তাড়াইলে ইতালি প্রবাসীর বাড়ি দখল করে প্রভাবশালীর বিল্ডিং নির্মাণ

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১১ জুলাই ২০১৮, বুধবার
তাড়াইল রাউতি গ্রামের এক ইতালি প্রবাসী ও তার ভাইদের পৈত্রিক বাড়ির একাংশ জোর করে দখল করে সেখানে এলাকার এক প্রভাবশালী বিল্ডিং নির্মাণ করছেন। এ ব্যাপারে ইতালি প্রবাসী সাজ্জাদ ভূঞার চাচাতো ভাই মো. আবদুল গণি ভূঞা গত ৩০শে জুন তাড়াইল থানায় দখলকারী ও সহযোগীদের নাম উল্লেখ করে জিডি করলেও তাদের জমি এখনো উদ্ধার হয়নি। থানায় জিডি হলেও বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়েছেন তাড়াইল থানার ওসি চৌধুরী মিজানুজ্জামান। আবদুল গণি ভূঞা বলেন, ‘আমরা আমাদের শতাধিক বছরের পুরনো পৈত্রিক সম্পত্তিতে বসবাস করে আসছি। আমরা খুব নিরীহ। কারো সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে যাই না। আমার ভাই-চাচাতো ভাইয়েরা কেউ বাড়িতে থাকে না। এ সুযোগে গ্রামের প্রভাবশালী মো. আবদুল মান্নান ও তার ছেলে জসিম উদ্দিন আমাদের বাড়ির অন্তত ৫ শতাংশ জায়গা দখল করে সেখানে বিল্ডিং নির্মাণ করছেন।
এখন নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন এ জায়গার রেজিস্ট্রি করে দিতে। এলাকার কিছু সালিশকারীও তাদের পক্ষ নিয়েছে।’
আবদুল গণি ভূঞা অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ৩০শে জুন দুপুরে আবদুল মান্নানের ছেলে জসিম উদ্দিন এলাকার কিছু সালিশকারীকে ভাড়া করে এনে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। তাদের মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দেয়া হয় যাতে দখলকৃত বাড়ির জায়গাটি জসিমের নামে রেজিস্ট্রি করে দেই। রাজি হইনি বলে জসিমউদ্দিন ও তার লোকজন আমাদের বাড়ির চারপশে থাকা সীমানা খুঁটি ভেঙে ফেলে। জসিমউদ্দিন এখন হুমকি দিচ্ছে দখলকৃত জায়গাটি তার নামে রেজিস্ট্রি করে না দিলে আমাদের পুরো বাড়ি থেকেই উচ্ছেদ করা হবে। এ অবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। গত ৩০শে জুন এ নিয়ে তাড়াইল থানায় একটি জিডিও করেছি। কিন্তু জায়গা উদ্ধারে পুলিশ কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না। পুলিশ বলছে সামাজিকভাবে মীমাংসা করে ফেলতে। আমরা তো আমাদের জায়গা দিয়ে মীমাংসা করতে পারি না।’
সরজমিন রাউতি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, রাউতি মৌজার ২৮৭ নম্বর সেটেলমেন্ট খতিয়ানের ৯৮৩ নম্বর দাগের (নতুন দাগ ২১০৫) বাড়িটির দক্ষিণ অংশে বিল্ডিং উঠাচ্ছে জসিমউদ্দিন। বিল্ডিংয়ে ইট বসানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন শুধু উপরে ছাদ বা টিনের চালা দেয়ার অপেক্ষা। এলাকাবাসী জানান, বিল্ডিংয়ের জায়গাটিসহ ৯৮৩ নম্বর দাগের পুরো জায়গাটিই মূলত ইতালি প্রবাসী সাজ্জাদ ভূঞার পূর্বপুরুষ মৃত আবদুল বারিক ভূঞা, আবদুর রাজ্জাক ভূঞা ও আবদুল গফুর ভূঞার রেখে যাওয়া সম্পত্তি। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এসব সম্পত্তির মালিক এখন সাজ্জাদ ভূঞা ও তাদের চাচাতো ভাইয়েরা। সাজ্জাদ ভূঞা থাকেন ইতালি। তার এক ভাই কুয়েত প্রবাসী। এক ভাই থাকেন ঢাকা, আরেক ভাই কুমিল্লায়। চাচাতো ভাইদেরও একজন (আবদুল গণি ভূঞা) বাদে বাকিরা সবাই এলাকার বাইরে থাকেন। এ সুযোগে গ্রামের প্রভাবশালী আবদুল মান্নানের ছেলে জসিমউদ্দিন জোর করে তাদের জায়গায় বিল্ডিং উঠাচ্ছেন। শুধু বিল্ডিং উঠানোতেই ক্ষান্ত হননি জসিম। এ জায়গা রেজিস্ট্রি করে দেয়ার জন্য এখন নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন জায়গার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ও জায়গার অংশীদার বাড়িতে থাকা আবদুল গণি ভূঞাকে। এদিকে এভাবে বাড়ি দখল এবং রেজিস্ট্রি আদায়ের চেষ্টার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জসিমউদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার জায়গা মনে করেই এখানে বিল্ডিং উঠিয়েছি। পরে জানতে পারি এটা ওদের জায়গা। যেহেতু এতো টাকা খরচ করে বিল্ডিং করেছি, এখন তো আর উঠিয়ে নেয়া সম্ভব না। তাই ওদের অনুরোধ করছি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার জন্য। হুমকি দিচ্ছি না। তাদের বাড়ির সীমানা আমি ভাঙিনি, এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ভেঙেছে।’




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

যে ২৩ দেশে তিন তালাক নিষিদ্ধ

মেলবোর্নে সন্ত্রাসের অভিযোগ স্বীকার করল বাংলাদেশের সোমা

বঙ্গবন্ধু মহাবিদ্যালয়ের নাম মুছে হলো এমপির নাম,প্রতিবাদে মানববন্ধন

চকরিয়ায় যুবকের মাথা ন্যাড়া করলেন পৌর কাউন্সিলর

এলকোহল মিশ্রিত পানীয় পানে বাংলাদেশী সহ ২১ জনের মৃত্যু মালয়েশিয়ায়

যাত্রীসাধারণের প্রতিকারের পথ রুদ্ধ করা হলো

মায়ার জীবনে যা ঘটেছে, তা ছিল মিরাকল!

বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস

কেউ বলতে পারবে না কারো গলা টিপে ধরেছি, বাধা দিয়েছি

মেজর মান্নান স্বাধীনতাবিরোধী - মহিউদ্দিন আহমদ

কেন আমাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না?

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের প্রাথমিক তদন্ত শুরু আইসিসি’র

ভারতের বড় জয়

নওয়াজ মুক্ত, সাজা স্থগিত

সামনে আফগানিস্তান, সূচি নিয়ে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

ঘণ্টায় দুজন ডেঙ্গু রোগী