কেন আগাম নির্বাচন ডাকলেন এরদোগান?

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২২ এপ্রিল ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৩৩
এ বছর শুরু হওয়ার পর থেকেই তুরস্কের অনেকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। প্রেসিডেন্ট এরদোগান আগাম নির্বাচনের ডাক দেবেন কিনা, তা নয়। তিনি কবে এই নির্বাচন আহ্বান করেন, সেটা নিয়েই ছিল যত কৌতুহল। উত্তরটা এলো ১৮ই এপ্রিল। এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, এ বছরের ২৪শে জুন অনুষ্ঠিত হবে নতুন নির্বাচন। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়েরও ১৮ মাস আগে। এত আগে নির্বাচনের ঘোষণা আসবে কেউই ভাবে নি। গত চার বছরে এ নিয়ে ষষ্ঠবার ও জরুরী আইন কার্যকর থাকাকালে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনে ভোট দেবেন তুর্কি জনগণ।
কিন্তু এ থেকে কী অর্জনের আশায় আছেন এরদোগান? তারই ব্যাখ্যা দিয়েছে ইকোনমিস্ট।
লন্ডন ভিত্তিক ম্যাগাজিনটি লিখেছে, গত বছর তুরস্কের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৪%। এর নেপথ্যে ছিল ঋণ প্রদানের হার বৃদ্ধি পাওয়া ও সরকারের একঝাঁক প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ। তবে তা সত্ত্বেও তুরস্কের অর্থনীতি নিস্তেজ হয়ে যেতে শুরু করেছে। গত এক বছরজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ছিল দুই অংকের কোঠায়। এক মাসের ব্যবধানে, দেশটির দুই বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রায় ৯০০ কোটি ডলারের ঋণ পুনর্বিন্যাসের আলোচনা শুরু করে।
২০১৩ সালের পর থেকে ডলারের বিপরীতে লিরার (মূদ্রা) মান অর্ধেক কমে গেছে। মার্চের শেষ নাগাদ প্রায় প্রতিদিনই মুদ্রার নতুন দরপতনের রেকর্ড হচ্ছিল। তবে আগাম নির্বাচনের খবরে লিরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হলো যে, বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোগান ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে) জিতবে। নতুন করে ক্ষমতায় এসে তারা প্রণোদনামূলক সরকারী ব্যয় কমাবেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট স্পষ্টতই জানেন যে, অর্থনৈতিক মন্দা আসন্ন। তাই যত তাড়াতাড়ি ভোট হয়ে যাবে, তত এই মন্দা এড়ানোর সময় ও সুযোগ পাবেন তিনি।
জুনের এই নির্বাচন হবে তুরস্কের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা যেদিন তুর্কি জনগণ একই দিনে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দেবেন। এই পরিবর্তন ছিল একগুচ্ছ সাংবিধানিক পরিবর্তন যার ফলে এরদোগান বেশ কিছু নতুন ক্ষমতা পান। ২০১৭ সালের বিতর্কিত গণভোটে সামান্য ব্যবধানে ওই সংবিধান সংশোধন অনুমোদিত হয়।
এরদোগান এবারের নির্বাচনও শুরু করবেন বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে। হালছাড়া দিশেহারা বিরোধী পক্ষ এরদোগানের বিরুদ্ধে প্রচারণা জোরদার করতে হাতে পাবে ২ মাসেরও কম সময়। দেশের প্রধান ধর্মনিরপেক্ষ দল এখনও প্রেসিডেন্ট পদে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রার্থীকে দাঁড় করাতে পারেনি। প্রধান কুর্দি দলের নেতারা এখন সন্ত্রাসবাদের বানোয়াট অভিযোগে কারান্তরীন।
গুজব বাড়ছে যে নবসৃষ্ট একটি জাতীয়তাবাদী দলকে পার্লামেন্ট নির্বাচনে লড়তে দেওয়া হবে না। দলের নেতা একজন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনিই এখন পর্যন্ত এরদোগানের একমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রতিপক্ষ।
সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কম। গণমাধ্যমের ওপর প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এরদোগানের। ৯০ শতাংশ সার্কুলেশন যেসব পত্রিকার দখলে, সেসবের ওপরও নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ তার। এক শতাধিক সাংবাদিক এখন কারাগারে। ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে দেশ জরুরী অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্ট প্রায় স্বৈরশাসকের মতো ক্ষমতা ভোগ করছেন। তিনি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার ঘন্টাকয়েকের মধ্যেই তার এমপিরা আরও তিন মাসের জন্য জরুরী আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ফারাক্কা ব্যারেজের লকগেট ভেঙে বিপত্তি

‘ডাবিং করতে গিয়ে বেশ ভয় পেয়েছিলাম’

আন্দোলন ও নির্বাচন ২ প্রস্তুতিতেই বিএনপি

মি-টু আন্দোলনের মুখে এম জে আকবরের পদত্যাগ

নীতিমালা নেই অ্যাপস চালুর চিন্তা

সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত করেছে ঐক্যফ্রন্ট

দুই উইকেট পড়ে গেছে আরো পড়বে

সক্ষমতা সূচকে পেছালো বাংলাদেশ

দুর্গাপূজায় সেই নাসিরনগর

কারাগারে থেকেই দুই পুরস্কার

গ ইউনিটে ফেল ঘ ইউনিটে প্রথম!

বিএনপি’র ভরসা ভোটার আওয়ামী লীগের উন্নয়ন

জিপ্লেক্স’র মাধ্যমে আরো উন্নত কন্টাক্ট সেন্টার গড়লো রবি

চ্যারিটেবলের রায় আগে লেখা হয়েছে: নজরুল

বিবেকের অনশন

মাহবুব তালুকদারের পদত্যাগ চায় ১৪ দল