বর্ধিত সভায় নির্বাচনী বার্তা হাসিনার

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ জুন ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৬
দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনেকটা ঘটা করেই উদ্‌্‌যাপন করলো আওয়ামী লীগ। জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই এ দিনে সারা দেশের নেতাদের ঢাকায় এনে বিশেষ নির্বাচনী বার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটিতেই দলের  সুরম্য কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের পর গণভবনে কেন্দ্রসহ সারা দেশের নেতাদের নিয়ে বিশেষ বর্ধিত সভায় বসেন দলীয় সভানেত্রী। সভায় তিনি নেতাদের দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাদের করণীয় নিয়ে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে সরকারের টানা দুই মেয়াদে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে বলেন, এসব উন্নয়নের বিষয় সাধারণ ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন- নির্বাচন মানেই তা চ্যালেঞ্জিং হবে। এটা কিন্তু আমাদের জন্য একটানা তৃতীয়বার। এই তৃতীয়বারের নির্বাচনে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। নির্বাচনী জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোট করেছি, মহাজোট করেছি। দলের স্বার্থে এটা করতে হয়েছে। আগামীতেও আমরা এটা করবো। আমরা বন্ধু হারাবো না। সবাইকে নিয়েই থাকতে চাই। এ জন্য যতটুকু আত্মত্যাগ করতে হবে তা করবো। বড় দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বটা এক্ষেত্রে বেশি।

বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ। আওয়ামী লীগের ৮ সাংগঠনিক বিভাগ থেকে বক্তব্য রাখেন ৮ জন। সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য, দলীয় সংসদ সদস্য, মহানগর, জেলা, উপজেলা, পৌরসভার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ চার হাজারের বেশি প্রতিনিধি সভায় অংশ নেন।

দলের তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, কে প্রার্থী সেটা বড় কথা নয়, নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে জনগণের কাছে যেতে হবে। নির্বাচনে আমরা যাকে প্রার্থী করবো, নৌকা মার্কা দেবো, তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। এ জন্য এখন থেকে জনগণের কাছে যেতে হবে। নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে হবে। দলের মধ্যে ঐক্য রাখতে হবে, ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। দলে তৃণমূলকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে উন্নয়ন করেছি তাতে মানুষ নৌকায় ভোট দেবে না, তা হতে পারে না। যদি না দেয় সেজন্য তৃণমূলের আপনারাই দায়ী থাকবেন। কারণ, আপনারা সঠিকভাবে মানুষের কাছে যেতে পারেননি। তাদের কাছে সরকারের উন্নয়নের কথা বলতে পারেননি। তাদের বোঝাতে পারেননি। আমরা যে কাজ করেছি তা অন্য দল করেনি। তাহলে কেন তারা ভোট পাবে? প্রার্থী হতে গিয়ে কেউ আওয়ামী লীগের বদনাম করলে তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একটি বিষয় লক্ষ্য করছি, কেউ কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রার্থী হয়ে গেছেন। প্রার্থী হয়ে তারা বিএনপির লুটপাট-সন্ত্রাসের কথা বলে না, তাদের বক্তব্যে এসে যায় আমার আওয়ামী লীগের এমপির বিরুদ্ধে, সংগঠনের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, প্রার্থী হওয়ার অধিকার সবারই আছে। কিন্তু প্রার্থী হতে গিয়ে আমার দলকে বদনামে ফেলবে, এটা কোনো মতেই মেনে নেবো না। এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। আমার সরকার উন্নয়নের কাজগুলোর কথা না বলে কোথায় কার বিরুদ্ধে কী দোষ আছে, সেটা খুঁজে জনগণকে যারা বলবেন, তারা কখনো আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাবেন না। এটা পরিষ্কার কথা। আমি এগুলো কিন্তু রেকর্ড করছি।

যারা দলের বিরুদ্ধে বদনাম করবে সে কী বোঝে না যে, এতে তার ভোটও নষ্ট হবে। ১০ বছর সরকারে থাকার পর যদি কেউ দলের বিরুদ্ধে বদনাম করে তাহলে জনগণ তো তাকেও ভোট দেবে না। এটা হলো বাস্তবতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। বলতে হবে আমরা এই কাজ করছি, এই কাজ করবো। ভোটের রাজনীতি করতে গেলে নিজ এলাকায় আমাদের ?উদ্যোগের ব্যাপারে মানুষকে বলতে হবে। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসা মানেই যে জনগণের দুর্ভোগ তা তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। আমরা নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিসহ ভোটার তালিকা- যা করেছি আমরাই, আমাদের প্রস্তাবে হয়েছে। নির্বাচন যেন স্বচ্ছ হয়, নির্বাচন নিয়ে যেন কেউ কোনো কথা বলতে না পারে। তিনি বলেন, ’৯৬ সালে বিএনপি ১৫ই ফেব্রুয়ারি ‘মাগুরা মার্কা’ নির্বাচন করেছে যেহেতু ওই নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়নি। যার কারণে আন্দোলনের মুখে ৩০শে মার্চ খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। ভোট চুরির অপরাধে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন।

দলের এমপিদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, দেশের জনগণ কিন্তু খুবই হিসাবী। কেউ দুর্নীতি করলে তারা তা ভুলে যায় না। কাজ করতে গিয়ে টাকা দেবে আর ভোট চাইতে গেলে বলবে টাকা দিয়ে কাজ নিছি- ভোট দেবো কেন? জনগণের চোখ কিন্তু খুলে গেছে। সময় খুব বেশি নেই। পুরনো কেউ নমিনেশন পাবেন কিনা তা নির্ভর করবে আপনার এলাকায় কতটুকু জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারলেন আর কতটুকু তৃণমূলকে মূল্যায়ন করলেন, তার ওপর। কাজেই বলবো দুঃসময়ের যারা নেতাকর্মী, যারা দুঃসময়ে দলের হাল ধরে রাখে, তারা যেন অবহেলিত না হয়। দলে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়দাতাদের উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকার কারণে বিভিন্ন দল থেকে আমাদের দলে ছুটে আসছে। আর গ্রুপ করার জন্য বাছ-বিচার না করে যাকে পাচ্ছে তাকে নিয়ে নিজের শক্তি দেখাতে চান। এরা আসে মধু খেতে, এরা আপনার সঙ্গে থাকতে আসে না। কাজ করতে আসে না। এছাড়া যারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে, সন্ত্রাস করে মামলার আসামি হয়েছে সেই মামলা থেকে বাঁচতে আসছে।

আর একটি অংশ আসছে ক্ষমতার কাছে থেকে পয়সা কামাতে। আমি সারা দেশে সার্ভে করে বের করেছি। কাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। তাদের মধ্যে কারা আমার দলের। সেই তালিকা আমার কাছে রয়েছে। কাজেই বলবো, কেউ যদি তাদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন এখনই বিদায় করেন। কারণ তারা দুঃসময়ে থাকবে না। অনেকে এসে দলে কোন্দল করে খুন-খারাবি করে দল খুন করেছে বলে বদনাম দেবে। এসব বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। দলের লোক আপন নয়, বাইরের লোক আপন হয়ে গেছে- এটা মনে করার কোনো ?সুযোগ নেই। তারা কিন্তু আপন হবে না। নিজের লোকদের চিনতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী নির্বাচন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে পারে, সেই চিন্তা নিয়ে কাজ করতে হবে। কে কী পেলাম, না পেলাম সেই হিসাব না করে, দেশের জন্য কী করতে পারলাম, আগামীতে কী করবো- সেটা মাথায় রেখে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণ ভোট দেবে।

ভোট চুরি, ভোট ডাকাতি করে কেউ আসতে পারবেন না। জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। নির্বাচন যেন স্বচ্ছ হয়। কেউ যেন নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে না পারেন। আমরা ভোট চুরির বদনাম নিতে চাই না। জনগণের মন জয় করে তাদের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে। পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সরকার প্রধান বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। দোষারোপ করেছিল। একজন সুদখোরের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে মার্কিন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে এই পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করে দিলো। তারা আমাদের দুর্নীতির বিষয়ে দোষারোপ করতে চেয়েছিল। আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, বলেছিলাম, আমরা দুর্নীতি করে নিজের ভাগ্য গড়তে ক্ষমতায় আসিনি। জনগণের ভাগ্য গড়তে এসেছি। বললাম কী দুর্নীতি তার প্রমাণ দিন। ওই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে গিয়ে বেরুলো বিএনপির মন্ত্রীর দুর্নীতির তথ্য। অবশেষে কানাডার কোর্ট রায় দিতে বাধ্য হয়েছে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির সব অভিযোগ ভুয়া ও মিথ্যা। তারা কোনো দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরির উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ঘোষণা দিলাম নিজেরাই পদ্মা সেতু করবো। বিশ্বব্যাংকের থেকে টাকা নেবো না। অনেক বাধা এলো। কিন্তু আমি সাহস পাই বাংলার জনগণের ওপর। ভরসা করি আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ওপর। অনেকেই বলেছেন, এটা সম্ভব নয়। বললো, বিশ্বব্যাংক ছাড়া এটা হবেই না। ভালোভাবে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে তিনি এ সময় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

