খুলনার ফলে আওয়ামী লীগে উচ্ছ্বাস-স্বস্তি

প্রথম পাতা

কাজী সোহাগ | ১৭ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০৩
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তালুকদার আবদুল খালেকের জয়ে উচ্ছ্বসিত আওয়ামী লীগ। এ বিজয়কে তারা 
শেখ হাসিনা সরকারের ওপর জনগণের আস্থা হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচনে একই ধরনের ফল আসবে বলে মনে করছে দলটি। আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, খুলনার নির্বাচনে বিজয়ের মূল কারণ হলো শেখ হাসিনার অভূতপূর্ব উন্নয়ন। তার বিগত দিনের উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে আসলে এ জয়। তারা বলেন, দেশের জনগণ উন্নয়নের স্বীকৃতি দিতে জানে এবং সেটা তারা প্রমাণ করেছেন।
খুলনার নির্বাচন আগামী জাতীয় নির্বাচনেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। একইসঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। গতকাল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব মূল্যায়ন পাওয়া যায়। অন্যদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খুলনার নির্বাচন নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, যারা খুলনার নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করছেন আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। দলের উচ্ছ্বাস প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, এ ধরনের বিজয়ে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত। সরকারের ধারাবাহিক সাফল্যের ফল হিসেবে মনে করছি আমরা। তিনি বলেন, এ নির্বাচন আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। প্রায় একই প্রতিক্রিয়া জানান দলের অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। মানবজমিনকে তিনি বলেন, খুলনার নির্বাচনটা ছিল আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনের সব ধরনের নিয়মকানুন মেনে এটা করা হয়েছে। আমাদের দলের অনেক নেতা মন্ত্রী, এমপি হওয়ায় তারা সেখানে নির্বাচনী প্রচার চালাননি। বলা যায়, এ নির্বাচনের ফল আমাদের সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বড় স্বীকৃতি। তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন আর অগ্রগতির পথে দেশের জনগণ, এটা খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে গেছে। উৎসবের আমেজের মধ্য দিয়ে খুলনা সিটি নির্বাচন হয়েছে। কোথাও কোনো সংঘাত-বিরোধ দেখা দেয়নি। যে দুটি কেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন সে দুটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিয়েছে। দলের অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা আবারো ক্ষমতায় আসবেন এমন আভাস জনগণ দিয়েছে দাবি করে বলেন, জনগণ খুলনার নির্বাচনে রায় দিয়ে প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে। এদেশের জনগণ যেমন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে একটানা ২০ বছর ক্ষমতায় থেকে উন্নয়ন করতে দেখেছে, ঠিক তেমনি শেখ হাসিনাকেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আরো টানা ২০ বছর ক্ষমতায় দেখতে চায়। সেই কারণেই তারা বলছেন, শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার। ওদিকে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়, গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগের বিজয় হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর একটি কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ ছিল, যা নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচন হলে জয়-পরাজয় থাকবে। কিন্তু যেকোনো জয়-পরাজয়কে শান্ত মনে গ্রহণ করাটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের আচরণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের যাত্রা এবং শান্তির পথে বাংলাদেশ- এটা প্রমাণ হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে অনেক আশঙ্কা ছিল। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক একজন পরিচ্ছন্ন ও সফল মেয়র ছিলেন। খুলনার জনগণ তাদের ভুল বুঝতে পেরে তাকে বিজয়ী করেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে এবং জনগণ ভোট দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর একটি কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ ছিল, যা নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচন হলে জয়-পরাজয় থাকবে। কিন্তু যেকোনো জয়-পরাজয়কে শান্ত মনে গ্রহণ করাটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের আচরণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের যাত্রা এবং শান্তির পথে বাংলাদেশ, এটা প্রমাণ হয়ে গেছে।
নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ ওবায়দুল কাদেরের
দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে দাবি করে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ওবায়দুল কাদের। গতকাল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে উন্নয়ন করছে তাতে তাদের ভোট বেড়েছে। আর বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতিতে তাদের ভোট কমেছে। তিনি বলেন, খুলনার জনগণের রায়কে যারা প্রত্যাখ্যান করেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। বিএনপি ভোটের প্রচার শুরুর পর থেকেই জন্মগত স্বভাব অনুযায়ী ব্যাপক মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট এবং ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওবায়দুল বলেন, নির্বাচনের দিনও সকাল থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপির নেতৃবৃন্দ নয়াপল্টনে মাইক্রোফোন দিয়ে লাগাতারভাবে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে উস্কানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও তীর্যক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত করার ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ?ও নিরপেক্ষ হয়েছে। তিনি বলেন, খুলনায় জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দসই প্রার্থীকে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। অতীতের ন্যায় কালোটাকা, ভোট কারচুপি ও পেশীশক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেনি খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। বিএনপির নেতৃবৃন্দ বুঝতে পারেননি জনগণ এখন অনেক সচেতন। মিথ্যাচার, মিথ্যাচার ও ভীতি সঞ্চার করে জনগণের মন জয় করা যায় না। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলে তা আবার প্রমাণ হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দের বুঝতে হবে এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী, অর্থপাচারকারী, দুর্নীতিবাজ, লুটেরার দল বিএনপি ক্রমাগত জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাদের জন্য আরো বড় পরাজয়ের পরিণতি অপেক্ষা করছে। যেকোনো মূল্যে জিততে হবে- এই ধরনের মানসিকতা এবং জিতলে আছি, হারলে নাই, এই ধরনের অপকৌশল’ থেকে বেরিয়ে আসতে বিএনপিকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, আসুন, সত্যকে মেনে নিতে শিখুন। নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগ দাবিকে বিএনপির মামা বাড়ির আবদার বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সিইসিসহ কমিশন তো সার্চ কমিটির মাধ্যমে হয়েছে। আর সেখানে বিএনপিরও অংশগ্রহণ ছিল। কাজেই এধরনের দাবি মামা বাড়ির আবদার ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রেসিডেন্ট সব দলের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের জানান, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে জনগণের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আপিল বিভাগের জামিনের আদেশ নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, তার (খালেদা জিয়া) যদি অন্য মামলা থাকে, তাকে তো সে মামলায়ও জামিন পেতে হবে। এটাই তো আইন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হলে সরকার তাকে কীভাবে মুক্তি দেবে? সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

২২২৩ উদ্বাস্তুকে নিয়ে প্রত্যাবাসনে শুরু করতে উভয়পক্ষ প্রস্তুত?

গাজীপুরে নৌকার পক্ষে এক হয়ে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

মাদক নির্মূলে বন্দুকের ব্যবহারে উদ্বেগ

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি আজ

চেয়ারম্যান কন্যাকে নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি

পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার নির্দেশ হাইকোর্টের

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রিয়াঙ্কা

মোবাইল কিনতে মন্ত্রী-সচিবরা পাবেন ৭৫,০০০ টাকা

মন্ত্রী-এমপিদের বৈঠক আচরণবিধি লঙ্ঘন

নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ে মাটিধসে নিহত ৩

নিউ ইয়র্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তনয়ের এপার্টমেন্ট নিয়ে তোলপাড়

বৈধভাবে স্বর্ণবার আমদানি শুরু হচ্ছে

বিদেশে পালাচ্ছে চট্টগ্রামের মাদক ব্যবসায়ীরা

খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে জাগপাকেও পাশে চায় বিএনপি

ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

কক্ষপথে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট