‘হত্যার পর নিজেই প্রবীরকে ৭ টুকরো করি’

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে | ১৫ জুলাই ২০১৮, রোববার
মাদক সেবনের কথা বলে বন্ধু প্রবীরকে বাসায় ডেকে আনি। তারপর পরিকল্পনা মতো তাকে হত্যা করে লাশ ৭ টুকরা করি। এবং বাজার থেকে কিনে আনা প্লাস্টিকের ব্যাগে লাশের টুকরোগুলো ভরে বাসার নিচে সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেই। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যায় গ্রেপ্তারকৃত প্রবীরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পিন্টু দেবনাথ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে এমনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের খাস কামরায় শনিবার বিকাল থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত ১৬৪ ধারায় তার দীর্ঘ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ঘাতক পিন্টু আদালতকে জানিয়েছে, হত্যার নেপথ্যে ছিল অর্থ, বন্ধকী স্বর্ণালংকার ও দোকান আত্মসাতের পরিকল্পনা।
জবানবন্দিতে প্রবীর হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে কীভাবে নৃশংসভাবে হত্যা, লাশ গুম এবং এই হত্যাকাণ্ড তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে পিন্টু দেবনাথ। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে একটি তৃতীয় পক্ষ রয়েছে। পিন্টু জনিয়েছে, সেই পক্ষটি তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকাও নিয়েছে। ওই পক্ষটি প্রবীর ও পিন্টুর মধ্যে ফাটল ধরায় এবং প্রবীরকে পিন্টুর কাছে বিষিয়ে তোলে। সেই পক্ষটি কে? জানতে চাইলে মামলার তদন্ত সংস্থা তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

৫ দিন রিমান্ডের শেষ দিন ছিল শনিবার। গত মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পিন্টু দেবনাথ ও তার কর্মচারী বাপন ভৌমিককে। ডিবি’র জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে পিন্টু হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়। পরে শনিবার বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র এসআই মফিজুল ইসলাম পিপিএম পিন্টুকে  আদালতে নিয়ে আসে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম বলেন, পিন্টু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। হত্যার নেপথ্যে ছিল অর্থ, বন্ধকী স্বর্ণালংকার, দোকান আত্মসাৎ ও পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।

যেভাবে যে কারণে হত্যা করা হয় : তদন্ত সংস্থার সূত্রমতে, তিনদিন ধরে ঘনিষ্ঠবন্ধু প্রবীর ঘোষকে হত্যার পরিকল্পনা করে পিন্টু দেবনাথ। পরিকল্পনামতো বাজার থেকে একটি চাপাতি, ৭টি সিমেন্টের নতুন ব্যাগ ও দড়ি কিনে। এবং  ১৮ই জুন রাত ৯টার দিকে মাদক সেবনের কথা বলে প্রবীরকে মোবাইল ফোনে নিজের বাসায় ডেকে আনে পিন্টু। গল্প-গুজব ও বিয়ার সেবনের একপর্যায়ে চাপাতি দিয়ে প্রবীরের পেছন থেকে ঘাড়ে আঘাত করে পিন্টু। রক্তাক্ত হওয়ার পরও প্রবীর বাঁচার জন্য জাপটে ধরে পিন্টুকে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পিন্টু চাপাতি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে। প্রবীর রক্তাক্ত হয়ে টিভিরুমে খাটের উপর লুটিয়ে পড়ে। এরপর বালিশ চাপা দিয়ে তার শ্বাস রোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে পিন্টু। হত্যার পর বাথরুমে গিয়ে গোসল করে পিন্টু। তার পরিষ্কার কাপড় পরে বাসার বাইরে যায়। পরে বাইরে থেকে এসে গভীর রাতে প্রবীরের লাশ চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে একে একে ৭ টুকরো করে। এরমধ্যে  ৫ টুকরো লাশ বাজার থেকে আনা সিমেন্টের ৩টি ব্যাগে এবং পা দু’টি আরেকটি ব্যাগে ভরে। অন্য একটি ব্যাগে রক্তাক্ত বিছানার চাদর, বালিশ, পরিধেয় কাপড় ও চাপাতি ভরে। শেষরাতের দিকে চারদিকের পরিবেশ একেবারে শান্ত হয়ে গেলে বাসার নিচে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকিতে ৩টি ব্যাগ ফেলে। কিন্তু ট্যাংকিতে জায়গা না হওয়াতে পা ভর্তি ব্যাগটি বাড়ির উত্তর পার্শ্বের ময়লার স্তূপের সঙ্গে ড্রেনের মাথায় ফেলে দেয়। এবং রাতেই শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে ফেলে দেয় চাপাতি, বিছানার চাদর আর বালিশ ভর্তি ব্যাগ। রাত সাড়ে ১০ টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে হত্যা মিশন শেষ করে পিন্টু। পরে সে বাসার বাইরে আসে। এবং প্রবীরের বাসায় যায়। কারণ তখনো প্রবীরের পরিবার জানতো না প্রবীরকে হত্যা করে পিন্টু তাদের বাসায় এসেছে। প্রবীরের পরিবার পিন্টুকে জানায় প্রবীরের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি। মজার বিষয় গত ২১ দিন পিন্টু স্বাভাবিকভাবেই প্রবীরের পরিবার ও কালীরবাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিশে ছিল। নিখোঁজ প্রবীরকে উদ্ধারের সকল আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিল পিন্টু।

