নেতার নির্দেশনা নিতে লন্ডন এসেছি

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনা নিতেই লন্ডন গেছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশ এক মহাসংকটে নিপতিত, গণতন্ত্র শৃঙ্খলিত। দেশের মাটি মানুষের নেত্রী, গণতন্ত্রের মা আজ কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি। এ অবস্থায় আমাদের প্রিয় নেতার নির্দেশনা নিতে লন্ডনে এসেছি। রোববার পূর্ব লন্ডনের রয়্যাল রিজেন্সি হলে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এ কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মির্জা আলমগীর বলেন, কেবল একটি মাত্র কারণে আমি লন্ডনে এসেছি। নেতার সঙ্গে কথা বলার জন্য, নেতার দিকনির্দেশনা নেয়ার জন্য। মির্জা আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি চরম অন্যায় করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেই মামলা মোকাবিলা করতে গিয়েও তিনি ন্যায়বিচার পাননি। খালেদা জিয়ার মামলাটি এমন কোনো মামলা নয় যে তাঁকে জামিন দেয়া যাবে না। কিন্তু সম্পূর্ণ গায়ের জোরে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে। এটা সরকারের একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নের নীলনকশা ছাড়া আর কিছুই না। আওয়ামী লীগ দেশনেত্রীকে প্রধান প্রতিপক্ষ মনে করে বলেই তারা চাচ্ছেন নেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখে কিভাবে জীবনাবসান ঘটানো যায়। তিনি বলেন, কারাগারে বন্দি আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি পড়ে গিয়েছিলেন, হোঁচট খেয়ে পড়ে যাননি। অসুস্থতার কারণে পড়ে গিয়েছিলেন। খালেদা জিয়াকে পুরোনো নির্জন কারাগারের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে আটকে রেখে, চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। মির্জা আলমগীর বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ৭৮ হাজার মামলা রয়েছে বর্তমানে। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। ১৮ লাখ লোককে আসামি করা হয়েছে। সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলীসহ পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গুম করা হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে এ সরকারের আমলে। সংবিধানের একটি রায়কে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আমরা কার কাছে বিচার চাইতে যাবো? মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছে। বাংলাদেশে প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। কোন খবর যাবে না যাবে, টক শোতে কারা কথা বলবে, সেসবও ঠিক করে দিচ্ছে সরকার। মির্জা আলমগীর বলেন, দলের ঐক্য অটুট আছে। বহু চেষ্টার পরও আজ পর্যন্ত বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে পারেনি সরকার। দলের একজন নেতাকর্মীকেও নিতে পারেনি। হতাশার কোনো কারণ নেই। রাত্রির পরেই হবে নতুন সূর্যোদয়। বাধাবিপত্তি আসবে, সংগ্রাম করে যেতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গঠনের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা খুব আশাবাদী, দেশে জাতীয় ঐক্য তৈরি হবে। আমাদেরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ধৈর্য, সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি, যেদিন খালেদা জিয়া কারামুক্ত হবেন এবং তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরবেন। তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে আপনি নেতার আসনে আসীন হয়েছেন। আপনার চলার পথ মোটেই কসুমাস্তীর্ণ ছিল না। আপনার দিকে দেশবাসী প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। দেশকে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে আনার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সহস্রাধিক বিএনপি সমর্থক প্রবাসী নেতাকর্মী বৃহত্তম এই সমাবেশে যোগ দেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘যথাযথ বাজেট না হলে ভালো নাটক সম্ভব না’

তুরস্কে ফের এরদোগান ম্যাজিক

জাপান-সেনেগাল রোমাঞ্চকর ড্র, জয়ে আশায় কলম্বিয়া

১০ই জানুয়ারি জেনারেল মইনের ফোন পাই

নিষেধাজ্ঞা ভেঙে গাজীপুরে নওফেল

ইংল্যান্ডের বাজিমাত

টালমাটাল আর্জেন্টাইন শিবির, মেসিদের দেখা পেলেন না ম্যারাডোনা

বিশ্বকাপে ব্যস্ত চার বাংলাদেশি ভলান্টিয়ার

ব্যাংক কেলেঙ্কারির হোতাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে

কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না

ভিক্ষাবৃত্তিতেও প্রতারণা

মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রস্তুতি কামরানের

এমপি পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

রাজশাহীতে বিএনপি প্রার্থী বুলবুল বরিশালে সরোয়ার

কুমিল্লার এক মামলায় খালেদার জামিন প্রশ্নে আদেশ ২রা জুলাই

বাজেটে সুদের হার সমন্বয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির হিড়িক