আটক মাদক ব্যবসায়ী পারুল শুধু মাদক সম্রাজ্ঞী নয়, পতিতা রাণীও

অনলাইন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ২৫ মে ২০১৮, শুক্রবার, ৭:৫৭ | সর্বশেষ আপডেট: ৮:০৩
লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার চর রুহুতি এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের স্ত্রী পারুল বেগম শুধু মাদক স¤্রাজ্ঞী নয়, পতিতা রাণীও। তার রয়েছে বিশাল পতিতা রাজ্য। যার পেছনে আলাদা আলাদাভাবে কাজ করেন শত শত নারী ও শিশু কিশোর।
চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচেয়ে বড় মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত সদরঘাট থানার বরিশাল কলোনিতে গত ১৩ বছর ধরে এ সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছে পারুল বেগম (৪৩)। আর জহুরা বেগম (৫৬) ছিল তার অন্যতম সহযোগী।
পারুল জহুরা বেগমকে মা বলে ডাকেন।
তিনিই ঘুরে ঘুরে মাদক ও পতিতার খদ্দের জোগাড় করতেন। এমন তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার সৈয়দ আবদুর রউফ। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চালানো অভিযানে ৬৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ পারুল বেগম ও জহুরা বেগম ধরা পড়েন বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, জহুরা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার মানিক মিয়ার বাড়ির আবুল হোসেনের স্ত্রী।  জিজ্ঞাসাবাদে জহুরা ও পারুলের দেয়া তথ্যে তাদের এই বিশাল অপরাধ জগতের কথা জানা গেছে। বরিশাল কলোনির মাদক স¤্রাট মোটা হাবিব ও ফারুকের মতো পারুলেরও রয়েছে বড় ধরণের মাদকের হাট।
পারুল জানিয়েছে, তিনি ভারত থেকে সরাসরি কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল ও কক্সাবাজার থেকে ইয়াবা এনে বরিশাল কলোনিতে জমা করতেন। সেখান থেকে মাদক কারবারীরা এসে ইয়াবা ও ফেনসিডিল নিয়ে যেত। মাদকসেবীরা এসেও তা সেবন করত।
এ কাজে ৪০ জনেরও বেশি নারী জড়িত রয়েছেন। প্রায় ৩০-৩২ জন শিশুকেও মাদক বহন ও বিক্রয় কাজে ব্যবহার করা হতো এ কাজে। যাদের বয়স ১২-১৪ বছরের মধ্যে। এসব শিশুরা ভাসমান ও টোকাই শ্রেণীর। এছাড়া মাদক বিক্রয়ের পাশাপাশি মাদক সেবনকারীদের চাহিদা পূরণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বস্তির উঠতি কিশোরী মেয়ে ও এমনকি অভিজাত শ্রেণির অনেক তরুণিকে পতিতাবৃত্তি কাজে ব্যবহার করত। এ কাজে পারদর্শী বেশি পারুলের ডাক মা জহুরা বেগম।
পারুল জানান, তিনি নিজেও পতিতাবৃত্তি করেছেন এক সময়। জহুরা বেগমও পতিতা ব্যবসা করতেন। এখন বস্তি ও ভাসমান কিশোরীদের দিয়ে পতিতা ও মাদক ব্যবসা করেন। এ কাজে শতাধিক কিশোরী ও ৪০-৪২ জনের মতো শিশু-কিশোর রয়েছে। এদের মধ্যে নারীরা পারুলকে ডাকেন আপা। পুরুষরা ডাকতেন ভাবি।
নগরীর সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে পারুল যে তথ্য দিয়েছে তা উঠতি যুব সমাজ, শিশু-কিশোর এমনকি চট্টগ্রামের সার্বিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ যেন অপরাধ জগতের বিশাল ইন্ডাষ্ট্রি।
পারুল আরো দম্ভ প্রকাশ করে বলেন, খেতে না পাওয়া নারী, শিশু-কিশোরীকে নাকি তিনি কাজে লাগিয়েছেন। খেটে নাকি তারা পেটের ভাত জোগাড় করছেন। অপরাধ জগতের রাণী হতে পেরে তিনি একরকম গর্ববোধ করছেন।
ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, পারুলের দেয়া তথ্যমতে তার অপরাধ জগতের বাকী সদস্যদের ধরার জন্য পুলিশ ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। আশা করি খুব শীঘ্রই পারুলের অপরাধ জগত গুড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে পুলিশ।   
প্রসঙ্গত, দেশব্যাপী মাদক বিরোধী সাড়াশি অভিযানে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১টা থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত নগরীর সদরঘাট থানার আইস ফ্যাকক্টরী রোড়ে বরিশাল কলোনিতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসেন, সদরঘাট থানার ওসিসহ প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নেয়। আর এই অভিযান হচ্ছে বরিশাল কলোনিতে চালানো তৃতীয় অভিযান।
গত ১৪ই মে বরিশাল কলোনির মাদক সম্রাট হাবিবুর রহমান প্রকাশ মোটা হাবিব ও তার সহযোগী মোশাররফ র‌্যাবের অভিযানে গোলাগুলিতে নিহত হয়। এরপর গত ২৩শে মে দ্বিতীয় অভিযানে বরিশাল কলোনির গিরা খ্যাত মাদক বিক্রীর শতাধিক স্পট গুড়িয়ে দেয়া হয়। এরপরও থেমে নেই মাদক বিক্রি।
১৯৮০ সালের শুরুর দিকে গড়ে উঠা বরিশাল কলোনি ক্রমেই মাদকের রাজ্য হিসেবে পরিচিতি পেলেও এমন সাঁড়াশি অভিযান কোন সময় চালানো হয়নি। পুলিশ যতবারই এই কলোনিতে অভিযান চালিয়েছে ততবারই মাদক কারবারী ও সেবনকারীদের হামলা শিকার হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

aziz

২০১৮-০৫-২৫ ০৯:১৩:১৭

পুলিশ এত দিন কোথায় ছিল

আপনার মতামত দিন