বিচিত্রিতা

ঈদের একাল - সেকাল

ঈদ আনন্দ ২০১৮

মরিয়ম চম্পা | ২৯ জুন ২০১৮, শুক্রবার
ঈদের আনন্দ কি সবসময় একই রকম ছিল। আসলে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এই উৎসবে আনন্দের কমতি ছিল না কখনই। একাল-সেকাল সবকালেই আনন্দময়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে  গেছে আনন্দ উদযাপনের পদ্ধতি। বদলে গেছে আনন্দানুভূতির ধরন-বৈচিত্র্যতা। তবে একাল- সেকাল যে কালেই হোক না কেন ঈদের আনন্দ সকলেরই।
কেমন ছিল সেকালের ঈদ? সেকাল তো একালের বড়দের শৈশব কাল। শৈশবের স্মৃতি মানুষকে এমনিতেই আবেগতাড়িত করে। তার ওপর আবার ঈদের স্মৃতি।
পুরনো সেই (দিনের) ঈদের কথা, সে কি ভোলা যায়! এমনই অভিজ্ঞতার অনুভুতি শেয়ার করেছেন সেকালে ফ্যাশন সচেতন নারী ও গৃহীণি জাকিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, তখনকার দিনে এখনকার মতো রেডিমেড গার্মেন্ট খুব একটা ছিল না। তখন থান কাপড় কিনে বানাতে হতো ঈদের নতুন জামা। রোজার প্রথম থেকে ভিড় শুরু হয়ে যেত দর্জি বাড়িতে। আবার কাপড় যখন তখন কেনা যেত না। কারণ হাটবারে হাট ছাড়া কাপড় পাওয়া যেত না। অবশ্য গঞ্জে বা সদরের নিউমার্কেট থেকে সম্ভ্রান্তরা কিনত। যাই হোক দর্জিবাড়িতে কাপড় বানাতে গিয়ে ছোটদের আর তর সইতো না। মাঝে মধ্যেই ঢুঁ মেরে আসতাম খলিফাবাড়িতে। বানাতে আর কত দেরি। কার কার পোশাক বানানো হলো এই সব তথ্য সংহের জন্য। এই আনাগোনা ও অপেক্ষা ছিল কতই না মধুর। অবশেষে ঈদের দুই একদিন আগে পেয়ে যেতাম কাঙ্খিক্ষত পোশাকটি। নতুন পোশাক পেয়ে আমাদের ঈদ হয়ে যেত রঙিন।
ঈদের দিন সকালবেলা ছোট বড় সকলে দল বেঁধে পুকুরে বা নদীতে গোসল করা। তখনকার জনপ্রিয় সাবান ছিল কসকো। তারপর নতুন পোশাক পরে পায়েশ-সেমাই খেয়ে সারিবদ্ধভাবে দূরের কোন ঈদগাহ মাঠে ঘুরতে যাওয়া। তখন গ্রামে গ্রামে ঈদগাহ মাঠ ছিল না। কয়েকটি গ্রামের জন্য ছিল একটি ঈদগাহ মাঠ। কারণ এই উপলক্ষে ঈদগাহে কয়েকটি গ্রামের লোক একসঙ্গে মিলিত হতে পারত। এসময় (বড়) মিয়া ভাইরা মিলে ঈদগাহে নামাজ পরতে যেতেন। নামাজ শেষে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করে চলত কুশল বিনিময়। ঈদগাহ থেকে ফেরার পর প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া, মিষ্টি মুখ করা। ছোটরা নতুন জামা কাপড় পরে দল ধরে এ বাড়ি সে বাড়ি বেড়াতে বের হতো। আমাদের তো দশ/বার বাড়িতে না যেতে পারলে যেন ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণ হতো না। আমাদের এক বাড়িতেই প্রায় ১৭ টি পরিবার একসাথে বাস করতেন। ঈদের দিন সকালে কোন কোন আত্মীয়স্বজন আমাদের ছোটদেরকে দুই টাকা/পাঁচ টাকা ঈদের সালামি দিত। ঈদের সময় নতুন দুই টাকার নোট হাতে পাওয়া মানে আকাশের চাঁদ পাওয়ার মতো মনে হতো। এই সালামি পেয়ে নিজেদেরকে অনেক সম্পদশালী ভাবতাম। তখনকার ঈদে অনেক এলাকায় গ্রামের লোকজন সাধারণত গরিবদের ফেতরার টাকা না দিয়ে সমপরিমাণ খাবার চাল দিত। ঈদের দিন সকালবেলা ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পোঁটলা বেঁধে চাল সঙ্গে করে নিয়ে যেত। ঈদগাহ মাঠের চারপাশে ভিখারি ও গরিব লোকজন এই চাল নেয়ার জন্য কাপড় বিছিয়ে রাখত। লোকজন নামাজের পূর্বে সঙ্গে আনা চাল ওই কাপড়ের ওপর ছিটিয়ে দিত। ছোটরা এই কাজটি করতে খুব আনন্দ পেত।
তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতি, ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট টিভির প্রভাবে বর্তমানে ঈদ উদযাপনের পদ্ধতিও পাল্টে গেছে। আগে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ঈদকার্ড প্রেরণ বেশ জনপ্রিয় ছিল। বর্তমানে অফিস ও কর্পোরেট জগতে এর প্রচলন থাকলেও ব্যক্তি পর্যায়ে তেমন একটা নেই বললেই চলে। এখন ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয় ফেসবুক, হোয়াটসএ্যাপ, ইনস্ট্রাগ্রাম, ভাইবার, টুইটার, ইমেইল বা মোবাইলের এসএমএস বা এমএমএস-এর মাধ্যমে। ঈদের আনন্দ আবর্তিত হয় ফ্যাশন ডিজাইন, বিউটি পারলার ও শপিংকে কেন্দ্র করে। ঈদ শপিং যেন এখন ঈদের মূল আনন্দ। নিজেকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকেই বিউটি পার্লারগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। ফ্যাশন হাউসগুলো জমজমাট হয়ে ওঠে। কিশোরী-তরুণীর হাতে মেহেদি লাগানো একাল-সেকাল দুই কালেই খুব জনপ্রিয়। সকল আনন্দ যেন তাদের হাতের মুঠোয়। তখন এই কষ্টকর কাজটিই ছিল ঈদ আনন্দের প্রধান আকর্ষণ।
পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে সংগ্রহ করা হতো মেহেদি বা মেন্দি পাতা। তারপর রাতে একজন শিল-পাটা নিয়ে মেন্দি বাটতে বসত। আর তাকে ঘিরে চারদিকে গোল হয়ে বাকিরা বসত। চলত গল্পগুজব, হাসি-ঠাট্টা-গান। মেহেদি প্রস্তুত হলে একটি ছোট কাঠি দিয়ে হাতে মেহেদির নকশা আঁকা হতো বা চুন দিয়ে নকশা একে হাতের তালুতে মেহেদি ছাপ মেরে রাখা হতো। পরে দেখা হতো কার হাত কতো বেশি লাল বা রঙিন হয়েছে। নিজের চাচাত-ফুফাত, প্রতবেশী ভাই-বোনদের সঙ্গে মেহেদি লাগানোর সেই সময়টা যে কি মধুর ছিল তা কেবল সেকালের মানুষরাই ভাল উপলব্ধি করতে পারে। তবে এখন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন রংয়ের মেহেদি রেডিমেড পাওয়া যায়। হাতে লাগানোর সহজ উপায় আছে। আগের মতো আর ওতো কষ্ট করতে হয় না। এমনকি রেডিমেড নকশাও কিনতে পাওয়া যায়। জাকিয়া বলেন, ঈদের দিন বরিশালের স্থানীয় একটি পানিয়োর নাম হচ্ছে মলিদা। সেমাই-এর সাথে মলিদা না হলে যেন পুরো ঈদটাই অসম্পূর্ণ। নারিকেল, আদা, চালের গুরা আর পাটালি বা আখের গুর দিয়ে তৈরি মলিদার স্বাদ যে কাউকেই আকৃষ্ট করবে।
কিন্তু যে ঈদের জন্য এত আয়োজন সেই ঈদের দিনে কি আগের দিনের মতো আনন্দ হয়? হয় না। ঈদের দিনে দল বেধে প্রতিবেশীদের বাড়ি বেড়ানো গ্রামে কিছুটা থাকলেও শহরে এখন নেই বললেই চলে। সারাদিন অলস সময় কাটানোর পর বিকালে বা সন্ধ্যায় শিশু পার্ক, এ্যামিউজমেন্ট পার্ক বা আত্মীয়স্বজনদের বাসায় বেড়াতে বের হয় কেউ কেউ। একালের ঈদের মাঠের আনন্দও যেন অনেকটা সীমিত হয়ে গেছে। শহরে তো ঈদের নামাজ ও শুক্রবারের জুমার নামাজের পার্থক্যই বোঝা যায় না। কারণ মসজিদেই হয় ঈদের জামাত। বড় ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়ে কয়জনে?
অবশ্য এখন ঈদের আনন্দ দিতে বা ঈদ আনন্দকে ঘরে বন্দি করতে ব্যস্ত স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো। সপ্তাহব্যাপী প্রচারিত হয় ঈদ অনুষ্ঠান। ব্যস্ত শহর, ব্যস্ত মানুষের জন্য এই আনন্দই বা কম কি। ঈদের অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিকতা যাই থাকুক না কেন, ঈদের আনন্দ থাকে প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে। ধর্মীয় অনুভূতিতে। এই আনন্দে ছোট-বড়, ধনী-গরিব, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একাকার হয়ে যায়।
দেশি ফ্যাশনে ঈদের একাল সেকাল নিয়ে বিশ্বরং-এর বিপ্লব সাহা বলেন, ফ্যাশনের একটি মুখ্য বিষয় থেকে যায় আর্ট বা শিল্পতে। চারুকলার শিক্ষার্থী হওয়ায় আর্টই আমার ফ্যাশন জগতে ঢোকার অন্যতম হাতিয়ার ছিল। শুধু আমি নই, দেশীয় ফ্যাশন হাউস মালিকদের বেশিরভাগের চিন্তাই আর্ট ও দেশকে ঘিরে। এই দুইকে এক করে ফ্যাশনে প্রয়োগ করাটাও এক ধরনের দক্ষতা। আমাদের এই দক্ষতা ও সবার প্রচেষ্টাতেই দেশীয় হাউসগুলো এত দূর এসেছে। তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় এক যুগ আগের কথাই চিন্তা করা যাক। তখন দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো সবে জমজমাট হয়ে উঠছে। ওই সময়টি আসলে আমাদের জন্য এক রকম ফ্যাশন বিপ্লব বলা যায়। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সবাই আমাদের সঙ্গে ছিল। অনেক সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি। আবার ঠিক তার আগের মুহূর্ত ছিল ভয়ঙ্কর। দেশে কাপড় বা পোশাক বলতে সবই ছিল বিদেশিদের দখলে। তবে ওই বিপ্লবে বড় এক ধরনের পরিবর্তন আসে এবং দেশীয় কাপড়ের প্রভাব অনেক গুণে বাড়তে থাকে।
আজ থেকে ৩০ বছর আগের কথাই ধরা যাক। তখন আমাদের দেশে ফ্যাশন ছিল হাতেগোনা কয়েকটি পরিবারের মধ্যে। আরেকটু সামনের দিকে আসতে থাকলে সেই সংখ্যাটা ভালোই বাড়বে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে অধিকাংশের ফ্যাশন দেখা যায় ড্রয়িং রুমের পারিবারিক উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর পরবর্তী সময়ে এ জিনিসটি নিম্ন মধ্যবিত্তের মধ্যে পৌঁছে দিয়েছে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো। তখন দেশীয় কাপড়ের ব্যাপারে মানুষ অনেক শৌখিন ছিল। ক্রেতাদের মধ্যে এক প্রকার মনোযোগ আমরা দেখতাম। ওই সময়টা এ রকম দেশীয় কাপড় পরার আন্দোলনের মতো ছিল। বর্তমানে আমাদের চলাফেরা, আচার-আচরণ সবই এখন পশ্চিমা কিংবা ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে যাচ্ছে। সবাই দেশের বাইরের তারকাদের অনুসরণ করছে। তাদের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের গেটআপ চিন্তা করছে। এ জন্য বাজারেও দেশীয় ডিজাইনের পোশাকের চাহিদা কমে আসছে। কমে যাচ্ছে আগের সেই শৌখিনতা।
বিদেশি পোশাকের এই রমরমা অবস্থা রোধ করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। আমাদের মূল শক্তি শিল্প ও দেশপ্রেম। আমরা চাই বিদেশি পোশাকের চেয়ে দেশীয় কাপড়ের পোশাক এগিয়ে থাকুক।
বাংলাদেশের ফ্যাশন হাউজ অঞ্জনস এর কর্ণধার শাহীন আহম্মেদ বলেন, সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে সবকিছুরই একটা পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ছেলে মেয়ে উভয়েরই পোশাকের ফ্যাশনের কাটিং ও ডিজাইনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন স্যালোয়ারের লেন্থ ১০ বছর আগের মতো থাকলেও চওড়া, ডিজাইন, কালার, ঢং এ অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখনকার পাজামা বা স্যালোয়ার গুলো চওড়ায় অনেক