নন-এমপিও শিক্ষকরা অনশনে

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২৬ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
এমপিওভুক্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন নন- এমপিও শিক্ষকরা। গতকাল রাজধানীর প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশন শুরুর পর একথা জানান আন্দোলনরত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতারা। গত ১০ই জুন থেকে লাগাতার কর্মসূচির পর গতকাল থেকে আমরণ কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। সরকার পক্ষের কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে গতকাল এ কর্মসূচি শুরু করেছেন। গতকাল সকাল ১০টায় শুরু হয় নন-এমপিও শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচির প্রথম ধাপ। এরপর আন্দোলনরত সকল শিক্ষক-কর্মচারীর সকলে এক সঙ্গে শপথবাক্য পাঠের মাধ্যমে শুরু করেন তাদের প্রথম দিনের অনশন কর্মসূচি। ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না’ সকলকে এই শপথবাক্য পাঠ করান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার। এসময় মাহমুদুন্নবী বলেন, এমপিওভুক্তির দাবিতে একবার নয় আমরা এর আগেও সর্বমোট ২৬ বার অন্দোলন করেছি।
এবারও টানা ১৫ দিন রাজপথে রয়েছি। কিন্তু এখনো আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাইনি। ঝড়-বৃষ্টি ও রাস্তার ধুলার মধ্যে বসে লাগাতার আন্দোলন করে এরই মধ্যে ১২ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জন শিক্ষক সুস্থ হয়ে ফিরে আসলেও বাকি সাত জন এখনো অসুস্থ রয়েছেন বলে জানান তিনি। গতকালও সারাদিন টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনশন পালন করতে দেখা যায় নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের। কাপড়ে লেখা অনশন কর্মসূচির ব্যানার নিয়ে সকাল থেকেই তারা স্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তুলে পুরো প্রেস ক্লাব চত্বর। বৃষ্টিতে ভেজার ভয়ে যখন অনেকে দৌড়ে কোনো দোকান বা স্থাপনায় যেয়ে ঠাঁই নিচ্ছেন তখন গতকাল সকালের পর টানা বৃষ্টি শুরু হলে এই মানুষ তৈরির কারিগরদের দেখা যায় এক অন্যচিত্র। কেউ ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে কেউ আবার মাথায় পলিথিন মুড়ে দাঁড়িয়ে পালন করছেন অনশন কর্মসূচি। রাস্তার ওপর বিছিয়ে বসার নীল রঙের পলিথিন মাথার উপর ধরে রেখেও অনশন পালন করছেন অনেকে। প্রথম দিনের আন্দোলন শেষে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায় বলেন, এই বৃষ্টি উপেক্ষা করে আন্দোলন করে আমাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর আগেও অনেকে অসুস্থ হয়েছেন। আর এইসব ঘটনার দায় নিতে হবে সরকারকে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও এ বিষয় বাস্তবায়নে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো এমপিওভুক্তির নামে জুড়ে দেয়া হয়েছে নানা শর্ত। তিনি বলেন, এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দূরত্ব, স্থায়ী ভবন ইত্যাদি শর্ত দিয়ে ১২ই জুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের অনেকের চাকরির বয়স প্রায় শেষের দিকে। এখন আবার চাকরির বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৫ করা হয়েছে। তাহলে ১৫-২০ বছর ধরে কর্মরত এই কর্মজীবীদের কী হবে। তিনি বলেন, মানুষের জীবনে কষ্টের শেষ থাকে কিন্তু আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই।
এই জন্য এবার আমরা শপথ নিয়ে দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আর ঘরে ফিরবো না বলেও জানান তিনি।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নির্বাচন নয়, প্রত্যাবাসন নিয়েই কূটনৈতিক ব্রিফিং: পররাষ্ট্র সচিব

বিশিষ্ট নাগরিকদের ইতিবাচক ভূমিকা চায় ঐক্যফ্রন্ট

নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইসির অধীনে আনা উচিত

পর্যবেক্ষকদের জন্য নির্বাচন পেছানোর দাবি অযৌক্তিক- কাদের

নির্বাচন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কূটনৈতিক ব্রিফিং বৃহস্পতিবার

পল্টনে অন্যরকম দৃশ্য

নির্বাচনে লড়তে চান শতাধিক শীর্ষ ব্যবসায়ী

‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’ মুক্তি পাবে ১৬ই নভেম্বর

আওয়ামী লীগ চায় নিজের লোক, মেনন বললেন ভিন্ন চিন্তা হলে ভোটই করবো না!

আওয়ামী লীগের ৯, বিএনপির ১০ মনোনয়ন প্রত্যাশী

রূপগঞ্জে আলোচনায় রফিকুল ইসলাম

শহিদুলের মুক্তি চাইলেন অরুন্ধতী রায়সহ দক্ষিণ এশিয়ার ৩৪ বিশিষ্ট ব্যক্তি

নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা বাম জোটের

বদলে যাচ্ছে মাঠের চিত্র

চলছে ভোটের হিসাবনিকাশ