‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলছেই

প্রথম পাতা

বাংলারজমিন ডেস্ক | ২৩ মে ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩৯
মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলছে। গতকাল আরো ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। র‌্যাব ও পুলিশের দাবি নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। নিহতদের মধ্যে নেত্রকোনায় এক ছাত্রদল নেতা রয়েছেন। রাজনৈতিক কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি বিএনপির। সোমবার রাতে কুমিল্লা ও নীলফামারীতে দুইজন করে চার জনের মৃত্যু হয় বন্দুকযুদ্ধে।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী,  দিনাজপুর, চুয়াডাঙ্গা, নারায়ণগঞ্জ ও নেত্রকোনায় একজন করে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। সবক’টি ঘটনার বিষয়ে র‌্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের সময় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এর আগে রাতেই বিভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় ১০ জন। সব মিলিয়ে আগের এক সপ্তাহে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে মাদকবিরোধী অভিযানে।

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে জানান,
ডিবি ও থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শরীফ ও পিয়ার আলী নামে ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী অরন্যপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সেলিম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে এবং অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।
আদর্শ সদর উপজেলার বিবির বাজার এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান আসছে এমন খবর পেয়ে থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম সোমবার রাতে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত পৌনে ১টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। অভিযানে অংশ নেয়া কুমিল্লা ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী পিয়ার আলী, শরীফ ও সেলিম গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীফ ও পিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত পিয়ার আলী শুভপুর গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে এবং শরীফ সদর দক্ষিণ উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। নিহত পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে ১৩টি ও শরীফের বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা রয়েছে। আহত মাদক ব্যবসায়ী সেলিম কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১টি রিভলবার, ২ রাউন্ড গুলিসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক চারটি মামলা হয়েছে।
এদিকে একই রাতে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সাদ্দাম হোসেন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ আহত সাদ্দাম এবং মোখলেছ ও জয়নাল আবেদীন ফারুকসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানান,
র‌্যাবের সঙ্গে  বন্দুকযুদ্ধে আরো শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে মহানগরীর বায়েজিদ থানাধীন ডেবারপাড়ে বন্দুকযুদ্ধের এই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিমতানুর রহমান এ তথ্য জানান। নিহত মাদক ব্যবসায়ীর নাম শুক্কুর আলী (৪৫) বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব ১০ হাজার ইয়াবা, একটি ওয়ান শুটার গান, বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে গত ১৭ই মে বৃহসপতিবার নগরীর আইস ফ্যাক্টরি রোড বরিশাল কলোনিতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোটা হাবিবসহ দুইজন নিহত হয়।

