বিচিত্রিতা

শিল্পাঙ্গনের জন্মকথা

ঈদ আনন্দ ২০১৮

রুমি নোমান | ২৮ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০৫
১৯৯২ সালের ১৪ই মে শিল্পাঙ্গনের উদ্বোধনী দিনে বক্তব্য রাখছেন সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ
শিল্পাঙ্গন দেশের প্রথম ব্যক্তি মালিকানাধীন পূর্ণাঙ্গ আর্ট গ্যালারি। এর উদ্যোক্তা, স্বপ্নদ্রষ্টা আসলে এক ব্যক্তি নয়, বরং দুই পরম বন্ধু- সাংবাদিক, ছড়াকার ফয়েজ আহমদ ও ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ। নব্বইয়ের দশকে সাড়া জাগানো গ্যালারিটির এই দুই প্রধান ব্যক্তির সান্নিধ্যে এসে আমার সৌভাগ্য হয় বেশ কিছু ঘটনার সাক্ষী হওয়ার, যা এতদিন পরে মনে হয় অমূল্য স্মৃতি।
সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ ও ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহম্মদকে আমি মনে করি গোটা আশির দশক থেকে শুরু করে নব্বই পর্যন্ত যারা স্বৈরাচার এরশাদকে একদিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেননি- তাদের মধ্যে এই দুই ব্যক্তি অনন্য। যদিও তারা দুইজনই ১৯৮৭ সালে বেশ কিছু দিন কারাবরণ করেছিলেন। ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহম্মদকে আমি প্রথম দেখি-সাপ্তাহিক যায় যায় দিন পত্রিকার এক অনুষ্ঠানে বৃটিশ কাউন্সিলে। তিনি সেদিন (সম্ভবত ১৯৮৪) যে ভাষায় সামরিক সরকারের সমালোচনা করেন- তা রীতিমতো ছিল বিস্ময়কর। অসম সাহসী এই আইনবিদের সঙ্গে সেদিন ফয়েজ আহমদও বক্তৃতা দেন। তিনিও সাহস বুকে যেসব কথা বলেন, তাতে মনে হয়েছিল দুই বন্ধু বুঝি আজ জীবনবাজি রেখেছেন।
যাই হোক, তাদের পরবর্তী ঘটনাবহুল দিনগুলোর কথা কম-বেশি আমাদের সবারই জানা। কিন্তু, অন্তরালের আরও কিছু ঘটনাবলি জানার সুযোগ হয় আমার। ১৯৯১ সালের এক বিকালে তাদের আড্ডায় ছিলাম আমি। দুই বন্ধু তখন কার্যত বেকার। কারণ স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এই সুদিনে তাদের কিছুই করার নেই-তাও কি হতে পারে। তারা ব্যাকুল কি করা যায়...অনন্ত আড্ডার জন্য তো একটা ব্যবস্থা থাকা চাই। এমন সব কথার এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ বললেন- ফয়েজ, তোমার তো সব নাতি চিত্র শিল্পীরাই বন্ধু শ্রেণীর। ঢাকায় একটা প্রাইভেট গ্যালারি করলে কেমন হয়? অসাধারণ কথাটি উচ্চারণ না করেও, ফয়েজ আহমদ যেভাবে তাকালেন, তার উত্তর ঐ একই অর্থ বহন করে। তার পরের দিন থেকেই শুরু হলো চিন্তা ভাবনা। তারা দু’জনই আমাকে ডেকে বললেন- তোমার কাজ হলো যত দ্রুত সম্ভব ধানমন্ডি এলাকায় উপযুক্ত একটি বাড়ি খুঁজে বের করা। আমরা ভাড়া বাড়িতেই গ্যালারি তৈরি করবো। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব ভাল করেই জানি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের পরিবার, পটুয়া কামরুল হাসান থেকে শুরু করে, আমিনুল ইসলাম, দেবদাস চক্রবর্তী, মুর্তাজা বশীর মোহম্মদ কিবরিয়া, শিল্পগুরু সফিউদ্দিন আহমেদ, আবদুর রাজ্জাক ছিলেন ফয়েজ আহমদের অত্যন্ত কাছের মানুষ। তাদের ছাত্র রফিকুন নবী, হাশেম খান- তারাও নানান কাজে নানানভাবে তাঁর সঙ্গে যুক্ত। এমনকি, আমার মনে আছে কামরুল হাসান যেদিন তাঁর ঐতিহাসিক তিন কন্যা ছবিটি ইত্তেফাক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কাছে বিক্রি করেন- সেদিন ফয়েজ আহমদ আমাকে এই তিন কন্যার পেছনের ইতিহাস বলেছিলেন। কামরুল হাসান ছবি রোল করে আমাদের তোপখানা রোডের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয়বর্ষে এসে অতুলনীয় একটি কাজের অংশ হিসেবে প্রায় প্রতি বিকালে আমি মহা আনন্দে ধানমন্ডি এলাকায় বাড়ি খুঁজে বেড়াই। পারিশ্রমিক সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাবের নাশতা, কোনো কোনো দিন ঢাকা ক্লাবের নান-কাবাব। এমন করে ধানমন্ডির দুই নম্বর রোড সংলগ্ন একটি বাড়িতে নোটিস দেখে (এখন সেখানে কাপরের সেল সেন্টার বিগ বস) আমি বাড়ির মালিকের সাথে কথা বলি। বাড়িওয়ালি ভদ্র মহিলার তিন মেয়ে কলেজে পড়ে। কিছুটা সন্দিহান ছিলেন আর্ট গ্যালারির কার্যক্রম নিয়ে। পড়ে-উদ্যোক্তাদের নাম শুনে তিনি রাজি হন। কিন্তু দুর্ভাগ্য এর মধ্যে একদিন দুপুর বেলা ভাড়ার টাকা আগাম দিতে গিয়ে বিপত্তি হয়। দুপুরের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় ভদ্র মহিলা ভীষণ রেগে যান, এক পর্যায়ে জানিয়ে দেন ভাড়া হবে না। এ ঘটনায় কিছুটা থমকে গেলেও বাড়ির সন্ধান চালাতে থাকি। এবার খবর এলো-ধানমন্ডির এক নম্বর রোডের শেষ বাড়িটি ভাড়া দেয়া হবে। বাড়ির মালিক সম্পর্কে তেমন কিছু না জেনেই আমি আর ফয়েজ আহমদ সেখানে যাই। বিশাল বাগান বাড়ি। বসার ঘর থেকে প্যাঁচানো সিঁড়ি দোতলায় চলে গেছে। আদি জমিদারের বাড়ির মতো। সেদিক থেকেই কিছুক্ষণ পর ছিপছিপে গড়নের লম্বা এক ভদ্র লোক নেমে আসছেন। আমি আর ফয়েজ কাকা প্রায় এক সাথেই বলে উঠলাম আপনি তো একজনের মতো হুবহু দেখতে। ভদ্র লোক হেসে বললেন জানি কী ভাবছেন আপনারা, শেখ সায়েবের মতো, তাই তো? আমরা কিছু বলার আগেই বললেন- ফয়েজ সায়েব আমি আপনাকে চিনি, আমি শেখ মুজিবুর রহমানের আরেক ভাই!!!! আমাদের চোখ তখন ছানাবড়া... কী বলছেন তিনি, কেউ জানে না, বঙ্গবন্ধুর আরেক ভাই!!! তিনি তখনও বলে চলছেন- আমি বিদেশে থাকি, ছেলেমেয়েরাও বাইরে। তবে, কথা হলো ফয়েজ সায়েব, বাড়ি তো আপনাকে দিতে পারছি না। আমরা ফ্যামিলি ভাড়াটিয়া খুঁজছি’। যদিও আমরা আর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সত্যতা যাচাই করিনি। তবুও, দেখে সব সত্যই মনে হয়েছে। যাই হোক, আবারও ফসকে গেল আমাদের গ্যালারির জন্য উপযুক্ত একটি বাড়ি। তবুও ফয়েজ আহমদ আমাকে বললেন- বাড়ি দ্যাখো। মনে মনে তখন ভেবেছি, হায় রে, যার নিজের বলতে মাথা গোঁজার একটি চালা ঘরও নেই, সে কিভাবে এত বড় গ্যালারি করার কথা ভাবছে। নীরবে এ সব চেপে রেখে বাড়ির সন্ধান করতে থাকি। ফয়েজ আহমদ আমার পিতার অধিক, একমাত্র অভিভাবক, তাঁর কথা শিরোধার্য।
এমন করে ‘৯১ সাল পার হয়ে গেল, বাড়ি মিললো না। পরের বছর (১৯৯২) এপ্রিল মাসে একদিন ধানমন্ডির ৪ নম্বর রোডে নোটিস দেখে যোগাযোগ করি। বাড়ির মালিক ব্যবসায়ী, কিন্তু রুচিশীল। তিনি ২৫ হাজার টাকায় দু’বছরের চুক্তিতে আমাদের স্বপ্ন পূর্ণ করলেন। আত্মপ্রকাশ ঘটলো দেশের প্রথম ব্যক্তি মালিকানাধীন পূর্ণাঙ্গ চিত্রশালার। উদ্যোক্তা পরিচালক ফয়েজ আহমদ, চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ। ১৪ই মে দেশের বরেণ্য ও প্রতিভাবান চিত্রশিল্পীদের ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু। উদ্বোধন করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় কবি সুফিয়া কামাল। মনে আছে আজকের নামি শিল্পী মোহম্মদ ইকবালের একটি ছোট পেইন্টিং প্রথম বিক্রি হয় শিল্পাঙ্গন থেকে। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন শিল্পাঙ্গনের সফলতার পেছনে ব্যারিস্টার ইশতিয়াক ও ফয়েজ আহমদের কয়েকজন বন্ধুরও অবদান রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম জিয়াউল হক টুলু ও দেশ গ্রুপের কর্ণধার এম নুরুল কাদের খান। নুরুল কাদের খান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংস্থাপন সচিব ও একজন পাইয়োনিয়ার আর্ট কালেক্টর।
চার নম্বর রোড থেকে দশ মিনিটের হাটা পথ সুধাসদনের। ফয়েজ কাকা একদিন সকালে বললেন, তুমি আজ আমার সঙ্গে চলো। গ্যালারিতে কয়েকজন অতিথি আসছেন। আমরা গিয়ে দেখি এরই মধ্যে জাহানারা ইমাম গ্যালারিতে মোড়ায় বসে একদল শিল্পীর সঙ্গে কথা বলছেন। আরও কিছুক্ষণ পরেই অফিস কক্ষে প্রবেশ করলেন সে সময়ের বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনা। কয়েকজন ছেলেপেলেকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে ছবি দেখে-ফয়েজ আহমদকে বললেন, ‘আমার ভাই শাহাবুদ্দিনের প্রদর্শনী করেন না। ও তো ক’দিন পরেই দেশে আসবে’। ফয়েজ কাকা হাসি মুখে বললেন-আমার দরজা তো খোলা। তবে তাই হবে, শাহাবুদ্দিন আহমেদই করবেন এই গ্যালারির পক্ষে প্রথম একক প্রদর্শনী”। শিল্প শাহাবুদ্দিন আহমেদ ফিরেছিলেন ৯৩ সালে। প্রথম প্রদর্শনীতেই বাজিমাত। প্রথম তিনদিনে সব ছবি বিক্রি হয়ে যায়। ঢাকার সংগ্রাহকরা প্রচণ্ড আক্ষেপ করতে শুরু করেন ছবি না পেয়ে। তার পর দিনই ব্রেকিং নিউজের মতো পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন ছাপা হয়- তাতে লেখা “সেকেন্ড ফেইজ অফ শাহাবুদ্দিন’স সোলো শো সুন অ্যাট শিল্পাঙ্গন”। দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রদর্শনীতেও কোনো ছবি বাকি ছিল না। এখানে অবশ্য একটা কথা বলা প্রয়োজন-শিল্পীদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে শিল্পাঙ্গন থেকে ছবির মূল্য বৃদ্ধির একটা উদ্যোগ নেয়া হয়। এর আগে দেশে কখনও এমন দামে ছবি বিক্রি হয়নি। এর আরেকটি কারণ গুটি কয়েক লোক খুব অল্প দামে শিল্প সংগ্রহের যে সুযোগ পেয়ে যাচ্ছিল তা কিছুটা রোধ করা। শোনা যায় ঢাকার বেশ ক’জন মুখ চেনা বড় লোক এসএম সুলতানের মতো শিল্পীকে বাড়িতে অতিথি রেখে তাঁকে দিয়ে আঁকিয়ে নিয়েছেন বহু পেইন্টিং। যাবার বেলায় শিল্পী পেয়েছেন মাত্র কয়েক হাজার টাকা!!! ৪ নম্বরের ঐ বাড়িটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শিল্পীদের প্রিয় স্থানে পরিণত হয়। তিরিশ বছর পর দেশে এসে মনিরুল ইসলাম দেখা করেন এবং প্রদর্শনীর আগ্রহ দেখান। ৯৩ সালেই অনুষ্ঠিত হয় স্পেন প্রবাসী মনিরুল ইসলামের আরেকটি মাইল ফলক প্রদশর্নী। ঢাকায় এর আগে ছাপচিত্রের এত বড় এবং সার্থক প্রদর্শনী হয়নি। এমন করে অচিরেই ছোট বড় প্রায় সব শিল্পীরই ঠিকানা হয়ে যায় সমকালীন চিত্রশালা শিল্পাঙ্গন।

তবে, এর দু’বছর পরেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো বাড়ি ছাড়ার নোটিস আসে শিল্পাঙ্গনে। বাড়ির মালিক ও তার দুই ভাইয়ের ভয়াবহ কলহ আমাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করে। তারপর সাময়িক বন্ধ শিল্পের দুয়ার। আবার আমরা শুরু করি বাড়ির সন্ধান। সে সময় ধানমন্ডি এলাকায় আধুনিকতার নামে এক ধরনের চন্ডারবৃত্তি শুরু হয়ে গেছে। ভেঙে ফেলা হচ্ছে প্রায় সব পুরনো বাড়ি। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে প্রথম দিনেই ৫ নম্বর রোডে বাড়ি ভাড়ার নোটিশ। ভাড়া পাওয়া যাবে কি না ভয়ে ভয়ে ফোন নম্বরটি ফয়েজ কাকাকে দিই। কিছুক্ষণ পর তার ঘর থেকে হাসির শব্দে বুঝি ভাড়া পেয়ে গেছি, বাড়িওয়ালাও নিশ্চয় খুব পরিচিত কেউ। পরে জানলাম এটি ফয়েজ আহমদেরই আরেক পরম বন্ধু বর্ষীয়ান কূটনীতিক ফারুক চৌধুরীর বাবার বাড়ি। দেখভাল করেন তাঁরই ছোট ভাই সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুম চৌধুরী। এ বাড়িতে বলা যায়, শিল্পাঙ্গনের স্বর্ণযুগ কেটেছে। বহু নামী শিল্পীর প্রদর্শনী হয়েছে এখানেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য লন্ডনে জীবনের প্রথম প্রদর্শনীর ২৪ বছর পর দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী করেন কাইয়ুম চৌধুরী। এরপর দীর্ঘ বিরতি শেষে একক প্রদর্শনী করেন কাইয়ূম চৌধুরী। এরপর দীর্ঘ বিরতি শেষে একক প্রদর্শনী নিয়ে আসনে রফিকুন নবী। এ প্রদর্শনীতে একটি ঘটনা আমার আজও মনে আছে। উদ্বোধনীর আগে গ্যালারিতে ঘুরে ছবি দেখছিলেন কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী। এমন সময় এক ভদ্রলোক এসে আমাকে বলেন তিনি একটি ছবি কিনবেন, আমি যেন তার নামে লাল টিপ দিয়ে রাখি। এর কিছুক্ষণ পর একটা হট্টগোলের শব্দ পেয়ে গ্যালারিতে ফিরে এসে দেখি- কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর স্ত্রী ফয়েজ কাকার কাছে তীব্র প্রতিবাদ করে বলছেন- তারা যে ছবি পছন্দ করেছেন তা উদ্বোধনের আগে কেন বিক্রি হলো। অবস্থা বেগতিক দেখে ফয়েজ কাকা আমাকে বললেন- কে এ ছবি নিয়েছে বা উপায় কি। এমন সময় সেই ভদ্রলোক নিজেই এসে হাজির। তিনি তার পরিচয় দিয়ে বললেন- তিনি আগে বলেছেন- কাজেই তিনিই এই ছবির দাবিদার। পরে রফিকুন নবীকে আরেকটা তেমন ছবি আঁকতে অনুরোধ করা হয়। তিনি অপরাগতার কথা জানালেও, পরে ঠিক সে রকম একটি চড়ের পাখি আঁকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কবি ওবায়দুল্লাহ সেটি নেননি। এর এক সপ্তাহ পরে ইত্তেফাকের সাহিত্য পাতায় সেই চড়ের পাখিকে না পাওয়ার দুঃখ নিয়ে একটি কবিতা লেখেন তিনি। ১৯৯৭ সালে সবচেয়ে আলোচিত প্রদর্শনী হয় শিল্পাঙ্গনে। এ বছর শুরুতে শিল্পাঙ্গনে বিদেশী শিল্পীদের প্রদর্শনীর প্রস্তাব নিয়ে আসেন শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। তিনি ফ্রান্সের প্রাচীন গ্যালারি দানিয়েল বেসেইচে’র সাথে শিল্পাঙ্গনের যৌথ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে দেন। তারাই ওই