তিন মামলায় খালেদার জামিন প্রশ্নে আদেশ আজ

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৮ মে ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০০
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় হত্যা ও নাশকতার মামলা এবং নড়াইলে 
মানহানির মামলায় জামিন শুনানি শেষ হয়েছে। বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল এ শুনানি হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন প্রশ্নে আজ আদেশ দেবেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা দুটি মামলা এবং নড়াইলে মানহানির অভিযোগে করা একটি মামলায় জামিন পেতে ২০শে মে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। গতকাল সকালে শুনানি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের আর্জির প্রেক্ষিতে আদালত দুপুর ২টায় শুনানির সময় নির্ধারণ করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রথমে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও পরে মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করেন। গতকাল আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সানাউল্লাহ মিয়া, আমিনুল ইসলাম, কায়সার কামাল, বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ।

শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এই মামলার (কুমিল্লায় হত্যা মামলা) ৭৭ জন আসামিদের মধ্যে ৪২ জন জামিন পেয়েছেন। আমরা জজ কোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলাম। আদালত আমাদের দীর্ঘ সময় দিয়েছিলেন। এরপরই আমরা হাইকোর্টে এসেছি। তিনি বলেন, কুমিল্লায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে তাতে সেখানে বিশেষ ক্ষমতা আইন অ্যাফেক্ট করে না।

তিনি বলেন, নড়াইলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানির যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল সে বিষয়ে আমরা বলেছি এটি জামিনযোগ্য অপরাধ। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া বয়স্ক, অসুস্থ একজন মহিলা। আমাদের ফৌজদারি আইনের বিধানে বলা আছে কোনো নারী যদি অপরাধ করেন এবং তিনি যদি অসুস্থ হন তাহলে যাবজ্জীবন সাজা পাওয়ার মতো অপরাধ করলেও জামিন পেতে পারেন। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার মামলায় আমরা সকল সিনিয়র আইনজীবীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির কথা যা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া। খালেদা জিয়ার অন্য আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের একটি মহল বলছে যে, আমরা আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ নই। এ ধরনের বক্তব্য উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। দেশের মানুষ যাতে আমাদের ভুল বুঝে, আমাদের নেতাকর্মীরা যাতে আমাদের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে এ কারণেই এ ধরনের কথা বলা হচ্ছে। মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ- আলোচনা করেই এসব মামলা পরিচালনা করছি। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আদালতে বলেছি, নিম্ন আদালতগুলো প্রোপারলি জুরিসডিকশন এক্সারসাইজ করছে না। সে জন্যই আমরা হাইকোর্টে এসেছি। আমরা শুনানি সম্পন্ন করেছি। আদালত আগামীকাল (আজ) জামিনের ব্যাপারে আদেশ দেবেন। আশা করি খালেদা জিয়া জামিন পাবেন।

শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলায় (কুমিল্লায় হত্যা মামলা) আমাদের বক্তব্য ছিল, তিনি (খালেদা জিয়া) নিম্ন আদালতে দরখাস্ত না করে সরাসরি হাইকোর্টে আসতে পারেন না। যদি হাইকোর্টে জামিন দেয়া হয় তাহলে অন্যান্য হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ লোক সেশনস কোর্টে না গিয়ে সরাসরি হাইকোর্টে জামিনের প্রার্থনা করবে এবং হাইকোর্টকে এই ব্যাপার নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় নিম্ন আদালত আদেশ দিয়েছিলেন যে, ২৫শে মে প্রতিবেদন আসার পর মামলাটি শুনবেন। কিন্তু তারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) ওই তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২০ তারিখেই (২০শে মে) হাইকোর্টে চলে আসলেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই মামলায় বিচারিক আদালত ৭ই জুন তারিখ ধার্য করেছেন। সেখানে উনি কোন রিজেকশন অর্ডার ছাড়াই হাইকোর্টে চলে এসেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তাদের (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) একই বক্তব্য যে, ওনাকে (খালেদা জিয়া) এখনই জামিন দিয়ে দিতে হবে। আদালতে আমি বলেছি, জামিন পাওয়ার কতগুলো পদ্ধতি, কতগুলো পন্থা আছে।

একটি আদালতে যদি দরখাস্ত বিচারাধীন থাকে, সেটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ আদালতে এসে প্রতিকার পেতে পারেন না। সচরাচর আমাদের দেশে নিয়ম হলো যে কোর্টে মামলা আছে সেই কোর্ট বা তার উপরস্থ কোর্টে এগুলো এডজাস্ট করে তারপর হাইকোর্টে আসতে হবে। তিনি বলেন, এই মামলাগুলো আগামীকাল (আজ) আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। গত ১২ই মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। গত ১৭ই মে আপিল বিভাগ এক রায়ে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখেন। পাশাপাশি সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানি আগামী ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। তবে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন বহাল থাকলেও অন্য মামলায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোয় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আলোচনা অনুষ্ঠানে অসত্য তথ্য দিলে জেল-জরিমানা

বাকস্বাধীনতা খর্বের প্রতিবাদে মাহবুব তালুকদারের ওয়াকআউট

জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে জিডি তদন্তে ডিবি

‘আইন পাস হয়ে গেছে, এখন কিছু করার নেই’

ভাঙনের মুখে বিকল্প ধারা

ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

ভিন্ন চিত্র, নানা হিসাব

খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ২৩শে অক্টোবর পর্যন্ত বাড়লো

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক হচ্ছে

প্রশ্ন ফাঁস, ঢাবি’র ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ স্থগিত

নারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এম জে আকবরের মামলা

মজুরি বাড়ায় রক্তক্ষরণ হচ্ছে -বিজিএমইএ

পুনরায় অসত্য তথ্য দিয়েছেন জাফরুল্লাহ- সেনাসদর

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানালো ২০ দলীয় জোট

হাঁটুভাঙা বিএনপি কোমর ভাঙা বুড়োর ঘাড়ে

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এক জায়গায় এসেছেন: খসরু