানগরজুড়ে নৌকার মেয়রপ্রার্থী ও তার সমর্থকরা একটা আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা এ কাজ করেছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাগর এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে বটতলা মোড়ে এক পথসভায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেলেন কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলযোগে কয়েকজন মুখোশধারী ধানের শীষের পথসভা লক্ষ্য করে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে সেখান থেকে সটকে পড়ে। ঘটনাস্থলে রাস্তার পাশেই বিএনপির কর্মী স্বপন কামার তার দোকানে ছুরি, বটি বানানোর কাজ করছিলেন। ককটেলের আঘাতে তিনিও আহত হন। এ ঘটনায় গণমাধ্যম কর্মী আদিত্য আহত হয়। আহত হয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব। পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করান।

ঘটনাস্থলে থাকা ডাব ব্যবসায়ী নূর ইসলাম বলেন, ‘আমি এখানেই (বটতলা মোড়ে) ডাব বিক্রি করি। প্রায় ৫-৬ শত বিএনপির নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মোড়ে কেবলই দুলু সাহেব বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। আমি তখন চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ কককেল বিস্ফোরণের আওয়াজ। তাকাতেই দেখি, মানুষ আতঙ্কে ছোটাছুটি করছে। পরে সবাই সেখান থেকে চলে যায়।’
আহত স্বপন কামার বলেন, ‘আমি নিচের দিকে তাকিয়ে কাজ করছিলাম আর এক গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় রাস্তার ওপর বিকট শব্দ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার শরীরে লাগে। এতে আমি আহত হই।’
ফার্নিচার ব্যবসায়ী জিয়াউল হক বলেন, আমি কেবলই আমার ফার্নিচার গাড়ি থেকে নামাচ্ছি। এমন সময় মুখোশপরা কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে কোনো আওয়াজ না করে ধুমধাম ককটেল ফাটিয়ে টান দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে টিকাপাড়ার দিকে চলে যায়।’

এদিকে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘বিএনপি’র জনপ্রিয়তা ও বর্তমান অবস্থা দেখে আওয়ামী লীগ শঙ্কিত হয়ে এই বোমা হামলা শুরু করেছে। তারা পূর্ব থেকেই তাদের এই পরিকল্পনা ছিল।’ তিনি বলেন, ‘বোমা কেন অন্য যেকোনো হামলা মোকাবেলা করার ক্ষমতা রাখে বিএনপি।’ তিনি নির্বাচন কমিশনের নিকট এই সকল কর্মকাণ্ডের হোতা ও নিদের্শদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তশূলক শাস্তির দাবি জানান।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর রাজশাহীর সমন্বয়ক সুব্রত পাল বলেন, ‘ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার জন্য কেউ আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটাতে পারে। এ ধরনের ঘটনা সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এই মুহূর্তেই নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙক্ষলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। তা না হলে নির্বাচনের দিনেও কিন্তু এর একটা প্রভাব রাজশাহীতে পড়তে পারে।’

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে লিখিত আকারে থানায় কোনো ধরনের অভিযোগ দায়ের করেননি। তবে বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে আমরা তদন্ত করছি। কোনো পক্ষ যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করতে না পারে। আমরা গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মহানগরীর থানাগুলোকে এ ব্যাপারে কঠোর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে নির্দেশ দিয়েছি।’ বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আইসিইউতে রাজধানী

ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টির চক্রান্ত করছে বিএনপি

ওয়ান ইলেভেনের বেনিফিশিয়ারি আওয়ামী লীগ

যেভাবে ঢাকার মেরামত সম্ভব

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ফারিয়া রিমান্ডে

৪০ লাখ বাংলাভাষী হবে বৃহত্তম রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী!

ইমরান খানই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মওদুদের বাড়ি ঘেরাও করে রাখায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ও আন্দোলনের খসড়া রূপরেখা তৈরি

আত্মমর্যাদা ও মানবাধিকারের স্বপক্ষে একক কণ্ঠস্বর

ঈদের আগে ছাত্রদের মুক্তি দিন: ড. কামাল

‘কার কাছে গেলে ছেলেকে ফেরত পাবো’

বাজপেয়ীকে শেষ বিদায়

পশুবোঝাই ট্রাক ‘ছিনতাই’ শঙ্কায় সিলেটের বেপারিরা

ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঈদযাত্রা

মওদুদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