মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে নতুন আইন

দেশ বিদেশ

সংসদ রিপোর্টার | ১২ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
মাদক সম্রাট বা মাদক গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা ধরে অভিযান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাদক ব্যবসায় জড়িত মাস্টারমাইন্ডরা সহজেই যাতে পার পাওয়া না যায় সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা রেখে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত আইনে মাদক ব্যবসায়ীর পৃষ্ঠপোষক ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ এ মাদক অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রয়েছে। তবে বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যক্তির দখলে/কর্তৃত্বে/অধিকারে মাদকদ্রব্য না পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে মাদক ব্যবসায় জড়িত মাস্টারমাইন্ডরা সহজেই পার পেয়ে যায়। এ কারণেই নতুন আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
এ আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতাদানকারী কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ক্ষমতায়িত করা হচ্ছে। সরকারি দলের ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মাদক সমস্যা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদকদ্রব্যের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত। বাংলাদেশে হেরোইন, কোডিন মিশ্রিত বিভিন্ন মাদক যা ফেনসিডিল হিসেবে পরিচিত, ইয়াবা ও গাঁজা আমদানি করা হয় না। এগুলো বিভিন্নভাবে আমাদের দেশে পাচার হয়ে থাকে।
তিনি জানান, ইয়াবা মূলত মিয়ানমার হতে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাচার হয়। দেশের অভ্যন্তরে মাদকদ্রব্য প্রবেশের সুযোগ বন্ধের বিষয়ে পাচারকারী/সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে সকল বাহিনীর সমন্বয়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সকল বাহিনী বদ্ধপরিকর। তাছাড়া ইয়াবা প্রবাহ বন্ধ করার ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ জোন স্থাপনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ইতিমধ্যেই কাউন্টার টেররিজম নামে নতুন একটি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিবর্গের গতিবিধির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরী এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধ যাতে সংঘটিত হতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ এসব অপরাধীকে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আওয়ামী লীগ ছাড়া জাতীয় ঐক্য হতে পারে না

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিবাদে সম্পাদক পরিষদের মানববন্ধন ২৯শে সেপ্টেম্বর

চাকরি না পেয়ে সুইসাইড নোট লিখে খুবি ছাত্রের আত্মহত্যা

আলোচনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৩ ধারা

ঢাকায় দুই থানায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আরো মামলা

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে ঐশ্বরিক কাজ করেছে বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ায় ৫৫ বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেপ্তার

আশা খোঁজার চেষ্টা

ইভিএম নিয়ে সন্দেহ দূর করতে হবে

নেত্রকোনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহে ২৭ মামলা

স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে

সই না করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি সিপিজে’র আহ্বান

মেজর মান্নানের প্রতিবাদ আমাদের ব্যাখ্যা

সিলেটে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রেশন পাচ্ছে কারা?

ছাত্রলীগের মারধরের ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ আহত