বড়, পায়ের কাছে আলাদা নকশাসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন এসছে। এখন যেহেতু ইন্টারনেটের যুগ তাই আমরা যারা ফ্যাশন সচেতন তারা খুব সহজেই চলমান বিশ্বের সকল ফ্যাশনের আপডেট মূহুর্তের মধ্যেই পেয়ে যাই। আমাদের ফ্যাশন হাউজ সবসময়ই দেশিয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে পোশাক সর্বরাহ করে থাকে। এরমধ্যে রয়েছে জামদানি, কাতান, কটন, সিল্ক, রাজশাহি সিল্ক, এমব্রয়ডারি ও ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি। এছাড়া এবছরের ঈদের থ্রিপিস হিসেব কটন, লিলেন, জর্জেট, ভয়েলের থ্রিপিছ বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এসবের মুল্যও অনেকটা নাগালের মধ্যে। তিনি বলেন, সময়ের সাথে সাথে পোশাকের যতোই বৈচিত্র আসুক না কেন শাড়ির চাহিদা কিন্তু সবকালেই ছিল। বর্তমানে জাকজমক অনুষ্ঠানগুলোতে মেয়েরা শাড়িটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় সবার আগে ঢাকাই জামদানি, সিল্ক, কটনের শাড়ির কদর বরাবরই বেশি। সেকালের মেয়েদের ব্লাউজে যেমন একটা রাবীন্দ্রিক ব্যাপার ছিল সেই ট্রেন্ডটা কিন্তু এখন আবার চালু হয়েছে। বর্তমানে মেয়েরা রবীন্দ্রনাথের গল্পের চরিত্রের সাথে মিল রেখে চোখে মোটা করে কাজলের সাথে ফুল হাতার, থ্রি কোয়ার্টার হাতার ব্লাউজে একটু কুচি দিয়ে পড়ে থাকেন। যেটা মাঝখানে খুব একটা ছিল না। এছাড়া পেটিকোটেও আগের মতো ডিজাইন বা নকশা করে পড়ার প্রচলন শুরু হয়েছে।  
পুরান ঢাকায় সেকালের ঈদে এক আনা, চার আনা, আট আনা একসময় ঈদের সেলামি হিসেবে বরাদ্দ থাকত এতটুকুই। এখন অবশ্য সেটা মাঝেমধ্যে ৫০০ টাকাও ছাড়িয়েছে। আগের মতো যৌথ পরিবারে ঈদ কাটানোর সৌভাগ্য অনেকের হয় না। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বদলে গেছে অনেক কিছু। নতুন কাপড়, ঘুরতে যাওয়া, রান্না করা আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো পুরান ঢাকার ঈদের আনন্দ এসবেই ছিল, এখনো আছে। ২৯ রোজার দিন ছাদে উঠে ঈদের চাঁদ দেখার রেওয়াজ পুরান ঢাকায় এখনো আছে। কম বয়সীদের মধ্যে এই উৎসাহটা বেশি দেখা যায়। কাল কি ঈদ হবে? চাঁদ দেখা গেলে নিশ্চিত হওয়া যায় কাল ঈদ। আর তখনই মেয়েরা হাতে মেহেদি লাগানো শুরু করে। মেহেদি লাগানোর এই চল অবশ্য অনেক আগে থেকেই, জানান পুরান ঢাকার বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম। তিনি বলেন, শৈশবের পুরো সময়টি কাটিয়েছেন উর্দু রোডে। ‘ঈদের আনন্দ ও প্রস্তুুতি শুরু হয়ে যেত চাঁদরাত থেকেই। আমরা হাতে বাটা মেহেদি ব্যবহার করতাম। আমাদের ভাইরা পুরো মাস টাকা জমিয়ে আতসবাজি, পটকা এসব কিনতেন। আমারা গায়ে হলুদ মাখতাম আর সোন্দাগিলা (সুগন্ধিযুক্ত একধরনের ভেষজ) বেটে মাথায় দিতাম। তখন তো আর শ্যম্পু বা কন্ডিশনারের তেমন প্রচলন ছিল না। তাই মেহেদী আর ভেষজ উপাদানই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা।  
পুরান ঢাকার বাসিন্দ ইমতিয়াজ ইমু বলেন, ষাটের দশকের দিকে চাঁদরাতের দৃশ্য ছিল কিছুটা আলাদা। ‘৫০-৬০ বছর আগে ঢাকার মূল বাজার ছিল একটাই, সদরঘাট। চাঁদরাতে সারা রাত কেনাকাটা করতাম। এখনকার মতো এত জমজমাটভাবে এক মাস ধরে কেনাকাটা করা হতো না। তখন আমাদের চাহিদাও এতোটা ছিল না। অল্পতেই আমরা সন্তুষ্ট থাকতাম।

পঞ্চাশ দশকের দিকে ঈদের দিন সবার আকর্ষণ ছিল চকবাজারের মেলা। সকালে পাড়া ঘুরে ঘুরে সেলামি সংগ্রহ করা হতো। তখনকার দিনে আট আনাই ছিল সর্বোচ্চ ঈদি। সারা দিন ঘুরে ও কেনাকাটা করে ওই টাকা শেষ হতো না। মেলা থেকে মাটির টোপাটাপি (হাঁড়ি-পাতিল) ও মাটির পুতুল কেনা, বায়োস্কোপ দেখা এবং ডুগডুগি কেনা চলত। সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের খাবারও কেনা হতো বলে জানান অগ্রজেরা। ঈদ মেলা পুরান ঢাকায় এখনো হয় নিয়মিত। পুরান ঢাকায় ঈদের দিন সকালে মেয়েরা বাড়িতে মাকে সাহায্য করে। ছেলেরা বাবার সঙ্গে মসজিদে যায়। নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে মিষ্টিমুখ করে যেতে পছন্দ করে অনেকে। নামাজ পড়ে এসে গরুর মাংস ও খিচুড়ি খেয়ে থাকে সবাই। খাবারের এই ঐতিহ্য অনেক আগে থেকেই প্রচলিত, যেটা রয়ে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানায়, ঈদের তিনটি দিন তারাও বাড়িতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে পছন্দ করে। অতীতে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় আতর লাগানোর প্রচলন ছিল। এই প্রজন্মের সবাই অবশ্য আতর ব্যবহার করে না। সকালে নামাজ শেষে পরিবারের মৃত সদস্যদের কবর জিয়ারত করে আসেন। ঈদের তিন দিন পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাতে পছন্দ করেন। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলেও সেটা তিন দিন পরে।
মুনতাসীর মামুনের লেখা পুরনো ঢাকার উৎসব ও ঘরবাড়ি বইয়ের তথ্যমতে, দেড়-দুই’শ বছর আগে নিরানন্দ ঢাকা শহর দু-এক দিনের জন্য হলেও ঝলমল করে উঠত। এর মূলে ছিল তিনটি উৎসব ঈদ, আশুরা ও জন্মাষ্টমী। এই তিনটি উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল বর্ণাঢ্য মিছিল। ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মোহাম্মদ আজিম বখশ একটি সংবাদমাধ্যমে মিছিলের কথা তুলে ধরে বলেন, ঈদ মিছিলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্য ফুটিয়ে তোলা হতো। মিছিলে থাকত সজ্জিত হাতি, উট, পালকি প্রভৃতি। ঈদ মিছিল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ১৯৫৪ সালে। আবার শুরু হয় নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে। ঢাকার ঈদ মিছিল ছিল বেশ বর্ণাঢ্য। মিছিলে সাধারণ মানুষই অংশগ্রহণ করেন। মিছিল দেখার সময় ছাদ থেকে মা, চাচি, বড় বোনরা সবাই দড়ি নামিয়ে চিনাবাদাম কিনতেন। তবে এই প্রজন্মের কেউ এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন নি বলে জানান তিনি।
