প্রিয়জনের জন্য কান্না

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার
ইসরাইলিদের গুলিতে প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকাহত গাজা। আকাশে বাতাসে যেন এখনও আর্তনাদের শব্দ শোনা যায়। প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন এ যাবত অসংখ্য ফিলিস্তিনি। তাদেরই একজন ১৮ বছর বয়সী বিলাল আল আশ্রাম। তার মা নিমা আবদেল কাদের এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না তার ছেলে নেই। বিলাল তার হাই স্কুল পড়াশোনার শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকালে তার মাথায় গুলি করে ইসরাইলি সেনারা। সন্তানের মুখ মনে করে মা নিসমা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
কখনো তাকিয়ে থাকছেন দূরে। আর গন্ড গড়িয়ে পড়ছে তার অশ্রু। বিলাল ছিলেন তার প্রথম সন্তান। তাই তাকে তিনি তার জীবনের সব কিছু মনে করতেন। নিসমা বলেন, সে ছিল আমার কাছে সারা পৃথিবীর সমান। সে ছিল আমার সাপোর্ট সিস্টেম। নিসমার আট সন্তানের মধ্যে বিলাল সবার বড়। গত ৬ বছর ধরে তার পিতা অবস্থান করছেন জর্ডানে। তার অনুপস্থিতিতে পুরো পরিবারকে একত্রে ধরে রেখেছিলেন বিলাল। নিসমা বলেন, গাজার ওই প্রতিবাদে যেতে বারণ করেছিলেন বিলালকে। কিন্তু বিলাল তার কথা শোনে নি। গত ৩০ শে মার্চ থেকে গাজায় বিক্ষোভ প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। ৭০ বছর আগে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় জোর করে উৎখাত করা হয়েছিল যেসব বাড়িঘর ও গ্রামবাসীকে সেই সব ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা তাদের পুরনো অধিকার আদায়ের জন্য এ বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এই জাতি নিধন চালায় ১৯৪৮ সালে। একে নাকবা বা ভয়াবহ বিপর্যয় বলে আখ্যায়িত করা হয়। এ দিনটিকে প্রতি বছরই পালন করা হয়। ১৯৪৮ সালে বাড়িঘর থেকে জোর করে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করা হয়। তাদের বেশির ভাগই পরিণত হন আভ্যন্তরীণ শরণার্থীতে। গাজা উপত্যকায় যেসব ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন তার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগই এসব জনগোষ্ঠীর উত্তরসুরি। তারা সেখানে বসবাস করছেন এক দশক ধরে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে অবরোধের অধীনে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অনুমোতি ছাড়া তারা গাজা উপত্যকা ত্যাগ করতে পারেন না। রাফা সীমান্ত যখন উন্মুক্ত থাকে দু’চার দিনের জন্য শুধু তখনই তরা মিশরে যেতে পারেন। এটাই তাদের সামনে একটিমাত্র সুযোগ। ৩০ শে মার্চ থেকে এ বিক্ষোভে ইসরাইলি সেনারা হত্যা করেছে কমপক্ষে ১১১ ফিলিস্তিনিকে। এর মধ্যে রয়েছে আট মাস বয়সী একটি শিশুকন্যা। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২০০০ মানুষ। ১৯৪৮ সালে নাকবা বা বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা পরিবারের মধ্যে নিহত বিলালের পরিবারও রয়েছে। তাই নিহত হওয়ার আগের দিন তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এতে তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণে বীর সেব শহরের দিকে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে বিক্ষোভে অংশ নেবেন। এই বীর সেব শহরে তার পূর্ব পুরুষদের বসবাস ছিল। এ বিষয়ে তার মা নিসমা বলেন, তাকে নিয়ে আমি খুব ভয়ে ছিলাম। বিক্ষোভে অংশ নিতে সে খুবই উৎফুল্ল ছিল। বিক্ষোভ এক পর্যায়ে ১৫ই মে শান্ত হয়ে আসে। এতে আমি স্বস্তি পাই। মনে হয়, তার বুঝি কিছুই হবে না। কিন্তু বিলালকে হত্যা করা হয়েছে এ কথা আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারি না।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কাবুলে বাংলাদেশ মিশন পুনরায় খোলার অনুরোধ আফগান দূতের

লুকিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়েও রেহাই পেলো না চবির ছাত্রদল নেতা

নির্বাচনের অনিয়ম, রাখাইন সংকট ও জুলহাজের বিচার নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা

জামিন বহাল সাবেক দুই আইজিপির

সীমান্ত হত্যার ঘটনায় ফখরুলের উদ্বেগ

ইউনিপের এমডিসহ ছয়জনের ১২ বছর কারাদন্ড

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকের চিঠি

ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে মনোনয়ন ২৬ জানুয়ারি: কাদের

ফেব্রুয়ারিতে একসঙ্গে দু’পক্ষের বিশ্ব ইজতেমা

তারা মিয়ার জামিন

অন্ত:স্বত্তা গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

২৪ ঘন্টায় কমলা হারিসের তহবিলে দেড় লাখ ডলার

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে রাজনীতিতে এনে কংগ্রেসের মাস্টারস্ট্রোক

পুলিশ পেটানোর মামলায় সেই ছাত্রলীগ নেতা রিমান্ডে

চট্টগ্রামে ভাড়া বাসায় যুবদল নেতার গলিত লাশ

ময়মনসিংহে শিক্ষককে মারধর, শিক্ষার্থীদের থানায় হামলা-ভাংচুর, সংঘর্ষে আহত ১৫