টঙ্গীতে স্কুল বন্ধ রেখে নির্বাচনী সভা

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী থেকে | ২২ মে ২০১৮, মঙ্গলবার
টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে সোমবার ক্লাস বন্ধ রেখে নির্বাচনী সভা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। এ ঘটনায় রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ২০ দলীয় জোট মেয়র পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। অভিযোগে তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করে চলছেন। এদিকে স্কুল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আরো পৃথক দুটি অভিযোগ করেছেন ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নাসির উদ্দিন মোল্লা ও বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শেখ মো. আলেক। অধ্যক্ষ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নিজের ভাইয়ের পক্ষে অবৈধভাবে নির্বাচনী সভা করার অভিযোগ করেছেন এ দুই কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। জানা গেছে, গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নগরীর ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে পাঠদান বন্ধ রেখে নির্বাচনী সভা করেন।
উক্ত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন মিয়া ‘অভিভাবক সমাবেশ’ এর নামে এই নির্বাচনী সভার আয়োজন করেন। নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর একক সমর্থন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের সহোদর হেলাল উদ্দিন ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে ‘লাটিম’ প্রতীকে সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন। অধ্যক্ষ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ‘অভিভাবক সমাবেশ’ এর নামে এবং সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত ‘শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়’ এর নামে প্রতিষ্ঠানটিতে দিনভর পাঠদান বন্ধ রেখে ‘নৌকা’ ও ‘লাটিম’ প্রতীকের নির্বাচনী সভা করেন। উক্ত সভায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক, অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন মিয়া, শিক্ষক প্রতিনিধি আবু জাফর আহমেদ, বাবু প্রদীপ কুমার অধিকারী, শাহাব উদ্দিন সজীব, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও অধ্যক্ষ আলাউদ্দিনের সহোদর হেলাল উদ্দিন লাটিম ও নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তৃতা করেন। প্রতিষ্ঠানটির নতুন ভবনের চার তলায় অভিভাবক সমাবেশের নামে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা বৃত্তি প্রদানেরও অঙ্গীকার করেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে একাধিক অভিভাবক জানান, তাদেরকে আগে নির্বাচনী সভার কথা বলা হয়নি। জরুরি অভিভাবক সমাবেশের কথা বলে তাদেরকে স্কুলে নেয়া হয়েছে। এদিন অভিভাবক সমাবেশের নামে প্রতিষ্ঠানটিতে দিনভর পাঠদানও বন্ধ রাখা হয়। সভায় একটি নির্ধারিত ফরমেটে অভিভাবকদের নাম, স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়। এদিকে নির্বাচনে ভোটারদের স্বাক্ষর জাল করে জাল ভোট প্রয়োগসহ অসৎ উপায় অবলম্বনের জন্য এ উদ্যোগ (অভিভাবকদের স্বাক্ষর) নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী। স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতর এ নির্বাচনী সভা চলাকালে স্কুলের বেতনভুক্ত কর্মচারীদেরকে নৌকা প্রতীকের ব্যাজ ধারণে বাধ্য করা হয়। পরে একইভাবে ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাহাজ উদ্দিন সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজেও নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী সভা করেন নৌকা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। তবে ওই স্কুলে ইতিমধ্যে পবিত্র রমজানের ছুটি ঘোষণা হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন না। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন মিয়ার সহোদর হেলাল উদ্দিন ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া গত রোববার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাসভবনে মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিগণ নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী সভা করেন মর্মে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ই জুন পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়রপ্রার্থী ও তার পক্ষে এসব নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালা’ এর যথাক্রমে ২২, ২৪, ৩, ৫ ও ৪ নং বিধির সুস্পষ্ট লঙ্গন। অভিযোগের অনুলিপি ই-মেইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার স্কুলে কোনো নির্বাচনী সভা হয়নি। জাহাঙ্গীর আলম স্কুলে দোয়া চাইতে এসেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন