তিন সিটিতে প্রচার যুদ্ধ শুরু

প্রথম পাতা

বাংলারজমিন ডেস্ক | ১১ জুলাই ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪৩
সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর গতকাল থেকে প্রচার যুদ্ধে নেমেছেন। প্রতীক পেয়েই ছুটেছেন ভোটারদের দ্বারে। জাতীয় নির্বাচনের  ছয় মাসেরও কম সময় আগে এ তিন সিটির নির্বাচন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম-জালিয়াতির যে অভিযোগ উঠেছে সামনের তিন সিটি নির্বাচনে এর পুনরাবৃত্তি হবে না বলে কমিশন আশ্বাস দিলেও নির্বাচন কেমন হবে এ নিয়ে পুরো দেশবাসীর আগ্রহ রয়েছে প্রবল। খুলনা গাজীপুরে নির্বাচনের যে মডেল দাঁড়িয়েছে, তিন সিটিতে এর পুনরাবৃত্তি হবে কি না- এমন প্রশ্নও রয়েছে নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মাঝে। মঙ্গলবার প্রতীক বরাদ্দের পর তিন সিটিতেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। সিলেটে মেয়র পদে সাতজন, বরিশালে ছয়জন এবং রাজশাহীতে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিগত নির্বাচন এ তিন সিটিতেই বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন।
রাজশাহী ও সিলেটে বিদায়ী মেয়র বিএনপির প্রার্থী হলেও বরিশালে প্রার্থী বদল করে মুজিবুর রহমান সারোয়ারকে প্রার্থী করেছে দলটি। তিন সিটিতেই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তিন সিটিতেই আওয়ামী লীগের একজন করে প্রার্থী রয়েছে। সিলেটে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন নগর বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান। গতকাল তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মাজার জিয়ারতের পর প্রার্থীরা প্রচারণায় মাঠে
ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে: প্রথা ভাঙলেন না কেউ। চিরায়ত নিয়মে মাজার জিয়ারত করেই প্রচারণা শুরু করলেন সিলেটের মেয়র প্রার্থীরা। দিনভর মাজার এলাকায়ই ছিল প্রার্থীদের আনাগোনা। মেয়র থেকে শুরু করে কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রায় সবাই মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই শুরু করেছেন প্রচারণা। এ কারণে গতকাল দিনভর প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহ্‌জালাল (রঃ)-এর মাজার এলাকা। সিলেটে ৭ জন মেয়র প্রার্থী এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকাল সাড়ে ৯ টায় সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান মেয়র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়েই দিনের কার্যক্রম শুরু করেন।

৭ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে কেবল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়া সবাই উপস্থিত হয়ে তাদের মার্কা সংগ্রহ করেন। এতে করে নির্বাচনী কার্যালয়ে আরেক দফা দেখা হয়ে গেল মেয়র প্রার্থীদের। আধাঘণ্টার কার্যক্রমেই মেয়র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দপর্ব সম্পন্ন হয়। মেয়র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পরপরই রিটার্নিং কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান জানান- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান নৌকা, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বাসগাড়ি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের টেবিল ঘড়ি, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম খান হাতপাখা, বাসদের প্রার্থী আবু জাফর মই, স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের হরিণ মার্কা পেয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক নিয়ে বেরিয়ে কামরান বলেন- ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতীক নৌকা, স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক নৌকা। এই নৌকা মার্কা পেয়ে আমি খুশি। আমার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়েছে।’

তিনি বলেন- ‘সিলেটে নৌকা মার্কার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি ৩০ তারিখের নির্বাচনে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো।’ বাসগাড়ি প্রতীক পেয়ে খুশি বদরুজ্জামান সেলিমও। তিনি বলেন- ‘একবার আমি সিলেট পৌরসভা নির্বাচনে বাসগাড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। সিলেটের মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের জন্য আমি প্রার্থী হয়েছি। আশা করি শেষ হাসি আমিই হাসবো।’ স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন- ‘২০ দলীয় জোট হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের জন্য। স্থানীয় নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছি। সিলেটের মানুষ এবার যোগ্যতার ভিত্তিতেই তাদের মতামত প্রয়োগ করবে।’ এদিকে প্রতীক নিয়ে বাইরে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে- নিজে ধানের শীষ আনতে যাননি বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি ওই সময় বাসাতেই ছিলেন।

