ভারতীয় কাপড়ে ফেনীর ঈদবাজার সয়লাব

বাংলারজমিন

নাজমুল হক শামীম, ফেনী থেকে | ১৩ জুন ২০১৮, বুধবার
ফেনীতে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। রোজা শুরুর প্রথম দিকে বেচা-কেনা তেমন জমে না উঠলেও শেষ দিকে এসে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শহরবাসী এখন কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পর করছেন। ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসে বাজার সয়লাভ হলেও পণ্যের উচ্চ মূল্যে ব্যবসায়িক মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন শহরের বড় বড় শপিংমল ও ফুটপাথগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তসহ নানা শ্রেণির ক্রেতা। এবার গরমে ঈদ হওয়ায় মেয়েদের পোশাকে বেশি পছন্দ ‘ভারতীয় থ্রি-পিস’, আর ছেলেদের সুতির ‘লং পাঞ্জাবি’।

প্রবাসীর অর্থে নির্ভরশীল পরিবারগুলো জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও অঞ্চল থেকে ফেনী বাজারে এসে কেনা কাটায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা। আগের বছরগুলোর তুলনায় ঈদ কেনাকাটায় বিক্রেতারা পণ্যের আকাশচুম্বী দাম হাঁকায় ক্রেতাদের কেনাকাটা কিছুটা নিম্নমুখী।
শহরের গ্র্যান্ড হক টাওয়ার, শহীদ হোসেন উদ্দিন বিপণী বিতান, গ্রীন টাওয়ার, এফ রহমান এসি মার্কেট, জুম্মা শপিং কমপ্লেক্স, তমিজিয়া শপিং কমপ্লেক্স, রোকেয়া শপিং সেন্টার, ফেনী সেন্টার, ফেনী প্লাজা, সিটি প্লাজা, মহিপাল প্লাজা, আহম্মদ প্লাজা, রহমান মার্কেট, জামাল মার্কেট, গুলশান মার্কেট, বনানী মার্কেট, নিউ মার্কেট, লাভ মার্কেট, সমবায় সুপার মার্কেট, ইব্রাহিম হোসেন মার্কেট, আলম মার্কেট, জগন্নাত বাড়ী মার্কেট, এসকে সুপার মার্কেট, আপ্যায়ন টাওয়ার, আলী আহম্মদ টাওয়ার, হাজী লতিফ টাওয়ার, জহিরিয়া টাওয়ার, জেসি টাওয়ার, সওদাগর পট্টি ও খদ্দর পট্টিতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। এছাড়া শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে অবস্থিত একাধিক বুটিকস্‌ হাউজে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাজাঝির দীঘির পাড়ের ফুটপাথের দোকানগুলোতে কেনাকাটা বেড়েছে। তবে পণ্য সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে বিরক্তির ছাপও লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি মার্কেটেই মেয়েদের নতুন নতুন মডেলের থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এবার ভারতীয় ছবি ও সিরিয়ালের নামে পাখি, সারারা, কিরণমালা, ফ্লোরটাচ্‌, মাজাক্কালীর মতো তরুণীদের কোনো ঈদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে না। প্রতিটি শপিং মলেই পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয় থ্রি-পিস, ভারতীয় সিল্ক, ভারতীয় কাতান, পঞ্চফুরি কাতান, সাউথ কাতান, জুট কাতান, মীরপুরী কাতান, কাঞ্চিবরণ, জর্জেট শাড়ী, টাঙ্গাইল শাড়ী, তাঁতের শাড়ি, জামদানি, ঢাকাইয়া জামদানি, মুসলিম জামদানি, সুতি জামদানি। মেয়ে শিশুদের আকর্ষণীয় জামার পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে লেহেঙ্গা। ছেলেদের পাঞ্জাবির মধ্যে আড়ং, পেয়াজ কটন, ইউলো, লুভান, সিল্ক, অ্যান্ডি, ধুপিয়ান, তসর, ক্যাজুয়াল, কিউজি, বোম্বে শেরওয়ানি, চুনরি কাজের পাঞ্জাবি বিক্রি হলেও এসবের চেয়ে সাদা রঙের পাঞ্জাবির চাহিদা একটু বেশি বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। পাঞ্জাবির পাশাপাশি ডেনিম, ক্যান্ডি, আরমানি, ডেসকাট ব্র্যান্ডের জিন্স প্যান্ট বেশি বিক্রয় হচ্ছে। এছাড়া থাই, চায়না, ইন্ডিয়ান, গ্যাবাডিং প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে। শার্টের মধ্যে ইন্ডিয়ান, মিউজিক, জিনাক, মুফতি ও বিভিন্ন ডিজাইনের কদর বেশি।