বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বাংলারজমিন

বান্দরবান প্রতিনিধি | ১২ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
বান্দরবানে গত কয়েকদিন ধরে টানাবর্ষণে দেখা দিয়েছে বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে পাহাড়ের মাটি। এর ফলে বন্ধ রয়েছে জেলা শহরের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার আন্তঃসড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এদিকে টানাবর্ষণের ফলে সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে অতিবাহিত হওয়ায় বালাঘাটার স্বর্ণমন্দির এলাকায় পুল পাড়ার বেইলি ব্রিজ ডু?বে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগা?যোগ ব্যবস্থা বন্ধ হ?য়ে গে?ছে। এ ছাড়াও লামা উপজেলায় বিভিন্ন এলাকা এবং বান্দরবান শহরের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগর, ওয়াপদা ব্রিজ ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, অব্যাহত বর্ষণের ফলে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। তাদের স্ব-স্ব এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে তাই পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে আশ্রয় নেয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী মজুদ রয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্র গুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে, প্রাণহানির ঘটনা এড়াতে আমরা সবচেয়ে বেশি জোড় দিচ্ছি। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলরায় প্রায় ১৫ হাজার পরিবার, রাঙ্গামাটি জেলার ১০টি উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার এবং খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের বসতি রয়েছে উঁচু-নিচু পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশেই। এসব পরিবার যুগ-যুগ ধরে বসবাস করলেও জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বর্ষায় কেবল মাইকিং করে কথিত নিরাপদস্থানে সরিয়ে যাবার নির্দেশ প্রদান করা ছাড়া বাস্তবমুখী কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি। পার্বত্য তিন জেলায় দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর উদ্যোগে অঢেল অর্থ ব্যয় দেখানো হয় ফি বছরই কথিত উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণসহ উদ্বুদ্ধকরণ কাজে। যেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই কিংবা সুযোগ বঞ্চিত সাধারণ মানুষ সেখানে আবার কথিত উন্নয়ন নিয়ে মহাভাবনায় মেতে থাকেন পাহাড়ের জনপ্রতিনিধি ও সমাজ নেতারা, ইহা খুবই দুঃখজনক এবং লজ্জারও বটে- এসব মন্তব্য ভূমি অধিকার বঞ্চিত ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান বিভিন্ন চুক্তি, ইস্যু ও স্থানীয় রাজনীতিকদের চাপিয়ে দেয়া ক্ষমতার দখল। শহরের ৯নং ওয়াডের ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা বিবি মরিয়ম ও কামাল হোসেন বলেন, মৃত্যুর মুখে থাকতে হয়- এমনটা জেনেই তারা স্বজনদের কাছ থেকে ১ বা ২ গন্ডা পাহাড়ি জমি নিয়ে এর ওপর কোনোমতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন যুগের পর যুগ। ৬নং বনরুপা এলাকার বাসিন্দা জরিনা বেগম ও খাতিজা বেগম বলেন, এক আত্মীয়ের দেয়া একখণ্ড পাহাড়ি ভূমিতেই ঘর নির্মাণ করে সেখানে বাস করছেন তারা। ইউনিয়ন, উপজেলা বা পৌরসভা ভিত্তিক পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদস্থানে পুনর্বাসন করার কোনো সরকারি পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি এখনো। ফলে প্রতিবছর বর্ষায় তিন পার্বত্য জেলায় কমপক্ষে শতাধিক মানুষের অকালে মৃত্যু ঘটে। এদিকে সদর উপজেলার কাসেমপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপা পাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া, কসাইপাড়াসহ লামা আলীকদম, নাইক্ষংছড়ি, রোয়াংছড়ি, থানছিও রুমা উপজেলা প্রায় ১৫ হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

এবার রোনালদোর পেনাল্টি মিস

কারেজমার গোলে এগিয়ে পর্তুগাল

প্রথমার্ধ শেষে ১-১ গোলে সমতা

রাশিয়াকে অনুপ্রেরণা যোগাতে গ্যালারিতে সেই নারী

মেসি বনাম মুসা ধ্রুপদী লড়াই

সালাহর গোলের পরও মিশরের হার, গ্রুপ সেরা উরুগুয়ে

তাৎপর্যপূর্ণ সফরে ঢাকা আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব

নীরবে সার্বিয়া বধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রাজিল

থামছে না সড়কে মৃত্যু, চার জেলায় নিহত ১১

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

এক মামলায় খালেদার জামিন প্রশ্নে আদেশ আজ

নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ

এই বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য নয়

হাসি ফুটবে কি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মুখে?

বিশ্বকাপ উন্মাদনা সমাজবিজ্ঞানীদের চোখে

স্বামীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে স্ত্রীকে গণধর্ষণ