এক লাফে বেগুনের কেজি ১২০ টাকা

দেশ বিদেশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ১৮ মে ২০১৮, শুক্রবার
রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে দেখা দিয়েছে রোজার উত্তাপ। এর মধ্যে বেগুনের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। দু’চারদিন আগেও যে লম্বা বেগুন বিক্রি হতো ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকায় গতকাল তা বেড়ে (বাজার ও মানভেদে) দাঁড়িয়েছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে লম্বা বেগুনের চেয়ে গোল কালো, লাল ও সাদাগুলোর দাম কিছুটা কম। রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। শুধু বেগুনই নয়, ইফতার সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার হয় এমন সব সবজির দামও বাড়িয়ে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। আর এতে সমস্যায় পড়ছে স্বল্প আয়ের মানুষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কাজ করার আশ্বাস দেয়া হলেও তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি বাজারে। বরাবরের মতো এবারও বেড়েছে সব ধরনের পণ্যের দাম।
বাজারে কয়দিন আগেও বেগুন বিক্রি হয়েছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। কিন্তু এখন প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি বেশ কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি আর রমজান উপলক্ষে বাজারে সবজির চাহিদা বেশি। কিন্তু সে অনুযায়ী সরবরাহ কম। তাই দাম কিছুটা বেশি। এদিকে রোজা সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের বিক্রি বেড়ে গেছে। ভোক্তারা সাধ্যমতো ছোলা, পিয়াজ, ভোজ্যতেল,  বেসন, ডাল, মুড়ি, খেজুর, মাছ, মাংস এবং সবজি কেনাকাটা করছেন। ঢাকার প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের বাজার ক্রেতাদের ভিড়ে এখন মুখরিত। বাজার ঘুরে দেখা গছে, বেগুনের এই দাম বাজারভেদে একেক রকম। কাওরান বাজারের খুচরা বিক্রেতা আনিস মিয়া ৩ রকমের বেগুন ৩টি খাঁচায় সাজিয়ে রেখেছেন। তিনি সবচেয়ে বড় আকারের বেগুনের কেজি চাইছেন ১২০ টাকা। যেটা মাঝারি আকারের তার দাম চাইছেন ১০০ টাকা। আর ছোট আকারের বেগুনের কেজি চাইছেন ৮০ টাকা। এদিকে সেগুনবাগিচা বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতিকেজি লম্বা বেগুন ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। গোল বেগুন ৬০-৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বছরের অন্যান্য সময়ে বাজারে গোল বেগুনের চাহিদা ও দাম বেশি থাকলেও রমজান উপলক্ষে চাহিদা বেড়েছে লম্বা বেগুনের। পাইকারি বিক্রেতা রহমান আমিন বলেন, বাজার সবসময় স্থিতিশীল থাকবে- এটা প্রত্যাশা করা বোকামি। বাজারে বেগুনের চাহিদা বেড়েছে রমজানের কারণে। এখানে কারসাজি করার কিছু নেই।
খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে; যা কয়েকদিন আগেও ছিল ১০০ টাকা। আর দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, যা ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। কেজিপ্রতি আদার দর বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা। প্রতি কেজি চীনা আদা ১২০ ও দেশি আদা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গত ১০ থেকে ১৫ দিন আগেও দেশি পিয়াজের দর ছিল কেজিপ্রতি ৩০ টাকা। এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর ভারতীয় পিয়াজ ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা যা এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।
বাজারে প্রতিকেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বাজারে ধনে পাতার দাম প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।  এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি ধনে পাতা ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