বিএনপি গঠনতান্ত্রিকভাবে দুর্নীতিকে গ্রহণ করেছে
বিএনপি গঠনতান্ত্রিকভাবে দুর্নীতিকে দলের নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দুর্নীতিকেই তারা তাদের গঠনতন্ত্রে নিয়ে এসেছে। তাদের নীতিটাই হচ্ছে- এটা (দুর্নীতিকে) আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা। এসময় তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্রে ছিল- কেউ যদি দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত হয়, তাহলে চেয়ারপারসন হতে পারবে না। তারা এই গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে দুর্নীতিবাজকে রাখতে সেই ব্যবস্থা করছে। এর মাধ্যমে নিজেরাই স্বীকার করেছে- তাদের দলটি দুর্নীতির দল। এই ধরনের দুর্নীতির দল ক্ষমতায় থেকে দেশের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। এটা প্রমাণিত সত্য। দুর্নীতি, হত্যা, মানুষ খুন, মাদক- এটাই হচ্ছে তাদের চরিত্র। যে কারণে তারা কখনও দেশের কল্যাণ ও উন্নতি করতে পারেনি। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় গিয়ে গঠিত দল জনগণকে কিছু দিতে পারে না। তারা চুরি করতে পারে। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে আজ তাদের নেত্রী জেলে। আবার জেলে যাওয়ায় তার অবর্তমানে এমন একজনকে চেয়ারপারসন হিসেবে নিয়োগ করলো, যে দুই দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। একটিতে ৭ বছর অন্যটিতে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হলে গেল বিএনপির চেয়ারপারসন।

রাজনীতিটা হয়ে গিয়েছিল শো-অফ করার জন্য
বর্ধিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এদেশে রাজনীতিটা হয়ে গিয়েছিল শো-অফ করার জন্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আমরা একদম প্রান্তিক মানুষ পর্যন্ত চলে গিয়েছি। একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি, এটা নিজেদের ভোগ বিলাসের জন্য না। আমরা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি। মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, সে চিন্তা করাটাই একজন রাজনীতিকের জীবনের বড় সম্পদ। রাজনীতি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, দেশ গড়ার জন্য। এসময় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে যারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল, যারা ক্ষমতার আশেপাশে ছিল শুধু তাদেরই ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি। তিনি আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষ খুন করেছে। দুর্নীতি করেছে। অত্যাচার করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ মানুষের ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা মানুষের জন্য কাজ করেছি। যার কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এর আগে স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জানতেন ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করবে এবং পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না, এ কারণে অনেক প্রস্তুতি প্রয়োজন। সে কারণে তিনি লন্ডনে বসে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু সেসব বিষয় তখন মুখে বলেননি। তিনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে স্বাধীনতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন। ৭ই মার্চের ভাষণে তিনি গেরিলা যুদ্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ২৫শে মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করি এবং বিশ্বজনমতের কারণে স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি বাহিনী। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, দেশে ফিরে এসেই যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব তুলে নেন বঙ্গবন্ধু। পৃথিবীর ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিশ্বের কোনো দেশ থেকে কোনো মিত্রবাহিনী ফেরত যায়নি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় বাহিনীকে ফেরত নেন। এটাও হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কারণে। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘১৯৭৫ সালে পরিবার হারিয়ে আমি আওয়ামী লীগের কাছেই বাবার ভালোবাসা পেয়েছি, মায়ের ভালোবাসা পেয়েছি, ভাইয়ের ভালোবাসা পেয়েছি। আওয়ামী লীগের মধ্যেই আমি আমার পরিবারকে পেয়েছি।

অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে দলের ইমেজ নষ্ট করবেন না: সভায় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে দলের ইমেজ নষ্ট করবেন না, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন না।  দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই হবেন। আপনাদের এসিআর জমা আছে। দলীয় সভাপতির হাতে ছয় মাস পরপর এসিআর আসছে। শিগগিরই আরেকটি জরিপ রিপোর্ট আসবে। দল হোক বা জোট হোক আমরা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও উইনেবল প্রার্থী মনোনয়ন দেবো।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণিল সাজ: রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় ও গণভবন পর্যন্ত সড়ক, শাহবাগ থেকে বিজয় সরণি হয়ে গণভবন পর্যন্ত সড়কে বর্ণিল সজ্জায় সজ্জিত করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনের স্থান, ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়, গণভবন পর্যন্ত ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে সজ্জিত করা হয়। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রবেশের রাস্তার দুইপাশসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর দুইপাশে বড় বড় বিলবোর্ড দলীয় ঐতিহ্য, অর্জন, সাফল্য ও সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন ফুটওভার ব্রিজগুলোতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত রঙিন ব্যানার শোভা পায়।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের দাবি
দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, দলের তৃণমূলের নেতারা একমঞ্চে ওঠেন না, কেউ কারো চেহারাও দেখতে চান না। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেয়া হয়। আওয়ামী লীগকে হারানোর জন্য আওয়ামী লীগই যথেষ্ট। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বর্ধিত সভায় দলটির ৮টি বিভাগ থেকে আটজন জেলা নেতা বক্তব্য রাখেন। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে কেন্দ্রীয় টিম গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বেনজির আহমেদ আরো বলেন, ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু আমাদের সমস্যা হচ্ছে দলের কোন্দল। তৃণমূলে একই সঙ্গে কর্মসূচি পালনের কোনো পরিবেশ নেই। দলে অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে এখনই পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অন্য নেতারাও।

তারা বলেন, জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগকে হারানো যাবে না। আওয়ামী লীগকে হারাতে আওয়ামী লীগই যথেষ্ট। অনু্‌প্রবেশ ঠেকানো না গেলে নৌকার সলিল সমাধি হবে বলেও তারা অভিযোগ করেন। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাকিবিল্লাহ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, নতুন করে অনেকে নৌকায় ওঠার কারণে আমাদের পেছনে ভিজে যাচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে নৌকার সলিল সমাধি হবে। নৌকা তীর খুঁজে পাবে না।’ তিনি বলেন, ‘জিয়া আর মুশতাকের প্রেতাত্মারা নৌকার ওপর ভর করেছে। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি পঁচাত্তরের রক্তাক্ত প্রান্তরে যারা নৌকার সঙ্গে ছিল, তাদের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করেন। সভায় গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, কী পেলাম, কী পেলাম না, সেই চিন্তা না করে নৌকার জন্য কাজ করতে হবে। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন-অর রশীদ তার বক্তব্যে দুর্দিনে যারা দলের সঙ্গে ছিলেন তাদের মূল্যায়নের দাবি জানান। তিনি পদ্মা সেতুর নাম শেখ হাসিনার নামে রাখার প্রস্তাব করেন। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তার বক্তব্যে আসন্ন সিটি নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়ায় শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তার পক্ষে কাজ করার জন্য রাজশাহীর আশেপাশের জেলা নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগের পক্ষে ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভু, চট্টগ্রামের পক্ষে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির, সিলেটের পক্ষে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেসার উদ্দিন আহমেদ।

বাজেটের পর ইউপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক
শনিবার অনুষ্ঠিত দলের বর্ধিত সভা শেষে বাজেট পাসের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দলসমর্থিত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গণভবনে ডাকবেন। তিনি বলেন, এই বৈঠকের পর তিনি ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে  বৈঠক করবেন। গণভবনের স্বল্প পরিসরে সবার স্থান সংকুলান হবে না বলেই তিনি আলাদা বৈঠকের চিন্তা করেছেন। বাজেট পাস হওয়ার পরে কোনো একটি দিনক্ষণ ঠিক করে তাদের ডাকা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ

কসবায় ট্রেন লাইনচ্যুত, বন্ধ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলযোগাযোগ

শোকে মাতমে তাজিয়া মিছিল

নাঙ্গলকোটে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে পড়ে চারজন নিহত

বইটি তিনি এসময় প্রকাশ না করলেও পারতেন

দেশবাসীর প্রতি অঙ্গীকার ঘোষণা আসছে শনিবারের সমাবেশে

‘বঙ্গভবনে পৌছে দেখলাম...’

‘ভুয়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশে ইন্ধন দিচ্ছে সরকারী এজেন্সিগুলো’

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ বেআইনি : ফখরুল

জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

বেনাপোল সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার

‘শুরু থেকেই চাপ ছিল, আমি যেন বলি অসুস্থ’

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে নারী বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩

ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার