সিলেট সিটি নির্বাচন

সাইড লাইনে ‘সক্রিয়’ যারা

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৬ জুলাই ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫০
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় সাইড লাইনে বহর বাড়ছে। প্রতিদিনই বাইরে থেকে নৌকা ও ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন দলীয় ও সমর্থকরা। এ কারণে এখন প্রচারণামুখর সিলেট নগরী। বেশি সরব সিলেটের কোর্ট পয়েন্ট, হাসান মার্কেট, সিটি পয়েন্ট, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, চৌহাট্রা সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো। এসব এলাকায় এক পক্ষের প্রচারণা শেষ না হতেই আরেক পক্ষ নামে প্রচারণায়। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের সমর্থনে মাঠে সরব আওয়ামী লীগ সহ ১৪ দলীয় জোটের কর্মীরা।
নির্বাচনের শুরুতেই সিলেট নগরীর বাইরে এলাকায় এসে কর্মিসভা করে গেছেন দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। অবশ্য আচরণবিধি লঙ্ঘন হতে পারে- এমন আশঙ্কায় তিনি সিলেটে প্রচারণায় অংশ নেননি। তবে বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে সিলেটের ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তারা কামরানের পুরো নির্বাচনটি মনিটরিং করছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায়ও অংশ নিচ্ছেন। কামরানের সমর্থনে দলীয় মতবিনিময় সভায় তারা যোগ দিচ্ছেন এবং বক্তব্যও রাখছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, দুই সাংগঠনিক সম্পাদক বিশেষ করে দলের ভেতরে বেশি কাজ করছেন। তারা প্রতিনিয়তই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছেন। সিলেটের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যরা এখনো প্রচারণায় নামেননি। সিলেট আওয়ামী লীগের পদ-পদবিতে তারা থাকলেও নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘনের আশঙ্কায় তারা প্রচারণায় নামছেন না বলে জানিয়েছেন নেতারা। তবে সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান নির্বাচনে সক্রিয়। তিনি শনিবার রাতেও নগরীর দরগাহ মহল্লা এলাকায় ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর জন্য এবারের সিটি নির্বাচন বড় অগ্নিপরীক্ষা। সম্মান রক্ষার তাগিদে তিনি তার দলবল নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় রয়েছেন। তিনি হচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক। সিলেট-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য সিলেট নগরের নির্বাচনে সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তার সঙ্গে সক্রিয় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। তিনি হচ্ছেন কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এবার শুরু থেকেই সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সক্রিয়। তার সঙ্গে যুক্তরাজ্য থেকে নেতাকর্মীদের একটি বহর কামরানের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা গত দুইদিন ধরে সিলেটের নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছেন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সিলেটের মেয়রপ্রার্থী কামরানের পক্ষে গণসংযোগে ব্যস্ত রয়েছেন। গতকাল সিলেট বিভাগের আওয়ামী লীগ দলীয়  পৌর মেয়ররা এবং শনিবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এসে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। সিলেট বিএনপিতে প্রচারণার বহর দিন দিন বাড়ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রচারণার শুরুতে সিলেট সফর করে গেছেন। তিনি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফের সিলেটে চলে আসবেন। সিলেটে থেকেই তিনি পুরো বিষয়টি মনিটরিং করবেন বলে জানিয়েছেন নেতারা। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার দলের প্রার্থীর সার্বিক বিষয়টি মনিটরিং করছেন। জীবন সিলেটেই কয়েক দিন ধরে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচনী প্রচারণায়ও অংশ নিচ্ছেন। বিএনপি নেতা জীবনের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টি মনিটরিং করছেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম এবং কলিম উদ্দিন মিলন। তারা দুইজন প্রতিদিনই সিলেটে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি শুক্রবার আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী কার্যালয় মিতা সেন্টারে নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় একটি সভায় বক্তব্য রাখেন। শনিবার তিনি নগরীর জিন্দাবাজার ও উপশহর এলাকায় গণসংযোগ চালিয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। লুনা প্রচারণায় বলছেন- সিলেটে ধানের শীষে ভোট দিলে ইলিয়াস গুমের জবাব দেয়া হবে। সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. ময়নুল হক জানিয়েছেন, ইলিয়াসপত্নী লুনা সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। তিনি প্রচারণায় নামায় বিএনপির সব অংশের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসির আলী  খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীদের নিয়ে  কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রচারণা চালান। আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ হক। তিনি এখনো অসুস্থজনিত কারণে প্রচারণায় অংশ না নিলেও সার্বিক বিষয় মনিটরিং করছেন। আর কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক। তিনি প্রায় প্রতিদিন সকালে আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনের শুরু থেকেই আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি কখনো প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে আবার কখনো বিএনপি সহ অঙ্গ-সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। খন্দকার মুক্তাদিরের প্রচারণায় নেতাকর্মীদের বহর বেশি বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এদিকে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক প্রতিদিনই আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় শামিল হচ্ছেন। পাশাপাশি তারা সেন্টার কমিটি গঠন করে চলেছেন। আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সিলেটে এসে অংশ নিয়েছেন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জিকে গৌছ, সাবেক এমপি শেখ সুজাত, সাবেক এমপি ফজলুল হক আসপিয়া। এছাড়া, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, মহিলা দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন।

জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন: সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী যাতে অপতৎপরতা চালাতে না পারে সে ব্যাপারে কড়া নজর রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। রোববার সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেট জেলা, বিভাগীয় ও পুলিশ প্রশাসন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। সভা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন প্রার্থীদের কাছ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ আসছে সেগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ জঙ্গি তৎপরতা বন্ধে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভাব্য সব ধরনের হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলেছি। কারণ পৃথিবীর কোনো স্থানই আজ জঙ্গিবাদের বাইরে নয়। বাংলাদেশেও অনেক ঘটনা ঘটছে। এছাড়া শায়খ আবদুর রহমান এই সিলেটেই আশ্রয় নিয়েছিল। তাকে এখান থেকে ধরা হয়েছিল। তাই জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ আতিয়া মহলের জঙ্গি আস্তানার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এরকম একটি স্থানে জঙ্গিরা আশ্রয় নেবে এটা পুলিশ কর্মকর্তাদেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। তাই জঙ্গিদের ব্যাপারে কড়া নজরদারি রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোসাম্মৎ নাজমানারা খানম, ডিআইজি কামরুল আহসান, পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান, পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান, রিটার্নিং অফিসার মো. আলীমুজ্জামান, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন প্রমুখ।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আইসিইউতে রাজধানী

ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টির চক্রান্ত করছে বিএনপি

ওয়ান ইলেভেনের বেনিফিশিয়ারি আওয়ামী লীগ

যেভাবে ঢাকার মেরামত সম্ভব

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ফারিয়া রিমান্ডে

৪০ লাখ বাংলাভাষী হবে বৃহত্তম রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী!

ইমরান খানই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মওদুদের বাড়ি ঘেরাও করে রাখায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ও আন্দোলনের খসড়া রূপরেখা তৈরি

আত্মমর্যাদা ও মানবাধিকারের স্বপক্ষে একক কণ্ঠস্বর

ঈদের আগে ছাত্রদের মুক্তি দিন: ড. কামাল

‘কার কাছে গেলে ছেলেকে ফেরত পাবো’

বাজপেয়ীকে শেষ বিদায়

পশুবোঝাই ট্রাক ‘ছিনতাই’ শঙ্কায় সিলেটের বেপারিরা

ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঈদযাত্রা

মওদুদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