ফেনী প্রতিনিধি জানান,
র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু (৪৯) নিহত হয়েছে। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি ও দশ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে সদর উপজেলার লেমুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মঞ্জু চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে। তার নামে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়াত জামিল ফাহিম জানান, চট্টগ্রাম থেকে মাদক বহন করে ঢাকা যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লেমুয়ায় র‌্যাব সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি করে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়লে র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মঞ্জুকে উদ্ধার করে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি ও ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান,
সৈয়দপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়ে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শহরের গোলাহাট বধ?্যভূমি এলাকায়।
পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ?্যায় সৈয়দপুর শহরের চিহ্নিত মাদক ব?্যবসায়ী ইসলামবাগের আব্দুল হান্নানের পুত্র শাহিন হোসেন (২৭) ও নীচু কলোনির ইউসুফ হোসেনের পুত্র জনি আহমেদকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তারা পুলিশকে জানায়, মাদক ব?্যবসায়ী জসিয়ার রহমান জসি ও নুর বাবুর কাছ থেকে ইয়াবা ক্রয় করে। তারা আরো জানায়, জসি ও বাবু তাদের ইয়াবা ও অন?্যান?্য মাদক বাইপাস মহাসড়কের গোলাহাট বধ?্যভূমিতে লুকিয়ে রাখে। তাদের দেয়া এ স্বীকারোক্তিতে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ শাহিন ও জনিকে সঙ্গে নিয়ে মাদক উদ্ধারে যায়। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব?্যবসায়ীর সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সুযোগে শাহিন ও জনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালালে উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীর সহযোগীরা পালিয়ে যায়। উদ্ধার করা হয় তাদের ফেলে যাওয়া ১২৩ পিস ইয়াবাসহ ৪টি দেশীয় অস্ত্র। এ সময় আহত হয় আব্দুল ওয়াদুদ, মোকাররম হোসেন, রাশেদুল ইসলাম ও আমিনুজ্জামান নামে ৪ পুলিশ সদস?্য। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহিন ও জনিকে মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল জানান, নিহত মাদক ব?্যবসায়ীদের নামে থানায় ৭/৮টি করে মামলা রয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে জানান,
বিরামপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দাগি মাদক ব্যবসায়ী প্রবাল হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন পুলিশের এসআই খুরশেদ আলম, এএসআই রাম চন্দ্র ও এক কনস্টেবল।
আহত ৩ পুলিশ ভর্তি রয়েছে দিনাজপুর পুলিশ লাইন হাসপাতালে। নিহত মাদক ব্যবসায়ী প্রবাল হোসেন বিরামপুর উপজেলার ২নং কাটলা ইউনিয়নের বাবু পাড়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার রাত ২টায় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মির্জাপুর ভবানীপুর মনিরামপুর মাঠ এলাকায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলবার, ৫টি ককটেল, একটি সামুরাই ও ৯২ পিস ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। নিহত মাদক ব্যবসায়ী প্রবাল হোসেনের বিরুদ্ধে আগের ৮টি মামলা রয়েছে। ঘটনায় বিরামপুর থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি, মাদক আইনে একটি ও হত্যাসহ ৪টি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর।

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান,
আড়াইহাজারে র?্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাচ্চু খান (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিদেশি অস্ত্র। মঙ্গলবার (২২ মে) সকালে আড়াইহাজারের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিমুলতলী এলাকা নামক স্থানে এই  বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু খান রাজধানী ঢাকার উত্তরার উত্তরখান এলাকার আশরাফ খানের ছেলে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ের কাজে তাদের ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়িও উদ্ধার করা হয়।
র?্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধারের জন্য রূপগঞ্জের ৩শ’ ফিট এলাকায় র‌্যাব টহল দিচ্ছিল। এ সময় র‌্যাব একটি প্রাইভেটকারকে থামানোর জন্য সংকেত দেয়। প্রাইভেটকারটি র‌্যাবের ব্যারিকেড ভেঙ্গে পালানোর চেষ্টা করে। পরে র‌্যাবের দল উপজেলার শিমুলতলীতে প্রাইভেট কারটি আটক করে। এ সময় গাড়িতে থাকা ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাচ্চু নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়। পালিয়ে যায় ২ জন। এ সময় ১ র‌্যাব সদস্য আহত হন।  র?্যাব ১ এর কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ও আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান,
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা গ্রামের মাঠে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ওল্টু (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। নিহত ওল্টু আলমডাঙ্গা উপজেলার তিওরবিলা গ্রামের ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে ও এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী গ্যাং গ্রুপ নেতা। রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুজন র‌্যাব সদস্য আহত হন। ঝিনাইদহ র‌্যাব ৬ এর কমান্ডার মেজর মনির আহমেদ জানান, গোপন খবরে সোমবার রাত ২টার সময় ঝিনাইদহ র‌্যাব আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা মাঠে অবস্থান নেয়। এর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে চারদিকে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ওল্টু গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এ অবস্থায়, আত্মরক্ষায় ওই স্থানে অবস্থান নেয়া র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। কয়েক মিনিট উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে, গোলাগুলি থেমে গেলে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, ৩ রাউন্ড গুলি, একাধিক গুলির খোসা ও একটি হাসুয়াসহ সন্ত্রাসী গ্যাং গ্রুপ প্রধান ওল্টুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় দুজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়।

