হজ কার্যক্রমের উদ্বোধন

ইসলামের শিক্ষা সমুন্নত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ধর্মের শিক্ষা মানুষের কাছে যেন উচ্চ আসনে থাকে সেটা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু কিছু লোক নিজস্ব স্বার্থে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদের জন্য, সমগ্র মুুসলিম সমপ্রদায়ের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে। গতকাল হজ কার্যক্রম ২০১৮-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ইসলামের শিক্ষাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। ধর্ম মন্ত্রণালয় সকাল ১১টার দিকে আশকোনা হজ ক্যাম্পে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আগামী শনিবার হজযাত্রীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
হজযাত্রীদের কাছে দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা হজে গিয়ে দেশবাসীর জন্য দোয়া করবেন। দেশ যেন উন্নত ও সমৃদ্ধশালী হয়। আমরা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যে কাজ করেছি, যে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি, তা যেন ভালোভাবে শেষ হয় সে জন্য দোয়া করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে হজ ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট সমস্যা ছিল। ১৯৮৪ সালে আমি প্রথম ওমরাহ্‌ পালন করতে যাই। মিনায় গিয়ে আমি বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সমস্যার কথা জেনেছি। তখন যদিও আমি কোনও দায়িত্বে ছিলাম না, তবু সৌদি বাদশাহ্‌কে চিঠি লিখতাম এসব সমস্যা সমাধানের জন্য। পরে ’৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে হজ ব্যবস্থাপনা ভালো করার জন্য উদ্যোগ নিই। ধীরে ধীরে এই সমস্যার সমাধান করি। আপনারা যেন ভালোভাবে সেবা পান সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। হজযাত্রীদের থাকার জন্য সুব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে হজ টার্মিনালের পাশে হজযাত্রীদের থাকার জন্য ৪০ কোটি টাকা ভাড়া দিয়ে আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগে সেখানে হজযাত্রীদের রাস্তাঘাটে পড়ে থাকতে হতো। হাজীদের যেন কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য সেখানে ভলান্টিয়ার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সেখানে দোভাষী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। হজযাত্রীদের কীভাবে কী করতে হবে সে ব্যাপারে একটা নির্দেশিকা করা হয়েছে। এখন আমাদের হজ ব্যবস্থাপনা সর্বক্ষেত্রে প্রশংসা অর্জন করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। কিছু মানুষ আমাদের ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কিছু কিছু মানুষের জন্য সংঘাত ও  বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অধিকার কারও নেই। ধর্ম মানুষের কাছে উচ্চ আসনে থাকুক আমি সেটাই চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলায় জেলায় আধুনিক মসজিদ নির্মাণে ৮০ ভাগ জায়গা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছি। ৮ হাজার কোটি টাকা একনেকে পাস হয়েছে। এ সময় ইসলাম ধর্ম নিয়ে যেন কোনও বিভ্রান্তি না হয় সেজন্য মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা শুরু করার কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং প্রতিবছর আমি অপেক্ষা করে থাকি যারা হজে যাবেন তাদের সঙ্গে একটু সাক্ষাৎ হবে। আপনাদের কোনো অসুবিধা থাকলে শুনে নেবো, একই সঙ্গে আপনাদের কাছে দোয়াও চাইবো। তিনি বলেন, আপনারা যাচ্ছেন আল্লাহ্‌র  মেহমান হয়ে পবিত্র হজ পালনের জন্য। পবিত্র মক্কা ও মদীনা নগরীতে আপনারা নবী করিম (সাঃ) পবিত্র রওজা পাক জিয়ারত করবেন। আপনারা ভালোভাবে হজ পালন করে সুন্দর ও সুস্থভাবে যাতে ফিরে আসতে পারেন- সেটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ৭৫-এর ১৫ই আগস্টের বিয়োগান্তুক অধ্যায়ের উল্লেখ করে সেদিনের শাহাদত বরণকারীদের জন্য হজযাত্রীদের কাছে দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, আপনারা তাদের জন্য একটু দোয়া করবেন আল্লাহ্‌ যেন তাদের বেহেশ্‌ত নসীব করেন। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর ছয় বছর তাকে দেশে ফিরতে দেয়া হয় নাই। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দেশে ফেরার পর থেকে তিনি দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। শুধু একটা লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি, আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করে গেছেন। কাজেই এই দেশের মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে, সুন্দর জীবন পাবে, ভালোভাবে বাঁচার অধিকার পাবে সেটাই আমার লক্ষ্য। এবং গত ৯ বছরে আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন দেশের কি পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে ইসলামের প্রচারে জাতির পিতার উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, কম খরচে হজ পালনের জন্য জাতির পিতা হিজবুল বাহার জাহাজ ক্রয় করেন এবং বিমানেও বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজযাত্রী প্রেরণ করেন। যদিও সে সময় পর্যন্ত সৌদি আরব বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেনি তথাপি বঙ্গবন্ধুর সৌদি আরবের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কারণেই এটা করা সম্ভবপর হয়েছিল বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মুুসলিম বিশ্বসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন। তার দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসি’র সদস্যপদ লাভ করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে। জাতির পিতা নিজে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদ্‌রাসা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনিই প্রথম আইন করে দেশে মদ নিষিদ্ধ করেন। ঘোড়দৌড় ও জুয়া বন্ধ করেন। বেতার ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের শুরু ও সমাপ্তিতে কুরআন তিলাওয়াতের প্রচলন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিমানমন্ত্রী একেএম শাজাহান কামাল, ধর্ম মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিএইচ হারুন,  স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন, সৌদি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আমির বিন ওমর সালেহ।
উল্লেখ্য, এবার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালনে মক্কা নগরীতে যাচ্ছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা: আপিল শুনানি চলছে

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের নতুন সনদ আহ্বান বিলাওয়ালের

২০ জুলাই থেকে দুই দিনব্যাপী ‘সাংস্কৃতিক উৎসব’ শুরু

‘পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর কোনও বিকল্প নেই’

‘টানা ২ দিন ঘুমাতে দেয় নি পুলিশ’

ভুল করে বলে ফেলেছিলেন ট্রাম্প!

তদন্তকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করবেন নাজিব

নাগরিক হিসেবে দেশে ফিরতে চান রোহিঙ্গারা

বিশ্বের শীর্ষ ধনী এখন আমাজনের জেফ বেজোস

বাংলাদেশী জিহাদি সুজন যেভাবে ইসলামিক স্টেটে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে

আসামে ‘ফরেনার’দের দীর্ঘমেয়াদী ওয়ার্ক পারমিট দিতে পারে ভারত

হরিণাকুন্ডুতে ১৩ মামলার আসামী বন্দুকযুদ্ধে নিহত

সবচেয়ে বেশি উপার্জনের তারকারা

‘মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা দেখে সত্যিই কষ্ট লাগে’

এফডিসিতে সংঘর্ষ, আহত ১

বেবী নাজনীন হাসপাতালে