বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক

নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা, চুক্তি সই

শেষের পাতা

বিশেষ প্রতিনিধি | ১৬ জুলাই ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১১
৬৫ বছর ও এর বেশি বয়সী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা দেবে ভারত। এজন্য ‘রিভাইস ট্রাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট ২০১৮’- তে স্বাক্ষর করেছে ভারত ও বাংলাদেশ। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী এবং ভারতের পক্ষে সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল সেক্রেটারি বিরাজ রাজ শর্মা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভারত ও বাংলাদেশের ষষ্ঠ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠক শুরু হয়। এর আগে ১০টা ২২ মিনিটে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাঙ্গণে অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি চৌকস দলের সালাম গ্রহণ করেন রাজনাথ সিং। বৈঠকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেন। দুপুর ১২টায় বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রাজনাথ সিং সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত আন্তরিক ও আবেগের। রোহিঙ্গা, সীমান্ত সমস্যাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। সমস্যাগুলোর সমাধানে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ভারতের ভিসা সহজীকরণের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যাদের বয়স ৬৫ বছর এবং এর ঊর্ধ্বে তারা ভিসা চাইলে ৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের বয়স্ক সিটিজেনরা যারা ভিসা চান তারা (ভারত) তাদের এই ভিসা দেবেন। তিনি বলেন, যারা দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধ করেছেন, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একই ধরনের ভিসা সুবিধা তারা প্রদান করবেন, সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করেছেন। যেটার চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশের ৩০ লাখ লোক ভারতে যাচ্ছে। এজন্য বলেছি, এতো অধিক সংখ্যক মানুষ যায়, তারা যাতে আরো বেশি সুযোগ-সুবিধা পায়। তিনি বলেন, রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে দুটি নতুন বিল্ডিং তারা (ভারত সরকার) করে দিয়েছে। সেটি উদ্বোধনের জন্য তিনি শনিবার রাজশাহী গিয়েছিলেন। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের পুলিশ একাডেমির জন্য ভারতের পুলিশ একাডেমির সঙ্গে একটি মোমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল ভিসা বলুন, স্টুডেন্ট ভিসা বলুন সবগুলোই আগের মতো রয়েছে, সেগুলো আরো সহজীকরণের কথাও তারা আমাদের বলে গিয়েছেন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রয়েছে দাবি করে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দুই দেশের মধ্যে চমৎকার আন্ডারস্ট্যান্ডিং রয়েছে। যত প্রবলেম আমাদের রয়েছে আমরা একে একে সলভ করেছি। ভবিষ্যতে যদি আরো কিছু প্রবলেম আসে আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শেষ করব। আমাদের যদি কোনো প্রয়োজন হয়, তাদের যদি কোনো নিড আসে তবে আমরা সমঝোতার মাধ্যমে তা শেষ করবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা বলেছেন, আমাদের পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, প্রিজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার যদি প্রয়োজন হয়, তারা সহযোগিতা করবেন। এছাড়া সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও তারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। তিনি বলেন, জাল মুদ্রা নিয়ে তারাও একটা বিব্রতকর পজিশনে ছিল, আমরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা কী কী করেছি তাদের জানিয়েছি। তারা আমাদের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এখন সেই জায়গাটিতে থেকে তারা আশঙ্কামুক্ত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বলেন, আমরা তাদের জোরের সঙ্গে বলে দিয়েছি যে, আমাদের দেশের এক ইঞ্চি জমিও আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ বা প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাসী হামলা কিংবা সেপারেটিস্ট মুভমেন্ট হতে দেবো না। সন্ত্রাসী বা জঙ্গি দমনের জন্য তাদের কাছে যত ধরনের সহযোগিতা চেয়েছিলাম তারা আমাদের করেছেন। তারাও আমাদের সঙ্গে ইনফরমেশন এক্সচেঞ্জ করছেন। যাতে আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গি দমন করতে পারি। টেরোরিস্ট বা সেপারেটিস্ট যেগুলোই হোক আমরা আমাদের দেশে তাদের স্থান দেই না সেজন্য তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মিয়ানমারের জন্য তারা আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সহযোগিতার হাত বাড়াবেন এবং এর জন্য কাজ করবেন বলে তারা জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত কোন ধরনের সহযোগিতা দেবে- জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা বলেছি, রোহিঙ্গা আমাদের জন্য সমস্যা। তারা বলেছেন এই সমস্যা সমাধানে তারা কাজ করবেন। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে তারা আমাদের সহযোগিতা দেবেন। মাদক নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে মাদক-ফেনসিডিল আসা অনেকাংশে কমে গেছে। তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় এসব কারখানা আইন করে বন্ধ করে দিয়েছে। যেগুলো তারা জানতে পারছেন সেগুলো তারা বন্ধ করে দিচ্ছেন। আমরা বলেছি, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিওপি (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) করতে যাচ্ছি। যাতে আমরা দুর্গম জায়গাগুলোতে যেতে পারি, নজরদারিতে আনতে পারি। সীমান্ত রোড আমরা করতে যাচ্ছি, আমরা শুরু করেছি। সেখানে আমাদের সহযোগিতা করতে বলেছি। আমরা সীমান্তে সার্ভিলেন্স ও সেন্সর লাগানোর যে প্রচেষ্টা নেবো, সেখানে তাদের সহযোগিতা করার জন্য বলেছি। তারা আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে। ভারত মানবপাচার, মাদকপাচার বন্ধে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দুই আসামি ভারতে পালিয়ে আছে বলে খবর রয়েছে। এ বিষয়টি আলোচনায় এসেছে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখানে একটি কমিটি আছে। এ বিষয়েও আলাপ হয়েছে। তারা এটা দেখছেন। আমাদের কাছে তারাও কয়েকজনের নাম পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে এগ্রিমেন্ট রয়েছে। এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই আমাকে ভারতে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বলেছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে আপনি আসুন। আমরা একটা সময়-সুযোগ করে আবারো যাবো। এদিকে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সংস্থাসমূহের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জাল মুদ্রা, মাদক ও মানবপাচার রোধ এবং কনস্যুলার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়সহ দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সকল ইস্যু আলোচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি বিষয়ে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। উভয়পক্ষই ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের পারস্পরিক উন্নতির জন্য বিশ্বাস, বন্ধুত্ব ও সমঝোতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো জোরদার করতে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ বর্ধিত করাসহ উভয় দেশের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া আরো উদার করার জন্য আগের ‘রিভাইসড ট্রাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট-২০১৩’ (আরটিএ-২০১৩)-এর সংশোধিত ‘আরটিএ-২০১৮’ স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করেন মন্ত্রীরা। এর আগে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়াও তিনি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা দেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

হাইকোর্টের আদেশের পর ধানের শীষ পেলেন ৩ প্রার্থী

১০ বছরে দ্রুত বেড়েছে ধনী-গরিব বৈষম্য

ধ্রুপদী লড়াই

ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ

বিএনপিতে নতুন মুখের জয়জয়কার

উন্মুক্ত আসনের রাজনীতির নেপথ্যে কী?

মহাজোটে পুরনো আর অভিজ্ঞদের প্রাধান্য

প্রার্থিতা ফিরে পেতে খালেদা জিয়ার রিট

ব্যাংক লুটেরাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি টিআইবির

পেট্রোলবোমার পাশাপাশি লগি-বৈঠা, ব্যাংক লুট বাকস্বাধীনতা হরণের কথাও তুলে ধরা যেতো

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ে বিব্রত ইসি

যে ব্যাখ্যা দিলেন কামাল মজুমদার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশিদের ভ্রমণ বন্ধ!

ঝিনাইদহে বিএনপি প্রার্থী মজিদের কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুর, আহত ১৫

মর্যাদার আসনে লড়াইয়ে মোমেন-মুক্তাদির

পাকিস্তান দূতাবাসে ফখরুলদের বৈঠক ষড়যন্ত্রের আভাস- আওয়ামী লীগ