এসবি পরিদর্শক মামুন হত্যা ডিবির জালে এবার তিন নারী মডেল

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ জুলাই ২০১৮, শনিবার


তাদের টার্গেট সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে কৌশলে চক্রের নারীদের পরিচয় করানো হয়। সেই নারীরা নিজেদের বিভিন্ন টেলিভিশনের মডেল দাবি করে। সেই পরিচয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি, শিল্পপতিদের সঙ্গে তারা সখ্য গড়ে তোলে। জন্মদিনের পার্টি, শুটিং অথবা বিশেষ কোনো ডিজে পার্টিতে আমন্ত্রণ জানানো হয় সেই ব্যক্তিদের। তাদের কথামতোই রাতভর ডিজে, ড্রিংকস নানা আয়োজন করা হয় তাদের নির্ধারিত ফ্ল্যাটে। তবে তাদের টার্গেট থাকে ভিন্ন কিছু। সেখানে আগে থেকে চক্রের অন্য সদস্যরা অপেক্ষা করে।
একপর্যায়ে কথিত নারী মডেলরা ফাঁদ তৈরি করে। আর এতে সহযোগিতা করে চক্রের অন্য সদস্যরা। টার্গেট করা ওই ব্যক্তি যখন ওই নারী মডেলের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটান সেগুলো ধারণ করা হয় ক্যামেরায়। আর এসব ধারণ করা ভিডিওকে পুঁজি করে শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। এভাবেই তাদের ফাঁদে পড়ে একাধিক ব্যক্তি নিঃস্ব হয়েছেন। সর্বশেষ শিকার হন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মামুন ইমরান খান। চাকরির পাশাপাশি অভিনয়ের প্রতি দুর্বল মামুন ওই চক্রের এক নারীর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে ফাঁদে পড়েন। যদিও তার পরিচয় পাওয়ার পর ব্ল্যাকমেইল না করে ভবিষ্যতে বিপদে পড়ার ভয়ে তাকে দুনিয়া ছাড়া করেছে।

