নির্দলীয় সরকারের দাবি বিরোধী নেতাদের

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৯
আওয়ামী লীগ বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা বললেও অন্য দলের নেতাদের দাবি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা ও সংসদ ভেঙে দেয়ারও  দাবি তাদের। গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে ছোট আকারের মন্ত্রিসভা হবে এ সময়। তার এ বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপিসহ অন্য দলের নেতারা বলছেন, আগে থেকে নির্দলীয় সরকার গঠনে তাদের যে দাবি ছিল সেই দাবি নিয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তেমন কোনো সরকার জাতি চায় না। জাতি যেহেতু চায় না, তাই সেটা হবেও না।
বর্তমান সরকার একটি অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার। একটি অবৈধ অবস্থানে দাঁড়িয়ে তারা এসব কথা বলছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারও জমিদারি নয়, গণতন্ত্র ও নির্বাচন কোনো অনুদানের বিষয়ও নয়। কারও অনুদান বা সাহায্যের উপর এগুলো নির্ভর করে না। এগুলো জাতির অধিকার। এ অধিকার ফিরে পাওয়া ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন। যে সরকার হবে দল-মত ও দেশের নাগরিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য। এর ব্যতিক্রম কিছু করার সুযোগ নেই। সেটা কেউ মেনেও নেবে না। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন- বিএনপি সে নির্বাচনে গেলো কি গেলো না তাতে তাদের কিছু যায়-আসে না। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের কিছু যায়-আসে কিনা সেটা জাতির বিবেচ্য বিষয় নয়। জাতির বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে- তাদের কিছু যায়-আসে কিনা সেটা। নির্বাচনের মাধ্যমে তারা ভোটাধিকার, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন ও দেশের মালিকানা ফিরে পাচ্ছে কিনা- সেটাই জাতির কাছে মূল বিবেচ্য। জাতির নিজস্ব স্বার্থ ও নাগরিক স্বার্থই সবার কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। জনগণ এগুলো ফিরে পেতে চাইলে, দেশের মালিকানা ফিরে পেতে চাইলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই। আর সেটা হতে পারে একমাত্র নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে নয়।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব এ বিষয়ে বলেন, এটি তার (ওবায়দুল কাদের) দলের বক্তব্য। এই বক্তব্য আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো মন্তব্যও নেই। তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার-  নির্বাচনের তফসিলের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ একটি সরকার, পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া, মন্ত্রিসভা বাতিল,  প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ- হবে। এর পূর্বে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। আ স ম আবদুর রব বলেন, আমাদের দাবি পূরণ হওয়ার ব্যাপারে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হবে এবং আমরা পরিবর্তিত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই বক্তব্য সম্পর্কে কোনো  মন্তব্য করবো না। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এ বিষয়ে বলেন, তার (ওবায়দুল কাদের) এই বক্তব্য নতুন কিছু না। তিনি আগেও এ  ধরনের কথা বলেছেন। কেউ যদি বলে যে ‘আজকে গোলাপ ফুল ফুটেছে’ তাহলে এ বিষয়ে কি মন্তব্য করবো।

যদি তিনি বলতেন যে, আগামী নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকার থাকবে না, নতুন সরকার গঠিত হবে তাহলে কথা ছিল। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলতে কি বোঝায়, নির্বাচনকালীন সরকার বলতে উনি কি বোঝাতে চেয়েছেন সেই ব্যাখ্যা আগে তার কাছ থেকে পেতে হবে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার ছোট হবে না কি বড় হবে সেটি প্রশ্ন নয়। প্রশ্নটা হলো নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হবে কি না? তিনি বলেন, সরকারের চরিত্র ঠিক থাকবে, সরকারে যারা আছেন তারাই থাকবেন, যারা ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন তারাই থাকবেন এবং ইতিমধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন কোথাও বিশ্বাস জন্মাবার সুযোগটাও নষ্ট করা হয়েছে।

এতে করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিশ্বাস জন্মাবে না। তিনি বলেন, এই সরকার তার বিগত দিনের আচরণে নিরপেক্ষতার সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়েছে। এখন পক্ষপাতদুষ্ট কয়েকজন লোক বাদ দিলেও বাকি সবাই তো ওই লোকই থাকবে। তাতে বিরোধী দলগুলোর আস্থা তৈরি হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি হবে বলে মনে হয় না। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ওই ধারণা ঠিক আছে যে, নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট হবে, ওই সরকার নির্বাচনের বিষয়ে দায়িত্বগুলো পালন করবে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেটি নয়। এই সরকার নিয়মমাফিক সরকার। আর নির্বাচনকালীন সরকারের জন্য এই সরকারের দু’চারজন মন্ত্রী বাদ দিলেও কোন কিছু যায় আসে না। তিনি বলেন, আমাদের দাবি নির্দলীয় সরকার যেটি নির্বাচন পরিচালনা করবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘খালেদা জিয়াসহ সকল নেতাকর্মীর মুক্তির দাবি করছি’

সমাবেশে যোগ দিয়েছেন বি. চৌধুরী

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রিভিউয়ে পাঠাতে প্রেসিডেন্টের প্রতি সিপিজের আহ্বান

ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ শুরু

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মৌলিক অধিকার পরিপন্থি: সুজন

ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে গুলি, বহু হতাহত (ভিডিও)

প্রতিমা ভাংচুর করায় ইউপি সদস্য আটক

সাকা চৌধুরীর কবরের নাম ফলক উপড়ে ফেলেছে ছাত্রলীগ

কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু

পেট্রোল বোমাসহ ৫ শিবিরকর্মী আটক

বরিশালের উজিরপুরে ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

এবার সড়কপথে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা

ঐক্যের সমাবেশে বিএনপি নেতারা

নাটোরে গ্রেনেড উদ্ধার

যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

বন্দুক তাক করে থাকলে বিদেশে গিয়ে লিখবেন ছাড়া কি গণভবনে বসে লিখবেন ?