প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরছেন আজ

প্রথম পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ২৩ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৪৮
সৌদি আরব ও বৃটেনে ৮ দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন আজ। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি লন্ডনের হিথরো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেছে। লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার নাজমুল কাওনাইন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। আজ সকাল সোয়া ৯টায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। সৌদি বাদশাহ্‌ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী গত ১৫ই এপ্রিল দেশটিতে সফরে যান। ১৬ই এপ্রিল সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-জুবাইলে ‘গাল্ফ শিল্ড-১’ শীর্ষক ২৪ দেশের যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে যোগ দেন তিনি।
সামরিক মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে ১৬ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী দাম্মাম থেকে লন্ডনে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের (সিএইচওজিএম) পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নিতে যান। সৌদি সরকারের একটি বিশেষ বিমান প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের লন্ডনে পৌঁছে দেয়। এ বছরের কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনটি নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সম্মেলনের সব ক’টি অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ‘অভিন্ন ভবিষ্যৎ অভিগামী’- প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের (সিএইচওজিএম) ১৯শে এপ্রিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনীতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসির দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাকিংহাম প্যালেসে সরকার প্রধান ও তাদের স্বামী/স্ত্রীদের সম্মানে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের দেয়া সংবর্ধনা ও নৈশভোজে অংশ নেন। শীর্ষ সম্মেলনের আগে ১৭ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ওয়েস্টমিনিস্টারে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ক্ষমতায়নে শিক্ষা : কমনওয়েলথ দেশগুলোতে মেয়েদের জন্য সমমাত্রিক ও গুণগত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা’ শীর্ষক কমনওয়েলথ ওম্যান ফোরামের অধিবেশনে যোগ দেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী বৃটেনের খ্যাতনামা থিঙ্কট্যাঙ্ক ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (ওডিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি : নীতি, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রধান বক্তা হিসেবে যোগ দেন। ১৮ই এপ্রিল এশীয় নেতাদের ‘এশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিকাশ কি অব্যাহত রাখা সম্ভব (ক্যান এশিয়া কিপ গ্রোয়িং) শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক’ এবং বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেন তিনি। শীর্ষ সম্মেলনের সাউড লাইনে ২০শে এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। পরদিন লন্ডন আওয়ামী লীগের আয়োজনে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ওই সম্মেলনে দেশের সম-সাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতা ও নির্দেশনা দেন।
তারেক লন্ডনে বসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে- প্রধানমন্ত্রী: স্থানীয় সময় শনিবার বিকালের ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিষয়ে কথা বলেন। সরকার প্রধান বলেন, ফৌজদারি অপরাধের দায়ে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই তারেক রহমানের প্রত্যার্পণের বিষয়ে বৃটিশ সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হবার পরও সে কিভাবে লন্ডনে থাকে? আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। তার সরকার তারেককে দেশে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ এবং সে তার কৃতকর্মের জন্য বিচারের সম্মুখীন হবে।’ লন্ডনের মেথোডিস্ট সেন্ট্রাল হলে আওয়ামী লীগ প্রদত্ত ওই সংবর্ধনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে, আর এখন বৃটেনের রাজধানীতে বসেও একই ধরনের অপরাধ করছে, চিন্তা করে দেখুন কত বড় সন্ত্রাসী সে। লন্ডন হাইকমিশনে বিএনপির সন্ত্রাসীদের ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসীরা তারেক রহমানের নির্দেশে জাতির পিতার প্রতিকৃতিকে অসম্মান করেছে। আমি জানতে চাই তারা এই সাহস কোত্থেকে পেল? এ প্রসঙ্গে তিনি হাইকমিশনের ভূমিকার সমালোচনাও করেন। বলেন, আমি জানি না সেদিন কে হাইকমিশনের দায়িত্বে ছিলেন এবং আমার প্রশ্ন- কেন তারা সেদিন এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেননি। বিএনপিকে দেউলিয়া সর্বস্ব দল হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তারা কিভাবে একজন পলাতক আসামিকে দলের চেয়ারম্যান মনোনীত করে। তারা আসলে দেশের ইমেজ ধ্বংসের মাধ্যমে দেশ ধ্বংস করতে চায়। শেখ হাসিনা বলেন, যারা জাতির পিতার প্রতিকৃতি ধ্বংস করেছে তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আমি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বলবো আপনারা দেখেছেন কারা জাতির পিতার প্রতিকৃতিকে অবমাননা করেছে এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করতে হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শিবির সন্দেহে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে পুলিশে দিল ছাত্রলীগ

তিন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে যা লিখেছেন ঢাবি শিক্ষার্থী মুশফিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় তুরস্ক

শহীদুল আলম: আত্মমর্যাদা ও মানবাধিকারের স্বপক্ষে একক কন্ঠস্বর

বিয়েতে বাবার অসম্মতি, যুবকের আত্মহত্যা

জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি পরিবারের ৪ সদস্য নিহত

‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না’

চীন ও চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে বিজেপি নেতার পরিকল্পনা

বাজপেয়ী প্রয়াত

কোটা আন্দোলনের নেত্রী লুমা রিমান্ডে

তাদের উদ্দেশ্য কি?

ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি

সাইবার হামলার আশঙ্কায় সব ব্যাংকে সতর্কতা জারি

ঢাকার নিন্দা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব

বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা ও প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন