চট্টগ্রামে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা

শেষের পাতা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ২০ মে ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৭
সীতাকুণ্ড জঙ্গল মহাদেবপুর পাহাড়ের ত্রিপুরা পাড়ায় আদিবাসী দুই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। শনিবার নিহত কিশোরী ছবি রানী ত্রিপুরার (১৪) বাবা সুমন ত্রিপুরা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে স্থানীয় চৌধুরী পাড়ার ইসমাইল হোসেনের পুত্র আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় খবর পেয়ে পুলিশ সীতাকুণ্ড পৌরসভার জঙ্গল মহাদেবপুর পাহাড়ের ত্রিপুরাপাড়া থেকে ফলিন ত্রিপুরার মেয়ে সুখলতি ত্রিপুরা (১৫) ও সুমন ত্রিপুরার মেয়ে ছবি রানী ত্রিপুরার (১১) মরদেহ উদ্ধার করে। তারা দুজনেই বান্ধবী।

সীতাকুণ্ড থানার এএসআই মো. হানিফ বলেন, ত্রিপুরাপাড়ার আদিবাসী দুই কিশোরীকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, শুক্রবার রাতে লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার পর সুমন ত্রিপুরা মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী সুমন ত্রিপুরার দাবি প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চৌধুরীপাড়া এলাকার বখাটে আবুল হোসেন (২৪) ও তার সঙ্গীরা ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে দুই কিশোরীকে হত্যা করেছে। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে বখাটেরা দুই কিশোরীর মুখে বিষ ঢেলে বসতঘরের একটি কক্ষে দুজনকে একসঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে।
নিহত সুখলতি ত্রিপুরার বাবা পুনেল কুমার ত্রিপুরা জানান, বিগত একমাস ধরে চৌধুরী পাড়ার ইসমাইল হোসেনের পুত্র আবুল হোসেন তার বখাটে সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে ত্রিপুরা পল্লীতে গিয়ে সুখলতি ত্রিপুরাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এতে সুখলতি অসম্মতি জানালে বখাটে আবুল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে সপ্তাহখানেক আগে সুখলতিকে তার হাতে তুলে দিতে আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করে।

এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে আবুল হোসেন আমার মেয়েকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেয়। শুক্রবার আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আমার মেয়ে সুখলতি ও তার বান্ধবীকে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে এবং পরবর্তীতে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।

ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দারা জানান, সকালে জুমচাষের জন্য কিশোরী সুখলতি ও ছবি রানীকে ঘরে রেখে তার বাবা, মা পাহাড়ে চলে যান। বিকালে নিজ ঘরে ফেরার পর পুনেল ত্রিপুরার বসতঘরের একটি কক্ষে দুই কিশোরীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আর্তচিৎকার করেন সুখলতির মা। এতে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা আদিবাসী ত্রিপুরা পরিষদের সাধারণ সমপাদক রবীন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, এভাবে দুটি মেয়ে বিষপানে আত্মহত্যা কোনোভাবে সম্ভব নয়। গত কয়েকদিন ধরে সুখলতি ত্রিপুরাকে যেই ছেলে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল, সেই আজ পরিকল্পিতভাবে সুকলতি ও তার বান্ধবীকে হত্যা করে। আমরা এ বিষয়ে আইনের সহায়তা কামনা করছি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শায়েস্তাগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত

প্লেবয় মডেল এখন...

রেনু হত্যায় প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেপ্তার

বিপজ্জনক পরিস্থিতি, ঠাঁই নেই হাসপাতালে

মা হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে তুবা

সেদিন যা ঘটেছিল বাড্ডার স্কুলে

বরিস জনসন বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী

সড়কে পৌনে ৫ লাখ ফিটনেসবিহীন গাড়ি

জাপার বিবাদ প্রকাশ্যে

পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতেই মানুষ হত্যা করা হচ্ছে

ডেঙ্গু শনাক্তে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভিড়

আক্তারকে মারধর নূর লাঞ্ছিত

ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি

সুযোগসন্ধানীরা যেন ফায়দা লুটতে না পারে -প্রেসিডেন্ট হামিদ

প্রধানমন্ত্রীর চোখে অস্ত্রোপচার

আশুগঞ্জে আলোচনায় ৬%, টার্গেট ৩৮ কোটি টাকা