বছর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পিকাসো, সালভাদর দালিসহ ২০জন ইউরোপীয় মাস্টার পেইন্টারের অরিজনাল শিল্পকর্ম নিয়ে আসেন। পাঁচদিনের ওই প্রদর্শনীতে হাজার হাজার শিল্পানুরাগী মানুষ লাইন দিয়ে গ্যালারিতে প্রবেশ করেছেন। পরের বছর ঢাকার দর্শক দেখতে পান এক সময়ের আদূরে শিল্পী শহীদ কবিরকে। তিনিও তিরিশি বছর পরে স্পেন থেকে ফিরে এসে প্রথম প্রদর্শনী করেন শিল্পাঙ্গনে। এভাবেই দিন কাটে, বছর যায়। কিন্তু ২০০১ সালে আবারও আসে দুঃসংবাদ। ফারুক চৌধুরীর ভাইয়েরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাড়িটি তারা ভেঙে বহুতল ভবন করবেন। অগত্যা আবারও বাড়ি পরিবর্তন। সেবার আপাতত গ্যালারি রক্ষার জন্য আমরা স্থানান্তর করি তিন নম্বর রোডের একটি দোতলা বাড়িতে। ছয় মাস পরে কিছুটা উপযুক্ত আরেকটি একতলা বাড়ি পাওয়া যায় একই রাস্তায়। সেখানে ২০১২ সাল পর্যন্ত ছিল শিল্পাঙ্গন। ওই বছরই ২০শে ফেব্রুয়ারি শিল্পাঙ্গনের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পরলোকে পাড়ি জমান বহুমাত্রিক গুণান্বিত ব্যক্তি ফয়েজ আহমদ। তার ভ্রাতুষ্পুত্র হিসেবে হাল ধরতে হয় আমাকে। কিন্তু মরার উপর খড়ার ঘা যাকে বলে-তাই ঘটলো এক মাসের মধ্যেই। এ বাড়িও ছেড়ে দেয়ার নোটিশ এলো। নিরুপায় হয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেই সোবাহানবাগের কাছে (ধানমন্ডি নতুন ১৩) যে ভাড়া বাড়িতে ফয়েজ আহমদ থাকতেন সেই বাড়িতে গ্যালারিটি সরিয়ে নিতে। এখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিমের বাবার বাড়ি এটি। বাড়িওয়ালা তার বড় ভাই ডক্টর সেলিম। তিনি আমার কথায় রাজি হন। এখন সেখানেই ঢাকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ চিত্রশালা শিল্পাঙ্গন-যদিও জানা নেই কোথায় হবে শেষ বা স্থায়ী ঠিকানা। 

লেখক: টিভি সাংবাদিক; পরিচালক, শিল্পাঙ্গন গ্যালারি



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

আপনার মতামত দিন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মৌলিক অধিকার পরিপন্থি: সুজন

ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে গুলি, বহু হতাহত (ভিডিও)

প্রতিমা ভাংচুর করায় ইউপি সদস্য আটক

সাকা চৌধুরীর কবরের নাম ফলক উপড়ে ফেলেছে ছাত্রলীগ

কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু

পেট্রোল বোমাসহ ৫ শিবিরকর্মী আটক

বরিশালের উজিরপুরে ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

এবার সড়কপথে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা

নাটোরে গ্রেনেড উদ্ধার

যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

বন্দুক তাক করে থাকলে বিদেশে গিয়ে লিখবেন ছাড়া কি গণভবনে বসে লিখবেন ?

রূপগঞ্জে বিল থেকে অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার

আইনগত ভিত্তি পেলেই ইভিএম ব্যবহার: সিইসি

ডিএনসিসি'র প্যানেল মেয়র ওসমান গণি আর নেই

সুইসাইড নোট লিখে খুবি ছাত্রের আত্মহত্যা

সড়ক দুর্ঘটনার নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত