খালেদার মুক্তির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ এপ্রিল ২০১৮, বুধবার, ১১:১৭ | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৪
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে দলটি। আজ সকাল ১০ টার পর থেকে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। কেন্দ্র ঘোষিত এ কর্মসূচি বেলা ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত পালন করার কথা থাকলেও সকাল ১০ টার পর থেকে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করে। পরে ১১ টায় দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা মানববন্ধনে যোগ দেন। উল্লেখ্য, গত রোববার খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর মধ্যে রোববার বিকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও সোমবার বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিক্ষোভ মিছল করে। আজ পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে দলটি।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রায় আড়াই মাস হতে চললো খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক রেখেছে এই ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারি সরকার।
তাকে এমন একটি পরিত্যাক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে যেখানে কেউ বসবাস করেনা। একটি স্যাঁতসেঁতে কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে। যেখানে তিনি প্রতিদিন অসুস্থ হচ্ছেন। প্রতিদিন ক্রমান্বয়ে তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে। গত ১৪ দিন যাবৎ তার পরিবারের সদস্যরা এবং আমরা কেউ সাক্ষাৎ করতে পারিনি। শুধুমাত্র গতকাল তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে পেরেছেন। আমরা জানতে পেরেছি বেগম খালেদা জিয়া এতোই অসুস্থ যে দোতলা থেকে নিচ তলা পর্যন্ত নেমে আসতে পারছেন না। আমরা বার বার আমরা বলেছি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল, বিশেষ করে ইউনাইটেড হাসপালে চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। কারণ যে ধরণের এমআরআই করা দরকার এটি একমাত্র ইউনাইটেড হাসপাতালে আছে। তার দুই হাটুতে আর্টিফিশিয়াল মেটালিক প্রতিস্থাপন করা আছে। এতো কিছু বলার পরও পর তার পছন্দমতো নিজস্ব চিকিসকদের দিয়ে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছেনা। আমাদের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। অথচ এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
আমরা জানি এই সরকার আতঙ্কিত। যদি বেগম খালেদা জিয়া বাইরে থাকেন তাহলে গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য যে আন্দোলন তা কোনভাবেই প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবেন না। তাদের পরাজয় অবশম্ভাবী হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে আমাদের নেতা-নেতৃদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করছেন তাদের কারাগারে পাঠাচ্ছেন। আজকে এই মানববন্ধনের অনুমতি দেয়ার পরও পুলিশের আচরণ গণতন্ত্রের পক্ষে নয়। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের একমাত্র দায়িত্ব হল ঐক্যবদ্ধ থাকা। আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নাগরিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আমরা গতকালও বলেছি, আজকেও বলছি এই বিতর্ক সৃষ্টি করে সরকার নিজেরাই নিজেদের গহ্ববরে পড়েছে। কারণ কোন মতেই বৃটিশ আইনে নাগরিকত্ব বর্জনের কোন কারণ নেই। নাগরিকত্ব কখনো কেউ বর্জন করে না। সব সময়ই নাগরিত্ব রেখেই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে। অথচ এটাকে তারা মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে যে তারেক রহমান তার নাগরিকত্ব বাতিল করেছেন। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেননি। সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করার জন্য, দেশের মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করি। আগামী নির্বাচন করতে হলে একটি লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সমস্ত রাজবন্দ্বীদের মুক্তি দিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আগেই পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তাহলেই শুধুমাত্র একটি নিরোপেক্ষ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরী হবে। এই মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে গোটা জাতি ও সরকারকে জানাতে চাই যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে বেগম খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করব। এসময় তিনি সকল রাজনৈতিক দল, বর্ণ, ধর্ম, ব্যক্তি ও সংগঠনকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে মিথ্য মামমলায় কারাগরে আটকে রেখেছে সরকার। কারণ সরকার ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির মত একটি প্রতারণার নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু এবার তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হবে না। বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাহিরে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদ ভেঙে সবার অংশ গ্রহণে নির্বাচন করতে বাধ্য করা হবে। অর্থাৎ আগামী নির্বাচন হবে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারেরে অধীনে। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের কথা বলার অধিাকর নেই, কথা বলার জায়গা নেই। আমরা কোথাও সভা সমাবেশ করতে চাইলে আমাদের মাঠ দেয়া হয় না। কোথাও সভা সমাবেশ করতে চাইলে আমাদের উপর হামলা নির্যাতন করা হয়। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সবাইকে সংগঠিত করুন। সময় আসবে আমাদের রাজপথে কঠোর আদোলন করার। তখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারকে পরাজিত করে গণতন্ত্র ও মানুষোর ভোটের অধিাকর ফিরিয়ে আনতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এখন একটি স্বৈরশাসক দেশ পরিচালনা করছে। যাদের কাছে বিরোধী দলের কোনো রাজনৈতিক স্বাধীনতা নেই। তারা বিএনপিসহ বিরোধী দলকে কোনো সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। সব নাগরিক অধিাকর কেড়ে নিয়েছে। আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে দেয় না। সরকারের অপশাসনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে স্বৈরাচারী দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের দুঃশাসন দীর্ঘ করতে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেশকে বিকালঙ্গ করেছে। বর্তমান সরকার আইয়ুব খানের পথ অনুস্মরণ করছে। ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকারও উন্নয়নের মিছিল করেছিলো। তারপরও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারও উন্নয়নের মিছিল করেছে। এবার গণতন্ত্র ফিরে আসবেই। আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মো. শাজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুল হাই, জয়নুল আবদিন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক, স্বনির্ভর সম্পাদক শিরিন সুলতানা, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সাবেক এমপি নাজিমুদ্দিন আলম, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ, সহ সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, আতিক আল হাসান মিন্টু,  যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক প্রমুখ।

[আলীম]



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

দেশের স্বার্থে নতুন মেরূকরণ হতে পারে

এমপিদের লাগাম টানছে না ইসি

স্টিয়ারিং কমিটিতে যারা থাকছেন

এনডিআই-এর নির্বাচনী ২০ দফা

সিলেটে একদিন পিছিয়েও সমাবেশের অনুমতি পায়নি ঐক্যফ্রন্ট

জাপার দুর্গে আওয়ামী লীগের দৃষ্টি

শিক্ষকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরবে শঙ্কায় লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক

তিন জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৪

তিনদিনের সফরে ঢাকায় এলিস ওয়েলস

টাঙ্গাইলে দীপু মনির জনসভা বাতিল, উত্তেজনা

খাসোগি হত্যার দায় স্বীকার সৌদির

ল্যান্ডমার্ক ম্যাচে মাশরাফিদের অন্য ‘লড়াই’

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা

‘ক্ষমতায় গেলে ৭ দিনের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল’

‘ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই’