আসাম সীমান্তে বাংলাভাষীদের নির্ঘুম রাত

বিশ্বজমিন

টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট.মানবজমিন ডেস্ক | ১৪ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
বশিরহাটের কাছে আসামের ৮৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা। তার পাশেই কুচবিহারের গ্রামবাসীদের নির্ঘুম রাত কাটছে। অনেক বছর আগে এসব গ্রামের বহু যুবতীর বিয়ে নিয়ে পরিবারগুলোতে আতঙ্ক। যেসব যুবক বা ব্যক্তির সঙ্গে তাদের বিয়ে হয়েছে তাদেরকে বাংলাদেশি হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। আসামে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা নিয়ে যে প্রক্রিয়া চলছে তার শিকার হতে পারেন এসব পুরুষ। ফলে ওই পরিবারগুলোতে তাদের মেয়েদের নিয়ে, তাদের পরিবার নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়েছে, আসামে নাগরিকত্ব বিষয়ক ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন (এনআরসি) আধুনিকায়ন করা হয়েছে বা হচ্ছে।
এর ফলে প্রায় ৬৯০০০ বাংলাভাষী পুরুষ, যারা ডি- ভোটার (ডাউটফুল ভোটার), তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। তাই সীমান্তের অন্যপাড়ে ছাগুলিয়া, ফেলাকুরা, আগামোনি ও গোলাপগঞ্জ গ্রামে উত্তেজনার পারদ বাড়ছেই। কয়েক মাস আগে আসামে এমন বাংলাভাষীদের মধ্যে তাদের পূর্ব পুরুষদের সন্ধান বের করতে হিমশিম খেতে হয়। তারা নিজেদেরকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ দিতে মরিয়া হয়ে যান। তৃণমূল এমএলএ উদয়ণ গুহ বলেছেন, এখনো আসামের অনেক মানুষ আমাদের কাছে আসছেন। তারা অনুরোধ করছেন একটি সনদের জন্য। তাতে যেন বলে দেয়া হয় তাদের পিতামহরা কুচবিহারের অধিবাসী ছিলেন এবং তাদের নাম যেন ভোটার তালিকায় থাকে। আমরা এমন ব্যক্তিদের সনদ দিয়েছি। কিন্তু ডি-ভোটার হিসেবে অভিহিত হওয়া থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি সনদই যথেষ্ট নয়। কারণ, তাদেরকে সময়ে অসময়ে স্থানীয় প্রশাসন থেকে তলব করা হয়েছে। এমন কি বৈদেশিক বিষয়ক ট্রাইব্যুনালও অনেক মামলাকে শুধু সনদের ওপর ভিত্তি করে সন্তোষজনক রায় দেয়নি। এ মাসের শেষের দিকে দ্বিতীয় এনআরসি তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এমনই নির্দেশনা রয়েছে। এ তালিকা প্রকাশ হয়ে গেলে এসব মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাবে। বিষয়টিতে বিরক্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১১ই এপ্রিল ফিরহাদ হাকিম, গৌতম দেব ও রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছেন আসামে। এ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, আসামের বিভিন্ন এলাকায় ডি-ভোটার, যারা বাংলাভাষী, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি আমরা। তাদের অভিযোগ, অনেক ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন সনদপত্রকে প্রত্যাখ্যান করছে। খারাপ বিষয় হলো প্রশাসন এরই মধ্যে তিনটি স্থানে বন্দিশিবির স্থাপন করেছে। সেখানে কিছু ডি-ভোটারকে আটকে রাখা হয়েছে। আমি এমন কিছু বন্দিশিবিরে গিয়েছি। তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি আমি প্রকাশ্যে বর্ণনা করতে পারবো না।
তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসাম থেকে বিজেপির আটজন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ভিত্তিতে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। যে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তা রক্ষা করতে না পারার জন্য তাদের সবারই পদত্যাগ করা উচিত। যদি আসাম বাংলাভাষীদেরকে ‘বিদেশি’ হিসেবে অভিহিত করে তাহলে তাদের জন্য দরজা উন্মুক্ত করে রেখেছেন মমতা সরকার।







এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শাহবাগে ‘অবস্থান’ কর্মসূচি ঘোষণা সাধারণ ছাত্র পরিষদের

ক্রিমিয়ায় কলেজে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১৮

মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজা সম্পন্ন

সম্পাদক পরিষদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন সাংবাদিক নেতাদের

পদত্যাগ করলেন এম জে আকবর

এইচটি ইমাম অসুস্থ, হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়েছে

ম্যান বুকার পেলেন আইরিশ লেখিকা আনা বার্নস

ইঁদুর গিলছে ধান!

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে

লাহোরে শিশু জয়নাবের ধর্ষক ও হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর

বাহুবলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক আটক

তিতাসের ৫ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

বৈশ্বিক সক্ষমতায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

পাকিস্তান চায় মার্কিন সেনারা আফগানিস্তানে থাকুক

ঢাবিতে 'গ' ইউনিটে ফেল করা পরীক্ষার্থী 'ঘ' ইউনিটে প্রথম

কুচকাওয়াজে হামলার মূল হোতাকে হত্যার দাবি ইরানের