ব্রাসেলসে ট্রাম্প-মার্কেল বাকযুদ্ধ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েই বিতর্কের সৃষ্টি করে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বার্লিন ও মস্কোর মধ্যে গ্যাস নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে তাকে তিনি অসঙ্গত বলে আখ্যায়িত করেছেন। আক্রমণ শানিয়েছেন জার্মানি ও রাশিয়ার প্রতি। তিনি দু’দিনের ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে বুধবার ব্রাসেলস  পৌঁছেই বলেন, জার্মানি হলো রাশিয়ার কাছে জিম্মি (ক্যাপটিভ)। ক্ষুব্ধস্বরে তিনি এমন সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যেল পাল্টা জবাব দেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। তিনি বলেন, জার্মানির স্বাধীনভাবে নীতি নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীন।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ন্যাটোর অংশীদার দেশগুলো অধিক সুবিধা নিচ্ছে, ট্রাম্পের এমন অভিযোগের জবাবে মার্কেল বলেন, ন্যাটোয় এখনো জার্মানির বিপুল সৈন্য নিয়োজিত রয়েছে। এখনো আফগানিস্তানে আমাদের সৈন্য রয়েছে। সেখানে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থও রক্ষা করছি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন স্কাই নিউজ। এতে বলা হয়, অন্য বিশ্বনেতারা ব্রাসেলসে পৌঁছার আগেই বুধবার ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টোলটেনবার্গের সঙ্গে সকালে নাস্তার টেবিলে তার কণ্ঠ ধারালো করেন। এ সময় তিনি অন্য দেশগুলোতে তাদের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির তাগিদ দেন। ডনাল্ড ট্রাম্পের এমন সব মন্তব্যে এবার ন্যাটো সম্মেলনেও বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সমূহ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে গত মাসে কানাডায় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে গিয়ে তিনি একই রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। এমন কি ওই সম্মেলন থেকে যে যৌথ বিবৃতি দেয়া হয়েছিল তাতে তিনি সম্মতি দেন নি। তিনি তার আগেই দলবল নিয়ে পাড়ি দেন সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে। তিনি এবার ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ব্রাসেলস পৌঁছে প্রথমেই টার্গেটে পরিণত করলেন জার্মানিকে। এ সময় তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে জার্মানি যে গ্যাস চুক্তি করেছে তাতে বার্লিন পুরোপুরি মস্কোর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তার ভাষায় ‘আমি যতদূর জানি, জার্মানি রাশিয়ার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। কারণ, তারা রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছে। আমরা জার্মানিকে রক্ষা করতে প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু তারা গ্যাস কিনছে রাশিয়ার কাছ থেকে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করুন। এটার কোনো ব্যাখ্যা করা যায় না। কারণ, তারা রাশিয়াকে গ্যাস কেনা বাবদ শত শত কোটি ডলার বিল দিচ্ছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের উচিত জার্মানির পক্ষ নেয়া’। ওই নাস্তার টেবিলে ডনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন ন্যাটো মহাসচিব। এ সময় তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পকে ন্যাটোর অভিন্ন উদ্দেশ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। জেনস স্টোলটেনবার্গ তাকে বলেন, ন্যাটো হলো ২৯টি জাতির জোট। এতে মাঝে মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকবে। কিছু অমতও থাকবে। এক্ষেত্রে রাশিয়া থেকে জার্মানি পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন হলো মিত্রদের মধ্যে ওইরকম একটি বিষয়। কিন্তু ন্যাটোর শক্তি বলে, এমন পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা সব সময়ই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে সক্ষম। পারস্পরিক সুরক্ষা, একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো এসবই হলো ন্যাটোর মূল কাজ। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি বিচ্ছিন্ন অবস্থার চেয়ে একত্রিত হলে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। এ সময় তিনি ট্রাম্পকে বুঝিয়ে দেন শীতল যুদ্ধের সময় রাশিয়ার সঙ্গে কি আচরণ করেছে ন্যাটোর মিত্ররা। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ভন ডার লিয়েন। তিনি বলেন, কোনো সংশয় ছাড়াই রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের প্রচুর ইস্যু আছে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশ, মিত্র ও বিরোধীদের সঙ্গে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই যোগাযোগ রাখা উচিত।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আওয়ামী লীগ ছাড়া জাতীয় ঐক্য হতে পারে না

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিবাদে সম্পাদক পরিষদের মানববন্ধন ২৯শে সেপ্টেম্বর

চাকরি না পেয়ে সুইসাইড নোট লিখে খুবি ছাত্রের আত্মহত্যা

আলোচনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৩ ধারা

ঢাকায় দুই থানায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আরো মামলা

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে ঐশ্বরিক কাজ করেছে বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ায় ৫৫ বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেপ্তার

আশা খোঁজার চেষ্টা

ইভিএম নিয়ে সন্দেহ দূর করতে হবে

নেত্রকোনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহে ২৭ মামলা

স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে

সই না করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি সিপিজে’র আহ্বান

মেজর মান্নানের প্রতিবাদ আমাদের ব্যাখ্যা

সিলেটে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রেশন পাচ্ছে কারা?

ছাত্রলীগের মারধরের ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ আহত