হামলা, সংঘর্ষের পর থমথমে বেরাইদ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২০
রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বেরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন ও স্থানীয় এমপি’র ভাগনে ফারুক হোসেনের নেতাকর্মীরা এলাকায় বিভক্ত হয়ে মহড়া দিচ্ছেন। যে কোনো মুহূর্তে আবার সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন  
সড়কে পুলিশ ও র‌্যাবের গাড়িকে টহল দিতে দেখা গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে ঘটনার নাটের গুরুদের ধরতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চলছে। গত পাঁচ বছরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, খাল ভরাট, বালু মহাল দখল, অন্যের জমিতে মাছের ঘের নির্মাণ করে দখলে রাখা, মাদক ব্যবসা, ডিশ ব্যবসা ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণসহ নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে অন্তত দশটি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
এ খুনের ঘটনায় একে অপরকে দায়ী করে বক্তব্য পাওয়া গেছে।

রোববার বিকালে বাড্ডার বেরাইদের ক্রাউন সিমেন্ট-এর রেডিমিক্স সাইটের সামনে স্থানীয় এমপি একেএম রহমত উল্লাহ এবং বেরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগের কর্মী মো. কামরুজ্জামান নিহত হন।

ঘটনার বিষয়ে বাড্ডা পুলিশের বাড্ডা জোনের পুলিশের এসি মো. আশরাফুল কবীর মানবজমিনকে জানান, বেরাইদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় যারা প্রকৃত দোষী তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। বেরাইদ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এলাকায় লোকজনের ব্যস্ততা কমে এসেছে। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হননি। পুলিশ বেরাইদ ইউনিয়নে এমপি গ্রুপ ও চেয়ারম্যান গ্রুপের কয়েকজন কর্মীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু, কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা এলাকা থেকে বিভিন্নস্থানে সটকে পড়েছেন।
বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওসমান গনি বাবুল গতকাল মানবজমিনকে জানান, এ বিরোধ একদিনে হয়নি। অনেকদিন ধরে চলে আসছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু,  কোনো সুরাহা হয়নি। ফলশ্রুতিতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাড্ডা থানার আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানান, বেরাইদ এলাকায় আওয়ামী লীগের দুইটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। একটি এমপির ভাগনে ফারুক গ্রুপ।

অপরটি বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও বেরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের গ্রুপ। আগামী ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এ বিরোধ আরো জোরালো হয়।

ঘটনার বিষয়ে বেরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ফারুকের সমর্থকেরা আমার নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার আমি বিচার চাই। এ বিষয়ে এমপির ভাগনে ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

দুই মামলা, পুলিশ হেফাজতে মেঘনা ও মৌ

এটি আপনার ঘর

সন্দেহভাজন ঘাতকের তালিকায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের ঘনিষ্ঠরা

একজন গিটার যাদুকর

অপারেশন গর্ডিয়ান নট-এ নিহত জঙ্গী মোস্তাফার বাড়ি ঝিনাইদহে

ফারাক্কা ব্যারেজের লকগেট ভেঙে বিপত্তি

‘ডাবিং করতে গিয়ে বেশ ভয় পেয়েছিলাম’

আন্দোলন ও নির্বাচন ২ প্রস্তুতিতেই বিএনপি

মি-টু আন্দোলনের মুখে এম জে আকবরের পদত্যাগ

নীতিমালা নেই অ্যাপস চালুর চিন্তা

সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত করেছে ঐক্যফ্রন্ট

দুই উইকেট পড়ে গেছে আরো পড়বে

সক্ষমতা সূচকে পেছালো বাংলাদেশ

দুর্গাপূজায় সেই নাসিরনগর

কারাগারে থেকেই দুই পুরস্কার