উর্দু রোডের বাসিন্দা সামসুন্নাহার সনিকে ছোটবেলার স্মৃতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উচ্ছ্বাসিত হয়ে বলেন, ‘আমরা এতগুলো ভাইবোন ছিলাম যে সবাইকে নিয়ে দরজির কাছে যাওয়া সম্ভব হতো না। উল্টো দরজি আমাদের বাসায় আসত সবার জামার মাপ নিতে। চাঁদরাতে কাপড়গুলো দিয়ে যাওয়ার পরই আমাদের অনেকের মন খারাপ হয়ে যেত। কারণ, দেখা যেত সবার পোশাকের মাপই হয় ছোট, নয়তো বড় হয়ে গেছে। কারোর জামার হাতা টাইট’তো কারোর জামার গলা দিয়ে মাথা ঢোকেনা। এসব নিয়ে আমাদের আফসোসের যেন শেষ ছিল না। একবার ঈদেতো দর্জির উপর রাগ করে জামাই পরিনি। তখন এখনকার মতো এত নকশা করা পোশাক বানানো হতো না। একটি থান কাপড় দিয়ে সবার জন্য পোশাক বানানো হতো। অধিকাংশ ভাইবোনের কাপড় এক রকমই হতো। বাবা সবসময় আমাদের ফুপাতো বোন, ও আমাদের একই গজ কাপর দিয়ে জামা বানিয়ে দিতেন। যেন কেউ মন খারাপ করতে না পারে।
তবে পরিবারে ছোটদের মধ্যে তখন নতুন জামা কাপড় লুকিয়ে রাখার প্রবণতা ছিল অনেক বেশি। নতুনদের মধ্যে যেটা এখন আর কেউ করেন না। এখনকার সময়ে বরং আমাদের বাচ্চারা নতুন জামার ছবি তুলে তাদের বন্ধুদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন ভাবে শেয়ার করে। অথচ আমাদের সময় ঈদের দিন পরার পরই সবাই সেটা দেখতে পারত। তখন ঈদের জন্য বিভিন্ন রঙের কাগজের টুপি পাওয়া যেত আমাদের বড় ভাইরা মাথায় দিয়ে ঈদের নামাজ পরতে যেতেন। সেটা একবারই ব্যবহার করা যেত। দাম ছিল এক আনা, দুই আনা। অতীতের ঈদ ছিল পারিবারিক আর জমকালো। যেখানে বাইরের জাঁকজমক থেকে মুখ্য ছিল আত্মিক বন্ধন। সে তুলনায় এখনকার ঈদ যেন অনেকটা মেকি। নতুন প্রজন্ম কিন্তু মনে করে উল্টোটা। তাদের মতে, নাগরিক জীবনে ঈদ সুযোগ করে দেয় পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর।
কালে কালে সেলামি দেওয়ার পন্থায় বৈচিত্র্য এসেছে এটা ঠিকই অনুমেয় বলে জানান সামসুন্নাহার। তিনি বলেন, এর সাথে সাথে সেলামীর ধরনেও এসেছে পরির্বতন। বড়দের সাথে ছোটদের এই ভালোবাসার লেনদেন সম্পর্ককে করে তুলতো আরও মধুর। ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা সবাই কেউই এই ঈদ সেলামি থেকে বাদ যেত না। টাকার অংকে যাই হোক না কেন, সেলামি দিতে হবে এবং নিতে হবে। এটা যেন চিরায়ত সংস্কৃতির ঐতিহ্য এর অংশ হয়ে ছিল। ঈদের দিন কেউ পা ছুঁয়ে সালাম করলে স্নেহ নিয়ে পাঞ্জাবির পকেট থেকে দুই টাকা কিংবা পাঁচ টাকার একটা নোট বের করে দিতেন বাবা-কাকারা। সেলামকারীর বয়স একটু বেশি হলে মাঝে মধ্যে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মিলে যেত। নতুন পোষাক পরে বড়দের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে তারপরই ঈদের সালামি নেয়ার প্রথা চলে আসছে বহুবছর ধরে।
এখন অবশ্য সেভাবে সালাম করার প্রথা অনেকটা বিলুপ্তির পথে। কেউ আর এখন আগের মত বড়দের সালাম না করেই বরং সেলামি চায়। পাশাপাশি সেলামি দেওয়ার নিয়মটাও অনেকটা পাল্টে গেছে। এখন সেলামি দেওয়া হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল রিচার্জ-এর মাধ্যমে।
