চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ জুলাই ২০১৮, বুধবার, ১২:৩৭ | সর্বশেষ আপডেট: ৭:৩২
সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে চার জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে কুষ্টিয়ায় দুইজন, নাটোরে একজন, কেরানীগঞ্জে একজন ও লক্ষœীপুরে একজন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশ ও র‌্যাবের গুলিতে মারা গেছেন। পুলিশ ও র‌্যাবের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার মিরপুরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফুটু ওরফে মোন্না (৩৫) ও রাসেল আহম্মেদ (৩০) নামের দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টায় মিরপুর উপজেলার কূর্শা ইউনিয়নের আনান্দ বাজার বালুচর সংলগ্ন  জোয়াদ্দারের ইটভাটার কাছের এ ঘটনায় তাদের দুই সদস্য আহত হয়েছেন এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে ।

র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মোহাইমিনুল জানান, মাদক দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে একদল মাদক ব্যবসায়ী মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের আনন্দ বাজার বালুচর সংলগ্ন জোয়াদ্দারের ইটভাটার কাছে অবস্থানের সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য কর গুলি ছোড়ে।  এসময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে ‘বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অন্যরা পালিয়ে গেলেও গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে দুইজন আহত হয়। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষনা করেন। নিহতদ্বয়ের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি পিস্তল,  ১২ রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমান ইয়াবা ও ফেন্সিডিল  উদ্ধার করা হয়।  
নিহত ফুটু ওরফে মোন্না কুষ্টিয়া শহরের রাজারহাট মোড় এলাকার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে ও রাসেল আহম্মেদ একই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।
এদিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, বড়াইগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ওসমান গণি (৩২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এসময় ৪১০গ্রাম হেরোইন, একটি ৭.৬২ বিদেশী পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগজিন, পিস্তলের গুলির একটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
র‌্যাব-৫ সিপিসি-২ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর শিবলী মোস্তফা জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার মাঝগাঁও ইউনিয়নের বাহিমালী বাজার মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ওসমান গণি উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের গুরুমশাইল এলাকার মৃত মুনসুর আলী মুন্সীর ছেলে। ওসমান গণির বিরুদ্ধে নাটোর জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজি সহ ৫ টি মামলা রয়েছে এবং সে নাটোর জেলার অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত বলে র‌্যাব দাবি করেছে।
র‌্যাব জানান, বাহিমালী বাজার মোড় থেকে ভাটুপাড়া গ্রামে যাওয়ার একশত গজ উত্তরে কাঁচা রাস্তার উপর টর্চের আলো এবং কিছু লোকের আনাগোনা দেখতে পায় র‌্যাব সদস্যরা। এসময় তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র‌্যাবের টহল দল উক্ত স্থানের দিকে অগ্রসর হয়। এসময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু লোক দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাদেরকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিলে তারা টহল দলকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি বর্ষণ শুরু করলে র‌্যাবও পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। এসময় মাদক ব্যবসায়ী দলের ৩-৪ জন সদস্য পালিয়ে যায় এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অজ্ঞাতনামা একজন পড়ে থাকে। পরে তাকে দ্রুত বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই রকমভাবে ঢাকার কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কেরানীগঞ্জের দেওশুর এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নুর হোনে (৩৬) ওরফে নুরা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায়  পুলিশর ছয় সদস্য আহত হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ ডিবি পুলিশের ওসি মো. শাহজামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান মাদক ব্যবসায়ী মো. নুর হোসেন ওরফে নুরাকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাকৃত নুর হোসেনের দেয়া তথ্য মতে, অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য উদ্ধারের জন্য ওই দিন দিবাগত গভীর রাতে নুর হোসেনকে সাথে নিয়ে  কেরানীগঞ্জ মডেল থানার দেওশুর এলাকায় জনৈক মনির হাজীর বালুর মাঠে  যাওয়া হয়। এসময় নুর হোসেনের অপরাপর সহযোগীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি শুরু করে। এসময় দুপক্ষের গুলি বিনিময়কালে গুলিবিদ্ধ নুর হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নুর হোসেনের নামে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ডাকাতি, খুন, ও মাদকের ২১টি মামলা রয়েছে।  এই ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। নিহত নুর হোসেন নুরার বাবার নাম মোঃ নুর ইসলাম। তার  বাড়ি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিয়ানগর এলাকায়।
এছাড়াও লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-চাঁদপুর সড়কের চরপাতা এলাকায় পুলিশ-মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ১৯ মামলার আসামী মাদক ব্যবসায়ী সোহেল রানা ওরফে চোরা সোহেল নিহত হয়েছে। এসময় রায়পুর থানার এসআই মোস্তফা ও মোতাহের হোসেন নামে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয় বলে দাবী করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে তিনশ পিছ ইয়াবা ও ৯ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। আজ বুধবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মককর্তা একেএম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, সোহেল রানা ওরফে চোরা সোহেল পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে রায়পুর ও ফরিদগঞ্জসহ বিভিন্ন থানায় মাদক,ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ ১৯ মামলার পলাতক আসামী ছিল সোহেল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঝুমুর সিনেমা হল এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভোররাতে তাকে নিয়ে ইয়াবা উদ্ধার যায় পুলিশ। এক পর্যায়ে রায়পুর-চাঁদপুর সড়কের পাশে চরপাতা এলাকা পৌঁছলে মাদক ব্যবসায়ী সোহেলের সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। এ সময় মোস্তফা ও মোতাহের হোসেন নামে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয় বলে দাবী করে পুলিশ।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রাখাইনে পাইলট প্রকল্প, থাইল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনায় মিয়ানমার

আজ বন্ধ থাকছে যেসব সড়ক

‘ইমরান খান পুরোপুরি ব্যর্থ’

দিল্লি যাচ্ছেন এরশাদ

ইমরানকে বিদেশে যেতে বাধা দেয়ার অভিযোগ

চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধ’: নিহত ৪

অবরোধ সত্ত্বেও পুরোদমে চলছে কাতারে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে মাঠে থাকছে ৩৭১০০০ সেনা, পাকিস্তানে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা

রাজশাহীতে দুই জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জে মার্কেটে ডাকাতি: দুই নৈশপ্রহরী খুন

‘খুব বেশি দেরিও করতে চাই না’

ভারতের সংসদে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন হবে না

সার্ক ছিল জাতির জনকের স্বপ্ন

লিখলেই নাম্বার দিতে হবে এ প্রবণতা থেকে বের হওয়ার সুফল

লোকসভায় মোদিকে রাহুলের আলিঙ্গন