তার পক্ষে বিএনপি নেতারা নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে প্রতীক নিয়ে আসেন। বেলা ১১ টায় ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহ্‌জালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করতে যান আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন- নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আহ্বায়ক ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সদস্য সচিব ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জুবের খান, মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল, বেলাল খান, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তি, যুগ্ম আহ্বায়ক মুশফিক জায়গীরদারসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মাজার জিয়ারতের পর কামরান দরগাহ এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গণসংযোগ করেন। তিনি হেঁটে হেঁটে মাজারের ভেতরের গেইট থেকে প্রধান ফটক পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হাত মেলান ও কুশল বিনিময় করেন। কামরান মাজার এলাকায় থাকতেই সেখানে পৌঁছেন বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম। তিনিও মাজার জিয়ারত করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গণসংযোগ করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১ টায় বিএনপি’র নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মাজারে যান বিএনপি’র মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। মাজার জিয়ারত করে বেরিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন- সিলেটের মানুষ জেগে উঠলে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কাজ হবে না। মানুষ তার পক্ষে রয়েছে। এই মাটি পবিত্র মাটি। এখানে কোনো অনিয়ম বরদাস্থ করা হয় না।

এ সময় আরিফ অভিযোগ করে বলেন- নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে প্রিজাইডিং অফিসারদের তালিকা করেছে। এই তালিকা নিয়ে গোয়েন্দারা ছুটে যাচ্ছে প্রিজাইডিং অফিসারদের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ সময় তার সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয়  নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল রাজ্জাক, সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল কাহ্‌হের শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপি’র সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এদিকে- গতকাল বিকালে সিলেটে নির্বাচনী প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করেছেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আরিফুল হক চৌধুরী। নগরীর মীর্জা জাঙ্গালের নির্ভানা ইনের পাশে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচনী প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। আর কাজীটুলার উঁচাসড়ক এলাকার মীতা কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপি’র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ায় নগরীতে শুরু হয়েছে মাইকিংও। প্রার্থিতা নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে প্রার্থীদের পোস্টার টাঙানো শুরু করেন।

রাসিক নির্বাচন প্রচারণায় বুলবুল, নৌকার পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী
আসলাম-উদ-দৌলা, রাজশাহী থেকে: রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দুই হেভিওয়েট নেতা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে সঙ্গী করে ভোটের মাঠে নেমেছেন। বিএনপি প্রার্থী পোস্টার-ফেস্টুনকে গুরুত্ব না দিয়ে একযোগে মাইকিং করে ধানের শীষের ভোট চেয়ে প্রচারণা শুরু করেন। অন্যদিকে প্রতীক বরাদ্দের কয়েক ঘণ্টার ভেতরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পোস্টার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরী। প্রথমদিকে মাইকিং না থাকলেও বেলা একটু বাড়তেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচারণা চালায় নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। দুইপক্ষ আটঘাট বেঁধে নামছে ৩০শে জুলাইয়ের লড়াইয়ে।   

সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মেয়রপদে ধানের শীষের প্রতীক সংগ্রহ করেন সদ্য বিদায়ী মেয়র মহানগর সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এরপর দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হযরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে ভোটের মাঠে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেন বুলবুল। বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ধানের শীষ ও ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি, এডুকেশন সিটি, হেলদি সিটি ও স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার আবারো সুযোগ দিন’ স্লোগান সংবলিত লিফলেট হাতে নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। প্রচারণার এই বহরে সঙ্গী থাকছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিন হেভিওয়েট নেতার ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা বিএনপির অভ্যন্তরীণ শক্তিকে প্রকাশ করছে।
মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘প্রচারণা শুরুর আগেই রাজশাহীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী, নৌকার নেতাকর্মীরা আমার নেতাকর্মীদের মাঠে না নামতে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তারপরও আমরা ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনবো। অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে নগরবাসী শান্তির প্রতীক ধানের শীষে ভোট  দেবে এবং আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘বিএনপির ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে সকল ষড়যন্ত্র-অপশক্তির পরাজয় ঘটবে। ধানের শীষের বিজয় কেউ রুখতে পারবে না।’

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে ১৪ দলের মেয়রপ্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন অফিসে গিয়ে বরাদ্দকৃত নৌকা প্রতীক সংগ্রহ করেন। দুপুরে নগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি। দুপুরের পর থেকে ১৪ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ‘চলো আবারো বদলে দেই রাজশাহীকে’ এই স্লোগানে নগরজুড়ে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনায় মাঠে নামেন তিনি। ১৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহার বিষয়ে লিটনসহ দলের নেতাকর্মীরা গণসংযোগে গিয়ে নগরবাসীকে তার মেগাসিটি গড়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।