এদিকে প্রবীরকে হত্যার পর পিন্টু প্রবীরের ব্যবহৃত মোবাইল কুমিল্লায় ভারতের সীমানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রবীরের মোবাইল ফোন দিয়ে পরিবার ও কালীরবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে প্রবীরের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশ প্রবীরের নম্বর ট্র্যাকিং করে ভারতীয় সীমানায় সিগন্যালও পায়। কয়েকদিন পর প্রবীরের মোবাইল পিন্টু তার কর্মচারী বাপন ভৌমিককে দিয়ে দেয়।

বাপন পুলিশকে জানিয়েছে, সে প্রবীর হত্যাকাণ্ডের কিছুই জানতো না। পিন্টু প্রবীরের মোবাইলটি তাকে দিয়ে বলে প্রবীর ভারতে গিয়েছে। মোবাইলের ঝামেলাটা আমি রাখতে চাই না। এটা তুই ব্যবহার কর। তখন বাপন তার সিম প্রবীরের মোবাইলে ভরে ব্যবহার করতে গিয়ে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে ধরা পড়ে ডিবি’র কাছে। বাপনের তথ্যমতো পিন্টুকে আটক করে ডিবি। পরে পিন্টুর দেয়া তথ্যমতে, ৯ই জুলাই রাত ১১টায় শহরের আমলপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম ঠাণ্ডু মিয়ার চারতলা ভবনের নিচতলায় সেপটিক ট্যাংকি থেকে প্রবীরের ৫ টুকরো লাশ ও ১০ই জুলাই রাতে একই এলাকার একটি ড্রেন থেকে পা দু’টি উদ্ধার করে ডিবি।
পিন্টু ঠাণ্ডুু মিয়ার বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকত।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আইসিইউতে রাজধানী

ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টির চক্রান্ত করছে বিএনপি

ওয়ান ইলেভেনের বেনিফিশিয়ারি আওয়ামী লীগ

যেভাবে ঢাকার মেরামত সম্ভব

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ফারিয়া রিমান্ডে

৪০ লাখ বাংলাভাষী হবে বৃহত্তম রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী!

ইমরান খানই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মওদুদের বাড়ি ঘেরাও করে রাখায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ও আন্দোলনের খসড়া রূপরেখা তৈরি

আত্মমর্যাদা ও মানবাধিকারের স্বপক্ষে একক কণ্ঠস্বর

ঈদের আগে ছাত্রদের মুক্তি দিন: ড. কামাল

‘কার কাছে গেলে ছেলেকে ফেরত পাবো’

বাজপেয়ীকে শেষ বিদায়

পশুবোঝাই ট্রাক ‘ছিনতাই’ শঙ্কায় সিলেটের বেপারিরা

ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঈদযাত্রা

মওদুদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