সত্তর বা আশির দশকে চকচকে ঈদগুলো আরো উজ্জ্বলতর হতো বিভিন্ন সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনগুলোর ঈদ সংখ্যা হাতে পেয়ে। প্রযুক্তি বা বাণিজিক কারণ যে কারণেই হউক এখনকার মতো এতো তাড়াতাড়ি ঈদ সংখ্যাগুলো হাতে পৌঁছাতোনা। ঈদের ৭/৮ দিন পূর্বে এগুলো বাজারে আসতো। তবে অনেক আগে থেকেই পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপন দেয়া হতো কোন কোন লেখকের গল্প উপন্যাস প্রকাশিত হবে। পাঠক হিসেবে আমরা নির্ধারণ করতাম কোন ম্যাগাজিনটি আমি কিনবো অন্যটি কোন বন্ধু বা ভাই কিনবে। একজনেরটা শেষ হলে নিজেরটা তাকে দিয়ে তারটা নিতাম। সেই সময় দৈনিক পত্রিকাগুলো ঈদ সংখ্যা করতো তবে ম্যাগাজিন আকারে না। ৮০র দশকের পর থেকে দৈনিক পত্রিকাগুলোও ঈদ সংখ্যা ম্যাগাজিন আকারে বের করা শুরু করলো।
৭০/৮০র দশকে ঈদ সংখ্যা বের করতো বিচিত্রা, সচিত্র সন্ধানী। এর পরে সাপ্তাহিক রোববার, সিনেম্যাগাজিন তারকালোক। পরে নিপুণ, সাপ্তাহিক ২০০০ প্রকাশিত হলো এবং ঈদসংখ্যা বের করা শুরু করলো। ৮০র দশকে অর্থনীতির গতি প্রকৃতি নিয়ে একটি সাপ্তাহিক বের হয়। নাম অর্থনীতি। তারাও ঈদসংখ্যা বের করা শুরু করলো। এদের ঈদসংখ্যাটি ছিল ভিন্নতর। গল্প উপন্যাস না থাকলেও খ্যাতিমান লেখক সাংবাদিকরা জনমানুষের কথা লিখতেন। এই ম্যাগাজিনে ঈদের বাজেটসহ বিভিন্ন জন সম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে বাস্তবভিত্তিক কলাম থাকতো। এরিমধ্যে বিচিত্রা শুরু করলো ঈদ সংখ্যার পূর্বে ঈদ ফ্যাশন সংখ্যা। সেই সময় ইন্টারনেট ছিলনা। ছিলনা আকাশ সংস্কৃতির বিস্তার। ফ্যাশন সচেতন মানুষেরা ঈদ ফ্যাশন সংখ্যাটি-বের হলে সেটি দেখে বাছাই করে ঈদের কেনাকাটা করতেন। এই ঈদ ফ্যাশন সংখ্যা দ্বিতীয় মুদ্রণ হতেও দেখা গেছে। স্বাধীনতার পর মানুষের সাংস্কৃতিক বিকাশই এর কারণ। ঈদ সংখ্যাগুলোর বেশিরভাগ পাঠকই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। হিসেব করেই তাদের চলতে হয়। ১৯৯১-৯৪ সালে একটি ঢাউস সাইজের ঈদসংখ্যা বিচিত্রার দাম ছিল ৩০ টাকা। ২০০০ সালে তা হয় ১০০ টাকা। ২০০৭ সালে ১২০ টাকা। অন্যদিন নামে আরো একটি চমৎকার ম্যাগাজিন প্রকাশনা শুরু হয় এরইমধ্যে। ১৯৯৮ সালে ৪০০ পৃষ্ঠার এই ম্যাগাজিনটির ঈদ সংখ্যার দাম ছিল ৬০ টাকা। ২০০৫ সালে ১৫০ টাকা। ঈদ সংখ্যার জায়গাও দখল করেছে দৈনিক পত্রিকাগুলো। সেই দিনের ঈদ সংখ্যার সেই আবেগঘন আবেদন কি আছে? মানুষ কি কিনছে?
৮০র দশকে ঈদ সংখ্যাগুলোর মূল্য পাঠকের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা হতো। চাতকের মতো অপেক্ষা থাকতো। কখন বিচিত্রা, সন্ধানী, রোববার বের হবে। তখনকার সময় নারীদের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ছিল বেগম। দিলারা হাশেম, রাবেয়া খাতুন, রিজিয়া রহমান, জুবাইদা গুলশান আরা, ফাহমিদা আমিন, সেলিনা হোসেন, ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ, সুফিয়া কামাল, খালেদা এদিব চৌধুরী, মুশতারী শফি সহ অনেক প্রথিতযশা নারী লেখকরা বেগম পত্রিকার ঈদ সংখ্যায় লিখতেন। আমাদের মা খালারা সেটি কিনতেন। ৭০ দশকে ললনা নামে নারীদের জন্য আরো একটি পৃথক ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো।
আকাশ সংস্কৃতির কারণে আজ প্রতিটি টিভি চ্যানেলে রন্ধন শিল্পের উপর অনুষ্ঠানের ছড়াছড়ি। সে সময় বাংলাদেশ টেলিভিশন ছাড়া আর কোন চ্যানেল ছিলনা। ঈদের ম্যাগাজিনগুলোতে বিভিন্ন পদের নতুন রান্নার রেসিপি নিয়ে ঈদের রান্না নিয়ে বিশেষ লেখা প্রকাশ হতো ছবিসহ। যা দেখে গৃহিণীরা অনেক কিছু তৈরি করতেন। সিদ্দিকা কবীর ছিলেন প্রতিটি ম্যাগাজিনের প্রাণ। ফলে মধ্যবিত্ত গৃহিণীরাও ঈদ সংখ্যার জন্য অপেক্ষা করতেন। যা দিয়ে ঈদে নতুন নতুন পদ তৈরি করা যায়। সিদ্দিকা কবীর পরবর্তীতে রেসিপি নিয়ে একটি বই বের করেন যার কাটতি এখনো আছে।
মেয়েদের ঈদের সাজ নিয়েও ঈদ সংখ্যাগুলোতে থাকতো বিউটি টিপস যা ঈদের সাজে তারা কাজে লাগাতো। কেননা তখনও বিউটি পার্লার গুলো শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নাগালের মধ্যে ছিলনা। বিচিত্রার কয়েকটি পাতা বরাদ্দ থাকতো বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবীর কার্টুন দিয়ে যা রনবীর কার্টুন নামে পরিচিত ছিল। ঐ কার্টুনগুলোতে হাসির মধ্যে দিয়ে শিল্পী সমাজের বিভিন্ন অসংগতিকে নাড়া দিতেন। ঈদ সংখ্যাগুলো হাতে পেয়ে এমনও সময় গেছে তারাবিহর নামাজের পর উপন্যাসগুলো গোগ্রাসে গিলতে গিলতে কখন যে সেহেরির সময় হয়ে যেত টেরই পাওয়া যেত না।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

আপনার মতামত দিন

শ্রীনগরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১০ মামলার আসামী নিহত

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে মরিচবাঁটা, বই-চেয়ার ছোড়াছুড়ি!

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই: মার্কিন থিংক ট্যাংক

নিরপরাধীদের হয়রানি না করতে পুলিশকে নির্দেশনা দেবে ইসি

আপিল করলেই খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বৈধ!

ইসির হস্তক্ষেপ চেয়ে বিএনপির চিঠি

সব সাম্প্রদায়িক শক্তি ধানের শীষে ভিড়েছে

মেগাজোট: আসন নিয়ে দরকষাকষি

শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না-কবিতা খানম

সংখ্যালঘুদের স্বার্থবিরোধী কাজে জড়িতদের মনোনয়ন না দেয়ার দাবি

নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ৪

পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিপুণ রায় চৌধুরী

সম্পাদকদের দৃষ্টিতে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক (অডিও)

কওমি সনদের স্বীকৃতি করুণা নয়, ন্যায্য অধিকার

কঠিন সমীকরণে ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথের রাজনীতি

মনোনয়ন লড়াইয়ে ২৫ নেতা