তার মেয়াদকালে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে নির্বাচিত হলে তিনি নগরবাসীর জন্য কী কী করতে চান তা উল্লেখ করছেন।
নৌকার মেয়রপ্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, পুরো নগরজুড়ে নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একজন মেয়রের এলাকার নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে যে মেধা ও যোগ্যতার প্রয়োজন তার সবই আমার মধ্যে রয়েছে। সুনির্দিষ্ট ভিশন, জনগণের প্রতি দখল, বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তরিকতা আছে। আমি নির্বাচিত হলে রাজশাহীকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা করা দরকার সবই করবো। আমার বিশ্বাস, জনগণ আমার কর্মপরিকল্পনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবে।’

সরজমিন দেখা গেছে, আগে থেকেই প্রস্তুত নৌকা প্রতীকের পোস্টার-ফেস্টুনে ভরে গেছে ৯৭.১৮ বর্গকিলোমিটারের পুরো রাজশাহী নগরী। সকালে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে দুপুরের মধ্যে ৩০টি ওয়ার্ডের আনাচে-কানাচে নৌকা প্রতীকের সাদাকালো ফেস্টুনে ছেয়ে যায়। ধানের শীষের ফেস্টুন চোখে পড়লেও পোস্টার চোখে পড়েনি। তবে দিনের প্রথমভাগে মাইকে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে জোর প্রচারণা চালানো হয়। সঙ্গে লিফলেট নিয়ে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর  চেষ্টা ছিল বিএনপির।

সকালে প্রথমে সংরক্ষিত আসনের নারী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর মেয়রপদে ও সবশেষে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে দেয়া হয় প্রতীক বরাদ্দ। যারা একই প্রতীক চেয়েছিলেন তাদের লটারির মাধ্যমে প্রতীক দেয়া হয়েছে বলে জানান নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।

মেয়রপ্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে নৌকা, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ধানের শীষ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (মতিন) হাবিবুর রহমান হাবিবকে কাঁঠাল, ইসলামী আন্দোলনের শরিফুল ইসলাম হাতপাখা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদকে হাতি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রতীক বরাদ্দের পরপরই মেয়র-কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় চলে যায়। পছন্দের প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেলে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থককে নির্ধারিত প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। একদিনেই শিক্ষানগরী রাজশাহী যেন পরিণত হয়েছে ভোটের নগরীতে।

ইসলামী আন্দোলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিএনপি
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে: আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমেছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রার্থীরা। সোমবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের নানা নাটকীয় ঘটনার পর এক প্রকার থমকে গেছেন বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। পর্দার আড়ালে ক্ষমতাসীনদের প্রচণ্ড চাপে বিএনপির দুই কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। গতকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর এবার বিসিসি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে রয়েছেন ১৩৬ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৬ জন, কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর ৮ জন কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত ইসলামী আন্দোলন এবং ২০ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিস মনোনয়নপত্র দাখিল করায় দুশ্চিন্তায় পড়ে বিএনপি। যদিও জামায়াত মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। সোমবার বিএনপির সমর্থনে খেলাফত মজলিস মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও ইসলামী আন্দোলন মাঠে রয়ে গেছে। বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের ভালো সমর্থন রয়েছে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ১০ সহস্রাধিক ভোট পায়। এবার তারা প্রচারণায়ও এগিয়ে আছে। এ কারণেই এই দলটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিএনপি।

আওয়ামী লীগ গত দুই সপ্তাহ ধরে বরিশালের বাইরে বেশ কয়েকটি বর্ধিত সভা করে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোটারদের রায় প্রার্থনা করেছে। তবে পর্দার আড়ালেও চলেছে নানা খেলা। বিএনপি প্রার্থী ও সমর্থকদের নানা প্রলোভন ও হুমকি ছিল। শেষ পর্যন্ত দুই বিএনপি কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বিষয়টি সামনে চলে আসে। এর মধ্যে একজন বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ভাই জাকির হোসেন জেলাল তিনবার নির্বাচিত কাউন্সিলর।

তার বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন লিয়াকত হোসেন লাবলু। এই অবস্থায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়েদুর রহমানকে নিয়ে নানা হিসাব কষছে দুই দল। বিশেষ করে বিএনপি। চরমোনাই পীরের এই দলটি অনেক আগেই মাঠে নেমেছে। চলছে প্রচারণা। এমনিতেই এদের একটি বড় সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলন মাঠে না থাকলে তাদের ভোটের বড় একটি অংশ বিএনপির বাক্সে পড়ত। এ অবস্থায় ইসলামী আন্দোলনকে নিয়ে বেশ সতর্ক বিএনপি। এক কথায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, প্রশাসন নিয়ে চাপের মুখে থাকা বিএনপিকে ইসলামী আন্দোলনকে নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। বিএনপির একটি সূত্র দাবি করেছে, নির্বাচন কমিশন আগে থেকে এজেন্টদের নাম চাওয়ায় তারা বিপাকে আছেন। এই নাম ধরে ধরেই গাজীপুর ও খুলনায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা এজেন্টদের হুমকি দিয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে।  

অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক চিপ হুইপ, আবুল হাসানাত আবদুল্লার পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর প্রচারণা চলছে জোরেশোরেই। একাধিক টিম কাজ করছে। প্রতিদিনই তার সমর্থনে সভা-সমাবেশ চলছে। মঙ্গলবার প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই মাঠে নেমে পড়েছে মাইকবাহী অটোরিকশা। ঢাকা থেকে আসা আওয়ামী লীগের একটি টিমসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

বামপন্থি হিসেবে পরিচিত বাসদ/সিপিবি থেকে এবার দুজন মেয়র  প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সিপিবির আবুল কালাম আজাদ প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার তার সঙ্গে বাসদের তরুণ চিকিৎসক ডা. মনীষা চক্রবতী নির্বাচন করছেন। গত দুই সপ্তাহ যাবত যেকোনো একজনকে প্রত্যাহারের জন্য একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটার ১২৩টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ৩১শে জানুয়ারি ২০১৮’র হালনাগাদকৃত ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের তালিকায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২৩টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫০টি ভোটার কক্ষ বা বুথ থাকবে। আর এর বাইরে আরো ৫২টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ রাখা হতে পারে। এদিকে ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার সংখ্যা ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১২,৩৭০ জন, আর সবচেয়ে কম ভোটার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৪,৬১২ জন। অপরদিকে সবচেয়ে বেশি ৬টি করে ভোটকেন্দ্র রয়েছে করপোরেশনের ৬, ২৩, ২৪ ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং ১২, ১৬ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে সবচেয়ে কম ২টি করে কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া সবচেয়ে বেশি ভোট কক্ষ (বুথ) রয়েছে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৯টি এবং সবচেয়ে কম ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৪টি।

মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ: প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে মঙ্গলবার থেকে প্রচারণায় নেমেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া শুরু করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মুজিবর রহমান।

 দুপুর ১২টার পর নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পান আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পান বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, লাঙল প্রতীক বরাদ্দ পান জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস, মই প্রতীক পেয়েছেন বাসদের মেয়র প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী, কাস্তে প্রতীক পেয়েছেন সিপিবির প্রার্থী একে আজাদ ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ওবায়দুর রহমান মাহবুব।  এছাড়া ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের প্রতীক বরাদ্দ পান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

jabeads

২০১৮-০৭-১১ ১৩:২৫:৫৭

এখন আর কার মাথা থেকে টুপি সরবে না! নির্বাচন শেষ তো টুপি ছাড়া মাথা!!!!!!!!!!!!!!

আপনার মতামত দিন

সিরিয়ার ভুলে রাশিয়ার ১৫ সেনা নিহত

সচিব হলেন পাঁচ কর্মকর্তা

তিন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন হাসিনা-মোদি

এবার চালু হল হাইড্রোজেন রেলগাড়ি

আমীর খসরুর হোটেলে দুদকের অভিযান

‘গোরস্তানেও পুলিশ মোতায়েন করা উচিত’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি আইনজীবীরা

দেড় লাখ ইভিএম কেনার প্রকল্প অনুমোদন

বাফুফে থেকে নিপুর পদত্যাগ

১০০০ পিস ইয়াবাসহ আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আটক

সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে তারা শুধু জনগণের সেবক: ড. কামাল

বিক্রি হচ্ছে বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন

ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি মিছিল

এক মাসে দেশের অনেক কিছুর পরিবর্তন হবে: মওদুদ

দুদকে সময় চেয়ে মোরশেদ খান-রুহুল আমিন হাওলাদারের আবেদন

নরেন্দ্র মোদির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য...