এসবি পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যার ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মামুন হত্যায় তিন নারী মডেলের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন। ঘটনার সময় ওই তিন নারী মডেল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন, সুরাইয়া আক্তার রেখা, ফারিয়া বিনতে মিম ও মেহেরুন নেসা স্বর্ণা ওরফে আফরিন। এদের মধ্যে আফরিন ও রহমত উল্লাহর সঙ্গে মামুনের পূর্ব পরিচয় ছিল। আফরিনের জন্মদিনের পার্টির কথা বলে মামুনকে সেদিন বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার ওই ফ্ল্যাটে নেয়া হয়। তার সঙ্গে একই ধরনের ব্ল্যাকমেইল করতে গিয়ে তারা জেনে যায় মামুন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তখন মামুন ও তার বন্ধু রহমত উল্লাহর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত প্রতারক চক্রের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। তারা মামুনকে মারধর শুরু করে। বেধড়ক মারধরের একপর্যায়ে মামুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে কৌশলে প্রাণে বেঁচে যান রহমত উল্লাহ।  মামুন হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্টরা এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। মামুনকে হত্যার পর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পরে গ্রেপ্তার করা হয় রহমত উল্লাহকে। যার সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। জন্মদিনের পার্টির কথা বলে রহমত উল্লাহ ওই দিন মামুনকে ডেকে নিয়ে যায়। মামুন হত্যার পর তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায়ই রহমত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডিবি রহমত উল্লাহকে ৭ দিনের রিমান্ডে আনে। আর সেই রিমান্ডেই চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য দিয়েছে রহমত উল্লাহ।
সূত্র জানিয়েছে, এসবির এই কর্মকর্তা হত্যায় বেশ কয়েকজন নারী পুরুষকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তাদের অবস্থানও ঢাকার বাইরে ছিল। মূলত মামুন হত্যার সঙ্গে তারা সম্পৃৃক্ত ছিল। গা-ঢাকা দিতে তারা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মামুন হত্যার দিন সেখানে যারা উপস্থিত ছিন তাদের মধ্যে রয়েছে- স্বপন, দিদার, মিজান, আতিক, শেখ হৃদয় ওরফে আপন ওরফে রবিউল, সুরাইয়া আক্তার কেয়া, মেহেরুন নেছা ঝর্না ওরফে আফরিন, ফারিয়া বিনতে মীম ওরফে মাইশাসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জন। তারা মূলত ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজ করতো। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বনানীর যে ফ্ল্যাটে ঘটনা ঘটেছে সেটি গত দুই মাস আগে নজরুল ইসলাম নামে একজন ভাড়া নেয়। সেখানে তেমন কোনো আসবাবপত্র ছিল না। কারণ ব্ল্যাকমেইলের কাজে জড়িত থাকায় তারা ঘন ঘন ঠিকানা পাল্টায়। টার্গেট করা লোকজনের কাছ থেকে ফায়দা হাসিলের পর তারা নতুন করে বাসা নেয়। বাসা নেয়ার সময় তারা অভিনব কৌশল অবলম্বন করে। কখনও বায়িং হাউজের অফিস, কখনও শুটিং ইউনিটের অফিস ছাড়াও নানা কৌশলে বাসা ভাড়া নেয়া হয়। সর্বশেষ বনানীর বাসাটি ৪৫ হাজার টাকায় ভাড়া নেয়া হয়। কারণ হিসাবে বলা হয় মায়ের আঁচল নামে একটি বৃদ্ধাশ্রম ও মিডিয়া হাউজ করা হবে। কিন্তু দুই মাস অতিবাহিত হলেও আর অফিস করা হয় না। বরং সেখানে ঘন ঘন বিভিন্ন নারী-পুরুষের যাতায়াত ছিল। রাতভর সেখানে গান বাজনা, ডিজেপার্টি হতো। প্রায় প্রতি রাতেই সেখানে শুটিং করার নামে এসব পার্টি করা হতো। আর প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষ আসত। নিহত মামুনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভাইয়ের সঙ্গে সবুজবাগে বাসায় থাকতেন অবিবাহিত মামুন ইমরান খান। ৮ই জুলাই অফিস থেকে ফেরার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মামুন বাসা থেকে বের হয়। রাতে বাসায় না ফেরায় পরদিন তার ব্যবহূত তিনটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তার কর্মস্থলে খোঁজ নিয়েও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম সবুজবাগ থানায় একটি জিডি করেন। এর তিনদিন পর গাজীপুরের কালিয়াকৈরের রাস্তার পাশে বাঁশ বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতারক চক্রটি মামুনকে হত্যা করে তার মরদেহ পুড়িয়ে সেখানে ফেলে রাখে। মামুনের গ্রামের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জের রাজরামপুরে। তার বাবা মৃত আজহার আলী খান। ভাই মামুন ইমরান খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নেন। ২০০৫ সালে এসআই হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন মামুন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার উপকমিশনার খন্দকার নুরনবী মানবজমিনকে বলেন, মামুন হত্যা মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তদন্তে আমরা প্রায় ৭০ ভাগ এগিয়েছি। আশাকরি আর অল্প সময়ের ভেতরে আমরা ঘটনার মূল রহস্য পাবলিকের কাছে তুলে ধরতে পারবো। তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত আরো বেশ কয়েকজন নারী পুলিশ আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আর সার্বিক বিষয়ে ডিবির প্রধান দেবদাস ভট্টাচার্য্য মানবজমিনকে বলেন, আমাদের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে।  




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নাটক করছে ঐক্যফ্রন্ট

হাসপাতালে যেমন আছেন খালেদা

ইমরুলের ব্যাটে বঞ্চনার ‘জবাব’

অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ

মইনুলের বিরুদ্ধে দুই মামলা, জামিন

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উদ্বেগ প্রশমিত করতে পারে

দেশে ৩ কোটি মানুষ দরিদ্র এক কোটি হতদরিদ্র

আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে ৫ যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

ভোটের হাওয়া ভোটারের চাওয়া

তরুণদের কাছে ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আমীর খসরু কারাগারে

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তফসিল: ইসি সচিব

সড়কে সেই আগের চিত্র

পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন বার্নিকাট

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কাল