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, মেয়েদের থ্রি-পিস দুই হাজার ৫শ’ থেকে ২০ হাজার, ভারতীয় লেহেঙ্গা ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার, মুসলিম ও ঢাকাইয়া জামদানি শাড়ি দুই হাজার থেকে সাত হাজার, ভারতীয় সিল্ক শাড়ি দুই হাজার থেকে ৫ হাজার, সুতি তাঁত, টাঙ্গাইল ও বালুচুরি শাড়ি ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের পাঞ্চাবি পেয়াজ কটন, সিল্ক, অ্যান্ডি, ধুপিয়ান, তসর, ইনভয়েস, খদ্দি, মাইনোভার, সুলতান এক হাজার থেকে সাত হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। জিন্স বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫শ’ থেকে তিন হাজার ৫শ’ টাকায়।
গ্র্যান্ড হক টাওয়ারের ‘আমব্রেলা’ ব্রন্ডের শো’রুমে জমজমাট বেচাকেনা হচ্ছে। ছেলেদের ফ্যাশনেবেল পাঞ্চাবির পাশাপাশি মেয়েদের থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জানালেন নতুন শো-রুম হলেও আশানুরূপ বিক্রি করতে পেরে তারা খুশি।
শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের রহমান মার্কেট থেকে নুরুল আমিন হৃদয় তার তিন মেয়ের জন্য ভারতীয় জামা কিনেছেন। প্রতিটি জামা ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে পারলেও অন্যবারের চেয়ে এবার কাপড়ের দাম কিছুটা বেশি বলে অভিযোগ করেছেন।
শহরের বড় বাজারের দর্জি পট্টির ‘মনেরেখো’ শো’রুম থেকে মাদ্‌রাসা শিক্ষক শাহ্‌জালাল ভূঁইয়া তার মা, শাশুড়ি ও বোনের জন্য তিনটি শাড়ি কিনেছেন। দাম কিছুটা বেশি হলেও পছন্দনীয় শাড়ি পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শহরের বৃহৎ শপিং মল ‘গ্র্যান্ড হক টাওয়ার’ ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি আনোয়ার হোসেন শাহীন জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত শহরে গত কয়েক বছর প্রবাস থেকে বেশিসংখ্যক মানুষ দেশে ফিরে আসায় এবার ব্যবসায়িক অবস্থা মন্দা। তবুও শেষ রমজান পর্যন্ত জমজমাট ব্যবসার আসায় ব্যবসায়ীরা।
এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সোহেল রানা জানান, শপিংমলগুলোতে প্রথম রোজা থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করায় বিক্রেতারা অধিক মুনাফা করতে পারছেন না। এছাড়া রমজানের শুরুতে গ্র্যান্ড হক টাওয়ার ‘মায়াবী’তে ভারতীয় থ্রি-পিস ক্যাশমেমো ছাড়া ক্রয় ও উচ্চমূল্যে বিক্রয়ের অভিযোগে দোকান মালিককে লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর হামলা চালালে আদালত দোকান মালিক শামসুল আলমকে (৫০) সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, কর্মচারী ফরহাদ ইয়াছিনকে (২০) বিশদিন, কর্মচারী জহিরুল ইসলাম বাবুকে দুই মাস ও জামাল উদ্দিনক (২০) বিশদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

স্বামীর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর ৬ নির্দেশনা

দ্রুত অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেয়ার নির্দেশ ট্রাম্পের

ব্রাজিলের উপদেষ্টা হলেন রোনাল্ডো

নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল

আর্জেন্টাইন স্কোয়াডকে উৎসাহী করতে চান মারাডোনা

গাজীপুরে সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় পুলিশ: রিজভী

ভারত থেকে বাংলাদেশে তিন বছরে চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে

মংলা বন্দর উন্নয়নে ভারত আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে

বিশ্বকাপের আড়ালে ক্রেমলিনের চিত্র কি!

মেসির জন্মদিনে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে ধুমধাম আয়োজন

এক মাসেও শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের দ্বার খোলেনি

‘মাহমুদ আব্বাসকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র’

১৯৭১: নিক্সনের রাজনৈতিক সমাধার চেষ্টা ব্যর্থ ভারতের কারণে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১

কুমিল্লার নাশকতার মামলায় খালেদার জামিন বিষয়ে আদেশ আগামীকাল