খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে ড্যাব নেতাদের উদ্বেগ

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১১ জুন ২০১৮, সোমবার, ১০:৪৪
কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিয়ে সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষের আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডক্টরস এসোসিশেন অব বাংলাদেশÑ ড্যাব। গতকাল এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের পক্ষে সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শনিবার তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, তাঁর মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল যা পরবর্তীতে মরাত্মক পরিণতির দিকে যেতে পারে। সৌভাগ্যবশত এ যাত্রায় তিনি মস্তিষ্ক, উরুসন্ধি ও মেরুদন্ডের ভয়ংকর আঘাত এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মত প্রাণনাশী জটিলতা থেকে সামান্যের জন্যে রক্ষা পেয়েছেন। তাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম লিখিত পত্র পেশ করেছেন। তারা বলেন, খালেদা জিয়া কোন সাধারণ ব্যক্তি নন। তিনি বাংলাদেশের ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের ইতিহাস ও ভোটের রাজনীতিতে জনপ্রিয়তায় বিশ^ ইতিহাসে ক্রমাগত পরাজয়হীন সর্বোচ্চ ২৩টি আসনে বিজয়ের অনন্যদৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী। বাংলাদেশের গণমানুষের অবিসম্বাদিত নেত্রী ও দেশনেত্রী উপাধিপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় একজন অনন্য ও একনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
ড্যাব নেতারা বলেন, পরিত্যক্ত ও যে কোন মানে বসবাসের অযোগ্য কনসানট্রেশন ক্যাম্পের সাথে তুলনীয় নির্জন কারাগারে তিনি যে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তাঁর প্রতি ইতোমধ্যে দেশ ও দেশের বাইরে বিশ^বাসীর দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। একে এক গভীর ও সুদূর প্রসারী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসাবে পরিগণিত করছে। খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ। বয়সজনিত নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত একজন বর্ষিয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর কারাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবন-যাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে তা শুরু থেকেই সাধারণ মানুষকেও গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, উচ্চ-রক্তচাপ, ¯œায়ু বৈকল্য, কিডনী ও মুত্রথলির সংক্রমন, হাঁটু ও সন্ধির প্রদাহসহ নানা রোগের যে একান্ত পরিচর্যা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নির্জন, সূর্যালোকহীন, স্যাঁতসে্যঁতে পরিত্যক্ত, পোকা-মাকড় বিচরিত কারাগারে এই ধরণের একজন বিশেষ পরিচর্যা সাপেক্ষ রোগীর সেবা প্রদান একরকম অসম্ভব। চিকিৎসকরা বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব আরোপ না করে গা-ছাড়া আচরন প্রদর্শন করে আসছেন যা অবহেলার শামিল হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা ও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে এমন একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীর সাধারণ পরিণতিতে যা হবার বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত ৫ জুন মঙ্গলবার তিনি প্রায় তিন সপ্তাহ জ¦রে ভোগা অবস্থায় হঠাৎ করে জ্ঞান হারান ও মাটিতে পড়ে যান। তাঁর অন্যান্য রোগ-উপসর্গেরও অবনতি ঘটেছে। তিনি প্রবল ব্যথা ও ভারসাম্যহীনতা আক্রান্ত হয়ে ক্রমশঃ চলৎ-শক্তি হারিয়ে ফেলছেন। আমরা আশা করি সরকার বিষয়টিতে সচেতন হবেন এবং অনতিবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অন্যথায় এর দায়-দায়িত্ব বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

গ্রেনেড হামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সামঞ্জস্যহীন ও রহস্যাবৃত: রিজভী

নারী ত্রাণকর্মীকে গুলি করে হত্যা করলো বোকো হারাম

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায় ২৯শে অক্টোবর

জাফরুল্লাহ’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

আসামে ৩১ বাংলাদেশী আটক

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবকিছু করবে কমিশন: সিইসি

প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গা শরণার্থীদের থেকে কোন আবেদন পায়নি মিয়ানমার

খাসোগি হত্যার কথা স্বীকারের কথা ভাবছে সৌদি আরব

ঢাবির ঘ-ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ বিকালে

যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত

মির্জাপুরে ট্রাক উল্টে মা-বাবা-মেয়ে নিহত

আইজিপি গেলে চুড়ান্ত অভিযান

‘সবাইকে জানিয়েই কাজটি করবো’

সম্পাদকদের নজিরবিহীন মানববন্ধন

আলোচনা অনুষ্ঠানে অসত্য তথ্য দিলে জেল-জরিমানা

বাকস্বাধীনতা খর্বের প্রতিবাদে মাহবুব তালুকদারের ওয়াকআউট