সিলেটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি জামায়াত

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১০ জুলাই ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৯
অনড় অবস্থানেই থাকলেন সিলেটের মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও মহানগর জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। ২০ দলীয় জোটের  মনোনয়ন না পেয়েও তারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। তবে- মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন সোমবার দিনভর তাদের দুইজনকে নিয়ে গুঞ্জন ছিল সিলেটে। দুপুরে ঢাকা থেকে বিমানের ফ্লাইটে সিলেটে এসেছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এরপর থেকে ওই দুই জন মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে গুঞ্জন ছিল। বিএনপির তরফ থেকে নানাভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু দেখাই মিললো না বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া বদরুজ্জামান সেলিমের। জামায়াতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও দিনভর অপেক্ষায় ছিলেন নগরীর রোজভিউতে অবস্থানে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
বিকাল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা শেষে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বাসায় প্রেসব্রিফিং করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন- ‘সেলিম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির কেন্দ্র। আর সিলেটে জামায়াতের কোনো প্রার্থী নেই। যিনি আছেন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী। সিলেটে ২০ দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন প্রাক্তন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।’ এদিকে- আওয়ামী লীগ, ১৪ দলীয় জোট কিংবা মহাজোটে একাই প্রার্থী সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তবে- কামরান সম্পর্কে বিস্তর অভিযোগ বিএনপির। কামরান নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন বলে গতকালও বিএনপির প্রার্থী আরিফের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে মৌখিক অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে- কামরান এসব অভিযোগ মানতে রাজি নন। তিনি বলেন- ‘বিএনপি কী বলল সেটা বড় কথা নয়। নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এবার আবার নির্বাচন করছি।’ সিলেটে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। জামায়াতে ইসলামী দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে একমাত্র সিলেটেই দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দাবি করেছিল। কিন্তু সেই দাবি উপেক্ষা করে অবশেষে সিলেটে প্রার্থী নিয়ে কয়েকদিন ধরেই বিএনপি-জামায়াত টানাপড়েন চলে আসছে। কেন্দ্রীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলে। সিলেটে স্থানীয় ভাবেও বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে প্রার্থিতা নিয়ে দূরত্বের বিষয়টি ঘোচাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় ভাবে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও যায়নি। এরপরও জামায়াতকে নিয়ে অপেক্ষায় ছিল সিলেট বিএনপি। গতকাল বিএনপির তরফ থেকে শেষবারের মতো চেষ্টা চালালেও কোনো কাজ হয়নি। সিলেট বিএনপির কথা রাখেনি জামায়াত। তাদের প্রার্থীকে নির্বাচনে রেখেছে।

পুলিশ দিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে- খসরু : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, সিলেট সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় সিলেটে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন- ‘বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ভয়ভীতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, বলা হচ্ছে ৩০শে জুলাই পর্যন্ত এলাকা ছেড়ে থাকো।’ সংবাদ সম্মেলনে আরিফকে পাশে নিয়ে আমির খসরু আরো বলেন, ‘সিলেটে মানুষ স্বাধীনতাকামী, গণতন্ত্রমনা। আগামী ৩০শে জুলাইয়ের ভোটে সিলেটের মানুষ সরকারের নির্বাচনী প্রকল্প ভেঙে দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।’ তিনি বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন থেকে আজ পর্যন্ত যা ঘটেছে, তা রিভিউ করেছি। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বিশাল জনবল নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন। নির্বাচনী প্রচারণার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থনে শ্রমিকলীগ গুলশান সেন্টারে, মহিলালীগ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে, উপশহরে একটি হোটেলে সভা করেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো আপত্তি জানায়নি, বাধা দেয়নি।’ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ও মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭ মেয়র, ১২৭ কাউন্সিলর ও

৬২ নারী কাউন্সিলর প্রার্থী
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৭ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষ হওয়ার পর সোমবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান এসব তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন- মেয়র পদে কাজী জসিম উদ্দিন ও মুক্তাদির হোসেন তাপাদারের প্রার্থিতা আগেই বাতিল করা হয়েছি। মোট ৯ জনের মধ্যে ৭ জন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন সোমবার তিন জন ও রোববার সাধারণ ওয়ার্ডের ৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারীরা হলেন- সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮নং ওয়ার্ডের মো. সিরাজ খান, ২৫ নং ওয়ার্ডের আফজাল উদ্দিন, ১৪নং ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলাম শামীম, ২০নং ওয়ার্ডের মিটু তালুকদার রয়েছেন। চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামা মেয়র প্রার্থীরা হলেন- বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (আওয়ামী লীগ), আরিফুল হক চৌধুরী (বিএনপি), বদরুজ্জামান সেলিম (বিএনপি বিদ্রোহী), এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (২০ দলীয় জোট বিদ্রোহী), প্রফেসর ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন (ইসলামী আন্দোলন), এহসানুল হক তাহের (স্বতন্ত্র), আবু জাফর (সিপিবি-বাসদ)।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

MA SHAHRIYAR CHOWDHU

২০১৮-০৭-১০ ১০:৪৯:৫৯

সৎও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির বিমূর্ত প্রতিক সিলেটের এরদোয়ান এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ভাইয়ের জন্য ভোট চাই ভোটারের দোয়া চাই সকলের

tahir

২০১৮-০৭-১০ ১১:০৯:০৮

it should be agreed by all 20 parties alliance before election. if not Jamaat doing correct as of today.

Citizen

২০১৮-০৭-১০ ১০:৩৪:৩১

IF NO CANDIDATE FROM ANY PARTNER PARTY, HOW IT IS A 20 PARTY JOTE???? IT WILL BECOME A BNP SUPPORT JOTE. JAMAAT SHOULD CONTEST TO SAVE ALL FROM SUCH OBLIGATIONS.

আপনার মতামত দিন

বাক্সবন্দি হবে বাকস্বাধীনতা

যেখানে কোটা সংস্কারের মিছিল সেখানেই ছাত্রলীগ

ইভিএম কেনার প্রকল্প অনুমোদন

তিন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন হাসিনা-মোদি

খালেদার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি আইনজীবীরা

জনগণ তাদের খুঁজে বের করে বিচার করবে

সোহেল গ্রেপ্তার

নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন

নড়িয়ায় হাহাকার

যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা ইস্যু

নিশ্চিত জাতীয় পার্টি আবার ক্ষমতায় যাবে

সৈয়দ আশরাফ অসুস্থ, ছুটি মঞ্জুর

সড়কে বিশৃঙ্খলা কোনো উদ্যোগেই ফল মিলছে না

শহিদুল আলমের জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫

এমপিও নিয়ে নানামুখী প্রতারণা মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা