বিশেষ রচনা

নিষিদ্ধে আসক্তি

ঈদ আনন্দ ২০১৮

শামীমুল হক | ২৮ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
মাদকের বিরুদ্ধে চলছে অভিযান। সত্যিকার অর্থে এমন অভিযান চেয়েছিল দেশবাসী। হলফ করে বলতে পারি দেশের বেশির ভাগ মানুষ চলমান মাদকবিরোধী অভিযানকে সমর্থন করছেন মন থেকে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় মাদকে ছেয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। যুব সমাজ দৌড়াচ্ছে সেদিকে। প্রতিদিন কত হাজার বোতল সাবাড় হচ্ছে? কত লাখ ইয়াবা বড়ি হাওয়াই মিলিয়ে যাচ্ছে? রাস্তাঘাটে, পথে প্রান্তরে প্রকাশ্যেই দেখা যায় ইয়াবা নেশায় মত্ত আসক্তরা। শরীর দেখে মনে হয় মৃত্যুকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে তারা। তারপরও যেন নেশা তাদের সুখ এনে দিচ্ছে।
তাদের শরীর দেখলে আফসোস হয়। কীভাবে সমাজটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে মাদক তা অভাবনীয়।
দেখা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করবেন তারাই গোপনে মাদক বিক্রেতা আর ক্রেতাদের সঙ্গে আপস করেন। রফাদফা করেন। দেশের সীমান্ত জেলাগুলো যেন মাদকের গোডাউন। জেলা প্রশাসন জানেন। পুলিশ প্রশাসন জানেন। এতটুকুই সান্ত্বনা। মাঝে মাঝে খবর বেরোয় পুলিশের সদস্যরাই এর সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকায় বেশ ক’জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মাদকের চালান আটক করা হচ্ছে। মাদক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাজধানী ঢাকাসহ জেলায় জেলায় বেসরকারি মাদক নির্মূল কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। পরিবার পরিজন অতিষ্ঠ হয়ে এসব কেন্দ্রে ভর্তি করছে তাদের। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলে। আবার এও শোনা যায় কোন কোন মাদক নির্মূল কেন্দ্রেই বসে মাদকের আড্ডা। এমন হলে অভিভাবকরা ভরসা করবেন কার উপর। প্রশ্ন জাগে এর জন্য দায়ী কে? অভিভাবকরা? নাকি বন্ধুবান্ধবরা? কেউ কেউ বলেন, বন্ধুরাই হলো আসল। ওরাই একজনকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আবার কেউ বলেন, অভিভাবক সচেতন হলে এমনটা হতে পারতো না। আসলে দুটো কথাই ঠিক। সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে- নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আসক্তি থাকে বেশি। কিন্তু কেন? মানুষের তো বিবেক রয়েছে। ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। তাহলে দেখা যাচ্ছে আমরা বিবেককে কাজে লাগাচ্ছি না। নিজের সন্তান কিংবা স্বজনরা একটা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে এর বিচার করি অন্যভাবে। আর নিরীহ অন্য কেউ হলে বিচার করি আরেকভাবে। এখানেরও বিবেক ধ্বংসিত হলো। বিবেক আর সালিশের কথা ওঠলেই মনে পড়ে আশুগঞ্জ ফেরিঘাটের সেই নরসুন্দরের কথা। তখন ফেরিতে মেঘনা পারাপার হতো গাড়ি। ব্রিজ ছিল না। যানজট লেগে থাকতো প্রায় সময়ই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা আসছিলাম। আশুগঞ্জ প্রান্তে প্রায় দুই কিলোমিটারব্যাপী যানজট। সবার পেছনে আমাদের গাড়ি। হাঁটতে হাঁটতে সামনে এলাম। গিয়ে বসলাম একটি সেলুনে। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। শেভ করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। নরসুন্দর খুবই মনোযোগ দিয়ে শেভ করছে। তাকে বললাম, বাড়ি কোথায়? বললো কিশোরগঞ্জ। ওই যে নদী পেরিয়েই আমাদের গ্রাম। ক’দিন পর পর গ্রামে যাও? উত্তর না দিয়ে দীর্ঘশ্বাস। এরপর বললো, না স্যার গ্রামে যাই না অনেক দিন। কারণ গ্রামে গেলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। ওরা কারা? নরসুন্দরের উত্তর-সমাজপতিরা। কেন কি হয়েছে? নরসুন্দর বলতে লাগলো- বছর দুয়েক আগের কথা। আমাদের পাশের বাড়ির এক মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষক সমাজপতির ছেলে। এ নিয়ে কানাঘুষা। এভাবে চলে গেছে বেশ ক’দিন। সবার চাপে সমাজপতি বাধ্য হলেন সালিশ করতে। গ্রামের মাঠে সবাই এলো। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হলো। ছেলে মেয়ের কথা শোনা হলো। এভাবে ঘণ্টা তিনেক পার হওয়ার পর সমাজপতি রায় দিলেন। যেহেতু ধর্ষিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ইজ্জত হারিয়েছে। সেহেতু তাকে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। আর এ টাকা দেবে সমাজপতির ছেলে। নরসুন্দর বললো, স্যার রায় শুনে মাথা ঠিক রাখতে পারিনি। দাঁড়িয়ে গেলাম। বললাম, আমার একটি কথা আছে। ধর্ষণের বিচার যদি ২০ হাজার টাকাই হয়, তাহলে আজ রাতেই আমি সমাজপতির মেয়েকে ধর্ষণ করবো। কাল ইজ্জতের মূল্য হিসাবে ২০ হাজার টাকা দিয়ে দেবো। কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সমাজপতির চামচারা আমার দিকে তেড়ে এলো। আমি ওই রাতেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে আসি।
দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেছে। আজ আর সেখানে ফেরিঘাট নেই। হয়েছে ব্রিজ। গাড়ি দ্রুত পেরিয়ে যায় ব্রিজ দিয়ে। কিন্তু আজও নরসুন্দরের কথা মনে পড়ে। নরসুন্দরের জাগ্রত বিবেক তাকে বাড়ি ছাড়া করেছে। প্রশ্ন জাগে নরসুন্দর কি বাড়ি যেতে পেরেছে?   
দুই. পৃথিবীতে হায়? সেই বেশি চায়/আছে যার ভূরি ভূরি/ রাজার হস্ত/ করে সমস্ত/ কাঙ্গালের ধন চুরি। যথার্থই বলেছেন কবি। চলার পথে কবির এ কাব্য কত যে মধুর তা সবাই উপলব্ধি করছেন। বাস্তবেও দেখছেন প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। রাস্তায় বেরুলে ছিনতাইকারী, মলম পার্টি, ব্লেড পার্টি, পকেটমার এমনকি থাবা পার্টির ভয়। যেকোনো সময় তারা তাদের কৌশল প্রয়োগ করে হস্তগত করতে পারে অন্যের ধন, অর্থ। কেউ কেউ এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। আবার রাজপথে, ফুটপাথে অনেক ভিক্ষুক আছেন যারা কোটিপতি। ঢাকায় তাদের একাধিক বাড়ি রয়েছে। ভবন রয়েছে। কারও কারও সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। কারও সন্তান সম্মানজনক চাকরি করছেন। কেউ কেউ মেয়ে বিয়ে দিয়েছে লাখ লাখ টাকা খরচ করে। এত কিছুর পরও ওইসব ভিক্ষুক এখনো রাজপথে থালা নিয়ে বসেন। ভিক্ষা করেন। বাসায় থাকতে নাকি তাদের ভালো লাগে না। ঘুমের মধ্যেও মাঝে মাঝে বলে ওঠেন- ‘মাগো কিছু দিয়া যান।’ দীর্ঘদিনের অভ্যাস ত্যাগ করা খুব কঠিন। ওই ছেলের মতো। ওই ছেলে বিয়ে করেছে। ঘরে নতুন বউ। প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। রাতে বাড়ি ফেরে। একদিন বউ তাকে বলছে, তুমি কি করো? ছেলে জবাব দেয় চাকরি করি। বড় চাকরি। ওগো বলো না কি চাকরি? ছেলে কোনো জবাব দেয় না। এভাবে দিন চলতে থাকে। বেশ কিছুদিন পর একরাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন দু’জন। হঠাৎ চিৎকারে বউ ঘুম থেকে জেগে উঠেন। দেখেন স্বামী তার চিৎকার করে বলছেন- ওই লাগেনি জুতা পালিশ...। লাগেনি জুতা পালিশ...। বউয়ের আর বুঝতে বাকি রইলো না তার স্বামী কি করেন। দিনে যা করেন রাতে স্বপ্নের মধ্যেও স্বামী বেচারা তা দেখছেন। তাই ডাকছেন ‘ওই লাগেনি জুতা পালিশ...।’ আসলে অভ্যাস কখনও পরিবর্তন হয় না। এমনকি তা আপনজনের কাছে লুকাতে গেলেও তা প্রকাশ হয়ে পড়ে। কখনো স্বপ্নে কিংবা কখনও মনের অজান্তেই তা প্রকাশ করেন। রাজধানী ঢাকার অলিগলিতে এখন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের ছড়াছড়ি। সবক’টি কেন্দ্রই চলছে বেশ ভালোভাবেই। অথচ একসময় সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ছিল একটি। তা তেজগাঁওয়ে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এসব কেন্দ্র  থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসক্তরা কি সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পেরেছেন। না। বেশির ভাগই সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারেননি। কারণ এসব কেন্দ্রে মাস কয়েক থাকার পর বাইরে বেরিয়ে এসে ফের তারা অন্ধকার জগতে পা বাড়ান। এমনও শোনা যায়, কোনো কোনো নিরাময় কেন্দ্রে নিজেরাই আসক্তদের নেশা সরবরাহ করে। ফলে যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। পুরনো অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেন না তারা। নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা করিয়েও সন্তানদের সুস্থ করতে পারছেন না অভিভাবকরা। এমন কত অভ্যাস যে গড়ে তোলে মানুষ। ঘুষখোর অফিসার জীবনে কোটি কোটি টাকা ঘুষ খেয়েও তার অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেন না। বাড়ি-গাড়ি, ধন-দৌলত করেও তাদের আফসোস থেকে যায়। তাইতো বনখেকোর বাসার চালের ড্রাম, বালিশের ভেতর থেকে পাওয়া যায় অর্থ আর অর্থ। যে টাকা দেখে সারা দেশ হয় হতবাক। মিডিয়া খবর নিয়ে দেখেছে এত টাকার মালিক হলেও বনখেকো তার মাকে ভরণপোষণ করতো না। ভাঙা ঘরেই বসবাস করতে হয়েছে তাকে। এ কাহিনী শুনেই সারা দেশ ছিঃ ছিঃ করেছে। দেশের মানুষ যতই ছিঃ ছিঃ করুক এতে তাদের কিছুই যায় আসে না। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ফোকলা করে হাজার হাজার কোটি টাকা গিলে খেয়েছে।  কখনো ভুয়া এলসি, কখনো নকল কাগজ সরবরাহ করে একের পর এক টাকা তুলে নিয়েছে তারা। বাসের কন্ডাক্টরও নাকি সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। ব্যাংকের কর্ণধাররা পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে ব্যাংকগুলোকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যবহার করেছে। এই তো গতকাল এক ব্যাংকারের সঙ্গে দেখা। তিনি দুঃখ করে বললেন, ব্যাংক থেকে প্রচণ্ড চাপ। একেকজনকে কোটি টাকা টার্গেট দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এফডিআর, মোটা অঙ্কের টাকা জমা রাখাসহ নানা সিস্টেমে ব্যাংকে গচ্ছিত রাখতে গ্রাহকদের উদ্বুদ্ধ করতে। কি করব বুঝে পাচ্ছি না। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। অনেকে এ অবস্থায় ব্যাংকে টাকা রাখছেন না। রাজনীতিও উত্তপ্ত। কি হয় দেশে তা নিয়ে চিন্তিত মানুষ। কিন্তু কেউতো অভ্যাস বদলায় না। বদলাতে চায় না। সবাই মনে করে তিনি যা করছেন, তা-ই ভালো। এ কারণেই হয়তো ‘কয়লা যায় না ধুলে, অভ্যাস যায় না মরলে’ প্রবাদ বাক্যটি সমাজে প্রচলিত। আর তাইতো কারো কারো জীবনে অভ্যাস পরিণত হয় বদ অভ্যাসে।   

তিন. তোমায় হারাতে চাই না/শূন্য করে বুক। তোমায় ছাড়া চাই না আমি/আট বেহেস্তের সুখ...। প্রেমিক যুগলের এমন প্রতিশ্রুতি প্রেমের প্রতি। ভালোবাসার প্রতি। একে অন্যের প্রতি। প্রেমের হাজারো রূপ। পাত্র বুঝে প্রেমের রূপও বদলায়। প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেম হয়ে পড়ে ভালোবাসা। পাগলপারা। মনের আদান-প্রদান। ভাবাবেগ, লালসা, বাসনা আর সাধনার পূর্ণরূপ হলো ভালোবাসা। এ ভালোবাসার জন্য, প্রেমের জন্য মানুষ জীবন পর্যন্ত দিয়ে  দেয়। আত্মবলি দেয়। অর্থাৎ প্রেমের মোহে অন্ধ হয়ে যায় তারা। আর পিতা-মাতা ও সন্তানের প্রেম হয় আদর আর স্নেহের। বন্ধুত্বের প্রেমও হয় অন্যরূপ। সন্তানের প্রতি মায়ের প্রেম হলো সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেম। যে প্রেমে খাদ নেই। এমন নিখাদ প্রেমও সন্তান নষ্ট করে দেয়। যখন ঘরে বউ আসে তখন মা দিন দিন পর হতে থাকে। ভালোবাসার মানুষ হতে থাকে স্ত্রী। কেউ কেউ প্রেমের বাস্তব রূপ দেয় বিয়ের মাধ্যমে। তখন নিখাদ প্রেমে লাগে খাদ। এ অবস্থায় মা ফেলেন চোখের পানি। এর ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। অনেক ঘটনা শোনা যায় মায়ের জন্য স্ত্রীকে পর্যন্ত ত্যাগ করেছে সন্তান। ইদানীং গ্রামেগঞ্জে পীরের প্রেমে দেওয়ানা মুরিদরা। পীরবাবাকে খুশি করতে গিয়ে হেন কাজ নেই তারা করে না। পীর চেয়েছেন এটা খাবেন। এটা পাওয়া যায় কোথায়? সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার পাওয়া গেলেও পীরবাবাকে এনে খাওয়াবেন। অথচ নিজের বাবার কোনো খোঁজ নেই। শীত মওসুমে গ্রামে গ্রামে পীরবাবার দরবারে বসে ওরস। ওরস মানে মিলন। পীর-মুরিদের এ মহামিলনে গরু, মহিষ, খাসি জবাই হয়। বসে পীরের বাড়িতে মজমা। ধুমধামে খানাপিনার পর পীরের দোয়া নিয়ে ফিরে যায় মুরিদরা। মহান আল্লাহ প্রেম-ভালোবাসাকে এক শ’ ভাগ করে মাত্র এক ভাগ ছেড়ে দিয়েছেন পৃথিবীতে। যা পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে এ পর্যন্ত চলছে। কেয়ামত পর্যন্ত তা চলবে। এই এক ভাগের কতটুকু পেয়েছি আমি? হিসাব কষলে হয়তো খালি চোখে দেখা যাবে না। ভাগে পাওয়া ওই একটু ভালোবাসায় মানুষ মানুষের জন্য জীবন দেয়। কিন্তু এখন ভালোবাসার কি নমুনা দেখছি বাংলাদেশে। সামান্য কারণে রক্তের হোলি খেলা হচ্ছে। একজন আরেকজনকে হত্যা করে উল্লাস করছে। এখানে মানবপ্রেমের বালাই নেই। একেকজন একেকভাবে তা দেখছে। নিজের মতো করে বিশ্লেষণ করছে। রাজপথ রক্তাক্ত হচ্ছে মানবপ্রেমের বলিতে। যুক্তি-পাল্টা যুক্তিতে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতি। কিন্তু প্রেমের জয় কি এখানে হচ্ছে। কথায় বলে, ভালোবাসা দিয়ে বিশ্ব জয় করা যায়। আবার রাজনীতিতেও ভালোবাসা ভিন্নরকম। রাজপথে আন্দোলনে যারা তাদের ভালোবাসা একরকম। আবার সরকারের ভালোবাসা আরেক রকম। যার যার প্রেম নিয়ে তারা বসে আছেন। সেই প্রেমে কাউকে ভাগ বসাতে দেবেন না। এতেই ঘটেছে বিপত্তি। দেশ আর দেশের মানুষের জন্য প্রেমিক হতে পারছেন না কেউ। ভাবছেন না, দেশ বাঁচলে আমরা বাঁচবো। দেশের মানুষ বাঁচলে আমাদের রাজনীতি বাঁচবে। কাজেই প্রেম-ভালোবাসা যেটুকু দেয়ার দেশ আর দেশের মানুষের জন্য দিই। তাদের দিকে তাকিয়ে আমরা রাজনীতিকরা প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হই। স্বাধীনতা সংগ্রামে যে জাতি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবন দিতে এগিয়ে গেছেন। যে মানুষ তার মাকে না বলে নাম লিখিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়। যে মানুষ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে বাংলাদেশ নামক দেশ উপহার দিয়ে  গেছেন- তারই সন্তানরা আজ একি দেখছেন? দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে যে মুক্তিযোদ্ধা পঙ্গু হয়েছেন। হারিয়েছেন পা। কেউ হারিয়েছেন হাত, চোখ। যার শরীরে এখনো বুলেট বিদ্ধ হয়ে আছে। অমাবস্যা-পূর্ণিমায় যে যোদ্ধা ব্যথায় কাতর হয়। সেই যোদ্ধা যখন তার চোখের সামনে তার প্রিয় দেশকে এভাবে পেছনে যেতে দেখেন তখন তিনি কি ভাবেন? হ্যাঁ, তিনি ভাবেন, এমন বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম?
চার. পাগল পাগল মানুষগুলো/ পাগল সারা দুনিয়া/ কেহ পাগল রূপ দেখিয়া/ কেহ পাগল শুনিয়া। যুগে যুগে সমাজে বহু পাগলের আবির্ভাব দেখা যায়? এ কারণেই হয়তো পাগলকে নিয়ে কবি এভাবে তার কাব্য রচনা করেছেন। আর এতে সুরকার সুর দিয়ে শ্রুতিমধুর করে তুলেছেন। সমাজে নানা ধরনের পাগল দেখা যায়। কেউ হাসতে পাগল। কেউ হাসাতে পাগল। কেউ কাঁদতে পাগল। কেউ কাঁদাতে পাগল। আবার কেউ খেতে পাগল। কেউ খাওয়াতে পাগল। কেউ দিতে পাগল। কেউ নিতে পাগল। কেউ টাকার পাগল। কেউ টাকা বিলাতে পাগল। কেউ আবার অন্যকে ঘায়েল করতে পাগল। কেউ দেখে পাগল। কেউ শুনে পাগল। কেউ নাচতে পাগল। কেউ নাচাতে পাগল। কেউ ধরতে পাগল। কেউ ছাড়তে পাগল। কেউ বলতে পাগল। কেউ বলাতে পাগল। কেউ নেশার পাগল। কেউ নেশা তাড়াতে পাগল। কেউ লোক দেখাতে পাগল। কেউ লোক হাসাতে পাগল। কেউ ভালোবাসার পাগল। কেউ প্রেমের পাগল। কেউ বিরহে পাগল। কেউ আবেগে পাগল। কেউ সুখে পাগল। কেউ দুখে পাগল। কেউ প্রভাব আঁকড়ে রাখতে পাগল। কেউবা প্রভাব কেড়ে নিতে পাগল। কেউ অভাবে পাগল। কেউ স্বভাবে পাগল। এই স্বভাবে পাগল নিয়েই হলো যত সমস্যা। এ ধরনের পাগল নিজেরটা ষোল আনা বুঝে। আর নিজে যা বুঝে তা-ই ফাইনাল। এখানে অন্যকোনো কথা চলবে না। এ ধরনের পাগলের কিছু সমর্থকও থাকে। যারা তাকে সমর্থন দিয়ে আরো পাগল বানিয়ে ফেলে। অবশ্য তারা নিজেকে পাগল বলতে রাজি নন। মানতেও রাজি নন। এ জাতীয় পাগলরা সবকিছুতে নাক গলাতে ওস্তাদ। যে কোনো বিষয়ে বাম হাত ঢুকিয়ে দেয়। এতে মূল বিষয় হয়ে পড়ে দূষিত। নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করতে নানা কসরত করে। তাদের এ কসরত দেখে হাসেন সবাই। এ ধরনের পাগল সমাজটাকে একেবারে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাদের কিছুতেই বোধোদয় হয় না। বরং এমন পাগল হতে পেরে নিজেকে নিয়ে গর্ব করেন। কখনো কখনো উদাহরণ দেন, সম্রাট শাহজাহান যদি স্ত্রীর জন্য পাগল হয়ে তাজমহল বানাতে পারেন তাহলে আমরা পাগল হলে সমস্যা কি? পরক্ষণেই কেউ যদি তাকে পাগল বলেন, এতেও ক্ষিপ্ত হন তিনি। বলেন, আমি পাগল কে বলেছে? এটা বলা অন্যায়। মহাপাপ। আসলে পৃথিবীতে বার রকমের পাগলের বসবাস। প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে পাগল। তবে প্রশ্ন হলো- পাগলের বিষয় নিয়ে। সমাজে দেখা যায়, কেউ নিজের খেয়ে অন্যের মঙ্গলের জন্য পাগল। নানাভাবে তারা সমাজের জন্য পাগল হয়ে কাজ করছেন। আবার কেউ পাগল হয়ে বৃদ্ধাশ্রম খুলেছেন। সন্তান কর্তৃক বিতাড়িত অনেক বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের নিয়েই এ ধরনের পাগলের সংসার। এমন পাগলকে মানুষ শ্রদ্ধা করেন মন থেকে। আবার কেউ অসুস্থ রোগীকে সুস্থ করতে পাগল। নিজের টাকা দিয়ে অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। কেউবা মানুষের সহায়তায় এ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আবার কেউ ভালোবাসা বিলিয়ে দিতে পাগল। ভালোবাসা দিয়ে সমাজকে বদলে দেয়ার চেষ্টা করেন এ ধরনের পাগলরা। আবার কেউ আছেন স্বার্থ যেখানে তিনি সেখানে। স্বার্থের হেরফের হলেই ক্ষেপে যান। তখন যা ইচ্ছা তা করেন। কেউ আবার ধান্ধার পাগল। দিন-রাত তিনি ধান্ধার পেছনে ছুটেন। আসলে আমরা সবাই পাগল। কিন্তু কে কোন ধরনের পাগল সেটাই হলো বিষয়। এ কারণেই হয়তো কবি লিখেছেন-পাগল পাগল মানুষগুলো/ পাগল সারা দুনিয়া।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

আপনার মতামত দিন

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

কারওয়ান বাজারে আগুন

৬৪ আসনে মনোনয়ন তুলেছে জামায়াত

ঝিনাইদহে জঙ্গি অভিযান, গ্রেপ্তার ১

‘অস্তিত্ব সংকটে আছি আমরা’

পাবনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

ট্রাক্টরের চাপায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত

সারাদেশে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫

ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত ৪৩

গণভবনে এরশাদ-বি. চৌধুরী

৬৪ জেলায় মেনটর নিয়োগ পরে বাতিল

প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম

আমাদের নির্বাচনের দিনটি চুরি-ডাকাতির দিন হয়ে গেছে

সচিব, ডিএমপি কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

রফিকুল ইসলাম মিয়া গ্রেপ্তার