‘বাজারে চায়না ভারতীয় জুতার আগ্রাসন’

দেশ বিদেশ

মো. রফিকুল ইসলাম, ভৈরব থেকে | ১৪ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পাদুকার বাজারে ভারতীয় ও চায়না জুতার দখলের কারণে হাতের তৈরি দেশীয় পাদুকা শিল্পে ধস নেমেছে। ঈদ ঘনিয়ে এলেও বেচাকেনা ভালো হয়নি। ফলে পাদুকার সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার কারিগর, কারখানার মালিক ও ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বাহারি ও নান্দনিক হাতের তৈরি পাদুকার উপকরণ ফোম, পেস্টিং, রাবার, রেক্সিনসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও কারিগরের মজুরি দিয়ে যে উৎপাদন খরচ পড়ে। সে তুলনায় দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা ভারতীয় ও চায়না জুতা কিনতে আগ্রহী বেশি। তাই ঈদের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে দু’চোখে ঝাপসা দেখছেন পাদুকা ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার পরেই বন্দরনগরী ভৈরবে দেশের দ্বিতীয় পাদুকার পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে। ফলে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ, শিবপুর ও গজারিয়াসহ শহরের কমলপুর এবং শম্ভুপুর এলাকায় অন্তত ৬ হাজারের অধিক কারখানার রয়েছে।
এসব কারখানায় প্রায় ৬০ হাজারের বেশি কারিগর কাজ করছেন। এছাড়াও কারখানায় উৎপাদিত পাদুকা পাইকারি বিক্রির জন্য শহরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি মার্কেট। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা ভৈরবে জুতা কিনতে ভিড় করেন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দৃষ্টি নন্দন ও বাহারি রঙের জুতা পাইকারদের নজর কাড়ে। তাছাড়া দাম ও পরিবহন খরচ কম হওয়া এখানে সারা বছরই কমবেশি পাদুকা বেচাকেনা হয়। ফলে রমজানে ঈদকে সামনে রেখে এখানে দৈনিক কোটি কোটি টাকার পাদুকা বেচাকেনা হয়। তাই পাদুকা তৈরির কাজে কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করেন। সকাল থেকে ভোর পর্যন্ত কাজ করেন তারা। ঠিকমতো নাওয়া-খাওয়ার সময় পান না কারিগররা। কিন্তু এবারের চিত্র অনেকটা ভিন্ন। পাইকারি মার্কেটগুলোতে তেমন কোনো ভিড় নেই।
কারখানার মালিক আবদুর রহমান জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও কারখানায় পুরোদমে কারিগররা কাজ শুরু করে। কিন্তু মার্কেটে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় অনেকটা বেকায়দায় পড়েছেন তিনি।
শাহীন সুজের স্বত্বাধিকারী মো. শাহীন আলম জানান, বাজারে ভারতীয় ও চায়না জুতার দখলের কারণে দেশীয় পাদুকার খুবই নাজুক অবস্থায়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর এই সময়ে তিনি অর্ধেক টাকাও বেচাকেনা করতে পারেননি। অথচ সরকার প্রতি বছর দেশীয় শিল্প বিকাশে নানারকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু বাজারের চায়না ও ভারতীয় জুতা আমদানি ও বিক্রি কারণে দেশীয় পাদুকা শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে।
ভূইয়া সুজের মালিক মো. জহির ভূইয়া মনে করেন, সরকার বাজারে চায়না ও ভারতীয় জুতা বিক্রি বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই আশা করেন পাদুকার সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার কারিগর, কারখানার মালিক ও ব্যবসায়ীরা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ কাজী ফয়সাল বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রকৃত নির্বাচন দেখতে চান ইউরোপের কূটনীতিকরা

‘ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল করব’

মিরপুর থানা বিএনপি সভাপতিসহ ৩জন গ্রেপ্তার

অবশেষে নির্বাচনী দৌড়ে হিরো আলম

খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ কাল

‘নির্বাচনে আপনারা তো হেরে যাচ্ছেন ইনশাআল্লাহ’

‘বৃটেন এখনও অনুচ্ছেদ ৫০ রদ করতে পারে’

তাজমহলে প্রবেশমূল্য বেড়েছে

রাতেই দেশ ছাড়ছেন এরশাদ

নাজিব রাজাক গ্রেপ্তার

সিইসিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি

জবরদস্তি সত্ত্বেও জনগণ ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দেবেই: নজরুল

তেরেসা মে’র সতর্কতা

ধানের শীষ প্রতীক পেলেন রেজা কিবরিয়া

হানিমুনেই মৃত্যু!

গোপন বৈঠক করছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা: রিজভী