খুচরা ব্যবসায়ী নেছার ব্যাপারী বলেন, যেমন কিনি তেমন বিক্রি করি। তবে গত কয়েকদিন আকাশ ভালো না থাকায় রাজধানীতে ট্রাক ঢুকতে পারে নাই। এজন্যও দাম বাড়তে পারে। এটা পাইকাররা বলতে পারবেন। গত কয়েক মাস চিনির দাম ৫৩ থেকে ৫৫ টাকায় ঘুরাঘুরি করলেও এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬২ টাকায়। কয়দিন আগের গড়ে ৬০ টাকার ছোলা মানভেদে এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি মসুর ডাল ৯০ টাকা থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া বুটের ডাল ৯০ টাকায়, খেসারির ডাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, বেসন ১২০ টাকা,
বাজারে কয়েক দিন আগের চেয়ে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বৃষ্টি, রাস্তার জ্যাম ও চাঁদাবাজি এবং বাজারে এক সঙ্গে সব ক্রেতার চাপের কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগ নিচ্ছে। এ জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।  এদিকে রাজধানীর হাতিরপুল ও ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজারসহ একাধিক পাইকারি ও খুচরা বাজার মূল্যে ছিল ব্যাপক তফাৎ। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন দুপুর ১২টায় হাতিরপুল কাঁচা বাজার পরিদর্শনে আসার সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের কাঁচা সবজির দাম কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে ডিএসসিসি নির্ধারিত তালিকা অনুসারে।
হাতিরপুলের খুচরা ও পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী আসলাম মোল্লা বলেন, ডিএসসিসি কর্তৃক যে পণ্যের মূল্য তালিকা দিয়েছে সে দামে বিক্রি করলে প্রতি কেজি সবজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা ক্ষতি হবে। পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনে এ দরে বিক্রি করলে লোকসানে পড়তে হবে বলে জানান তিনি। গতকাল রাজধানীর পাঁচটি এলাকায় রমজান মাস উপলক্ষে ডিএসসিসি সব ধরনের পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। সেই মূল্য তালিকা অনুসারে, প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ৪৮ থেকে ৭২ টাকা, শসা কেজি প্রতি ৪৮-৬০, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩৬-৪২, চিচিংগা ৪৮-৫৫, পটল ও বরবটি কেজি প্রতি ৪২-৪৮, ভেন্ডি কেজি প্রতি ৩৬-৪২, করল্লার কেজি ৪৬-৬০,কাঁচা পেপে ৪৮-৫০, আলুর কেজি ২০, কেজি হিসেবে প্রতি পিস মিষ্টি কুমড়া ও লাউয়ের মূল্য ৫০-৬০ টাকা।
রমজান মাস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, রমজান মাসে বাজার স্বাভাবিক রাখতে পাইকারি বাজার দর খেয়াল করে একটি মূল্য তালিকা করেছি। এই দামেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য বিক্রি করতে হবে ২৬ রমজান পর্যন্ত। যারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ডিএসসিসি মেয়র। হাতিরপুল কাঁচাবাজারের সবজি ক্রেতা রাসেল মিয়া বলেন, সব সময়ই সবজির বাজার চড়া। আজকে যে দামে বিক্রি হচ্ছে এভাবে চললে পণ্যের দাম ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে ডিএসসিসি নির্ধারিত দামে রমজানে পণ্য বিক্রি হওয়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এ সবজি ক্রেতা।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

দেশের স্বার্থে নতুন মেরূকরণ হতে পারে

এমপিদের লাগাম টানছে না ইসি

স্টিয়ারিং কমিটিতে যারা থাকছেন

এনডিআই-এর নির্বাচনী ২০ দফা

সিলেটে একদিন পিছিয়েও সমাবেশের অনুমতি পায়নি ঐক্যফ্রন্ট

জাপার দুর্গে আওয়ামী লীগের দৃষ্টি

শিক্ষকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরবে শঙ্কায় লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক

তিন জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৪

তিনদিনের সফরে ঢাকায় এলিস ওয়েলস

টাঙ্গাইলে দীপু মনির জনসভা বাতিল, উত্তেজনা

খাসোগি হত্যার দায় স্বীকার সৌদির

ল্যান্ডমার্ক ম্যাচে মাশরাফিদের অন্য ‘লড়াই’

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা

‘ক্ষমতায় গেলে ৭ দিনের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল’

‘ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই’