টর্নেডোর আঘাতে তছনছ চট্টগ্রাম বন্দর, নিহত ১

শেষের পাতা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ১৫ জুন ২০১৮, শুক্রবার
সকাল ৯টা। চট্টগ্রামজুড়ে তখন সন্ধ্যার ঘনঘটা। আর এই সময় প্রচণ্ড এক দমকা হাওয়ায় তছনছ হয়ে যায় চট্টগ্রাম বন্দর। এমনকি বন্দরের জেটিতে বেঁধে রাখা কনটেইনারবাহী একটি জাহাজও দড়ি ছিঁড়ে কর্ণফুলী নদীর মাঝখানে চলে যায়। আহত হয় ২০-২১ জন শ্রমিক। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা পরিষদের সদস্য মো. জাফর আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১৪ই জুন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আকাশে গুমোট অবস্থা। ঘনকালো মেঘে চট্টগ্রামজুড়ে নেমে আসে সন্ধ্যার আবহ। এরমধ্যে সকাল ৯টার দিকে আঘাত হানে প্রচণ্ড শক্তিশালী টর্নেডো।
এ সময় বন্দরের অভ্যন্তরের সিসিটি ইয়ার্ডে সারি সারি করে একটির ওপর একটি রাখা শত শত পণ্যভর্তি ও খালি কনটেইনার দমকা হাওয়ায় উড়ে ছিটকে পড়ে এলোমেলো হয়ে যায়। ভেঙে যায় ডক অফিসের সীমানা প্রাচীর (ফেন্সিং ওয়াল)। ৯, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৭ নম্বর শেডের ছাউনি উড়ে গিয়ে তছনছ হয়ে পড়ে। আকস্মিক এই টর্নেডোর আঘাতে এসব শেডে কর্মরত অন্তত ২০-২১ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। ডক শ্রমিক হাসপাতালে তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে রাসেল দে (৩০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।
বন্দরের টার্মিনালের ব্যবস্থাপক গোলাম মো. সারওয়ারুল ইসলাম জানান, টর্নেডোটি ছিল বন্দরকেন্দ্রিক। এটি প্রচণ্ড বেগে আঘাত হানে বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ডে। মাত্র ৪০-৪২ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল টর্নেডোর আঘাত। এ সময় পণ্যভর্তি ও খালি শত শত কনটেইনার শেড থেকে উড়ে গিয়ে এলোমেলো হয়ে যায়। কিছু শেডও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া জেটিতে অবস্থানরত একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ এমভি ওইএল স্ট্রেইটস দড়ি ছিঁড়ে কর্ণফুলী নদীর মাঝখানে চলে যায়। জাহাজটিতে বোঝাই করা শত শত কন্টেইনারের সারি ভেঙে পড়ে। এরমধ্যে অনেক কনটেইনার কর্ণফুলী নদীর পানিতে পড়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে টাগ বোটের সহায়তায় জাহাজটি পুনরায় জেটিতে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। শেডে উড়ে  যাওয়া কনটেইনারগুলো আবার আগের জায়গায় রাখার কাজ শুরু হয়েছে। শেডে আহত শ্রমিকদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে। নিহত রাসেল দে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন এলাকার রণজিৎ দেব-এর পুত্র বলে জানান তিনি।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. ফরিদ মিয়া জানান, চট্টগ্রামে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস ছিল। সকল নদীবন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্কতা বহাল ছিল। কিন্তু ভারি বর্ষণের বদলে থেমে থেমে টিপ টিপ বৃষ্টি হচ্ছে। তবে মানুষের মনে ভয় জাগানোর মতো ঘনকালো মেঘ জমেছে আকাশে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আঘাত হানলো টর্নেডো।
এটি ছিল শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক। এর আশেপাশের কোথাও কোনো দমকা হাওয়া পর্যন্ত হয়নি। এ রকম টর্নেডো আরো আঘাত হানতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন ফরিদ মিয়া।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

চলে গেলেন কফি আনান

খাগড়াছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহত ৭

ছিনতাইকারীদের কল্যাণ তহবিল ৮ লাখ টাকা উদ্ধার

‘মত প্রকাশের জগৎ ছোট হলে গুজব ছড়ায়’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরানের শপথ

গুজব ছড়াতে ফারিয়া ধারণকৃত অডিও প্রচার করেছেন- র‌্যাব মহাপরিচালক

দুর্ভোগ সঙ্গী করেই বাড়ি ফিরছে মানুষ

দৃষ্টি হাসিনা-মোদি বৈঠকের দিকে

খালেদার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

এইচএসসিতে ৩২৯১ জনের ফল পরিবর্তন

সড়ক নিরাপদ করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা

চলছে দর দাম বিক্রি কম

বিমানের প্রথম ড্রীম লাইনার আসছে কাল

‘বিএনপি না এলে, ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করব’

রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ড. কামাল ও কাদের সিদ্দিকীর বৈঠক

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নামে ফেইক অ্যাকাউন্ট থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