মাদক নির্মূলের নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার জানান, আগামী নির্বাচনকে সমনে রেখে মাদক নির্মূলের নামে বিরোধী দলের তরুণ নেতা-কর্মীদের ক্রসফায়ারের মাধ্যমে হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নেত্রকোনায় কথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে ছাত্রদলের সদস্য আমজাদ হোসেনকে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য। মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়ার নতুন প্রকল্প এই ক্রসফায়ার। একই সঙ্গে এটি সুদূরপ্রসারী নীল নকশা। গতকাল মঙ্গলবার নয়া পল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী আহমেদ বলেন, এই রমজান মাসে কর্দমাক্ত খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যে জনজীবনে নাভিশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলার করুণ পরিণতি। দেশের এমন বেহাল অবস্থা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ও জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্য সরকার এই ক্রসফায়ার কৌশলে লিপ্ত হয়েছে। রিজভী বলেন, আমরা মাদকবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে নই। তবে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করুন, আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করুন। আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন। দেশের প্রচলিত আইনেই তো মাদক প্রতিরোধ সম্ভব। কিন্তু তা না করে সারা দেশে বন্দুকের অপব্যবহারে মানুষ হত্যা কোনো সভ্য সমাজের কাম্য হতে পারে না। আবার মাদক বিরোধী অভিযানের নামে মাদকের গডফাদারদের নয় চুনোপুঁটিদের ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাড়ে ৯ বছরে মাদকে ছেয়ে গেছে দেশ। গোটা যুব সমাজকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে মাদকের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর পেছনে দায়ী ব্যক্তিরা হলেন সরকারদলীয় এমপি বদির মতো রাঘব বোয়ালরা। যারা মাদক ব্যবসার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীরা আবার তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতে দেখা গেছে। গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে জেলা ওয়ারি রাঘব বোয়ালদের নাম প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি পুলিশের কিছু উচ্চপর্যায়ের লোকেরাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সেগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মাদকের এসব আসল গডফাদারদের ধরছে না সরকার।

নেত্রকোনায় বন্দুকযুদ্ধে ছাত্রদলকর্মী নিহত ১

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনায় পুলিশের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে আমজাদ হোসেন (৩২) নামে জেলা ছাত্রদলের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি জেলা শহরের পশ্চিম নাগড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের  ছেলে। তিনি তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া তার নামে হত্যা, বিস্ফোরক, দ্রুত বিচার, চুরিসহ বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানে গতকাল ভোরে আমজাদ হোসেনকে তার বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সদর উপজেলার বড়ওয়ারি বালু মহাল এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে আমজাদসহ সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীর একটি দল পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে এই ঘটনা ঘটে। এ সময়  নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন খান, উপপরিদর্শক মহসীন, মামুন, মুগবুল হোসেন ও পুলিশ সদস্য আবদুল মালেক আহত হন। আহতদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু জানান, আমজাদ হোসেন জেলা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন খান জানান, ‘অভিযানের সময় ৫০০ গ্রাম হেরোইন, ৫০০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি পাইপগান ও পাঁচটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রাজশাহীতে বাস চাপায় স্কুলছাত্রীসহ নিহত তিন

১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার স্বর্ণের বার জব্দ

হজে যাওয়া হল না ৬০৬ জনের

এবার ইডেন কলেজ ছাত্রী লুমা গ্রেপ্তার

‘ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে আমরা সৃষ্টির পতাকা উড়াই’

খালেদার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

‘জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করা আমাদের দায়িত্ব’

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় তীব্র যানজট

বৃদ্ধের লালসার শিকার বিধবা

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

সেদিন ৩২ নম্বরের দৃশ্য কেমন ছিল?

আজ বন্ধ থাকছে যেসব সড়ক

স্যার কথা বলবেন বলে তুলে নেয়া হয় ইমিকে

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

‘এই প্রশ্নটা শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি’

শোকাবহ ১৫ই আগস্ট আজ