খালেদার অসুস্থতা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে সরকার: ফখরুল

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার, ১২:৪৯ | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৯
কারাগারে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার নোংরা রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সঙ্গে অবিলম্বে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। সকালে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরী সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য কারাগারে ক্রমেই অবণতির দিকে যাচ্ছে বলে আমরা যে খবর পাচ্ছি তাতে সারা দেশ জাতি এবং আমরা উৎকন্ঠিত। সরকারকে বলব, এখনো সময় আছে, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তাকে তার পছন্দনীয় চিকিৎসক দ্বারা এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের অবণতি ঘটলে তার দায়-দায়িত্ব পুরোটাই সরকারকে বহন করতে হবে।
এ বিষয়ে নোংরা রাজনীতি না করে সোজা পথে তাঁকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহবান জানাচ্ছি। মির্জা ফখরুল বলেন, সংবাদপত্র সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে, সরকার কর্তৃক গঠনকৃত একটি মেডিকেল টিম দেশনেত্রীকে পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন। পরবর্তিতে অধ্যাপক মালিহা রশিদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি মেডিকেল টিম তাকে দেখতে যান। সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, তিনি বেশ কিছু ব্যাথিতে আক্রান্ত, এর মধ্যে এক্যুইট রিউমেটিক আর্থারাইটিস তাকে বেশ কষ্ট দিচ্ছে। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা যে পরীক্ষাগুলো দেশনেত্রীর করেছেন তারা কিন্তু কিনিক্যাল এক্সজামিনেশন করেছেন। তার জন্য যেসবে টেস্ট করা দরকার যেমন এম আর আই ও অন্যান্য যেসব বিশেষায়িত পরীক্ষা গুলো করা দরকার সেই পরীক্ষাগুলো করা হয়নি । মাঝখানে তাকে একবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো সেখানে এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষা করানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যতটুক জানতে পেরেছি, দেশনেত্রীর যেসব পরীক্ষাগুলো করার জন্য ডাক্তার সাহেবরা পরামর্শ দিয়েছেন সেটা হচ্ছে তার একটা বিশেষ ধরণের এমআরআই (স্পাইনাল ) করা জরুরী। এছাড়া তার হোল এবডুমিনের আল্টাসোনোগ্রাফী করা প্রয়োজন এবং তার রক্তের বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা করা প্রয়োজন । সেজন্য তারা (চিকিৎসকরা) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরকে দেখানোর জন্য সুপারিশ করেছেন। সেগুলো হচ্ছে- ইমুটোলজিস্ট, অর্থালমোজিস্ট চোখের জন্য তার চোখ লাখ হয়ে গেছে, ফিজিক্যাল মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন এবং ইন্টারন্যাল মেডিসিন।এই বিশেষজ্ঞদের তাকে দেখানো জরুরী বলা হয়েছে। এবং তারা অতিদ্রুত বিশেষ এমআরআই করার জন্য বলেছেন। তারা অবিলম্বে তার পছন্দনীয় হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করেছেন। মির্জা আলমগীর বলেন, তারা(চিকিৎসকরা) অবিলম্বে তার পছন্দনীয় হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করেছেন। দেশনেত্রীর অসুস্থতায় তার জন্য যেসব পরীক্ষা করা দরকার, বিশেষায়িত বিশেষ করে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা ও এমআরআই পরীকষা তার জন্য অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। দেশনেত্রীকে সেজন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। বিশেষ করে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা ও এমআরআই পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। অথচ এ ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য আমাদের কাছে ও জাতির সামনে দেননি। মির্জা আলমগীর বলেন, চিকিৎসকরা কারাগারে দেশনেত্রীর জন্য যে বিছানা তা উপযোগী নয় বলেছেন। সেজন্য অর্থোপেডিক বেডের সুপারিশ তারা করেছিলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী এদেশের গণমানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। মিথ্যা সাজানো মামলায় তাকে সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে তাকে ও তার দলকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া। গণবিচ্ছিন্ন ও রাজণৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া সরকারের ২০১৪ এর মতো একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারো ক্ষমতা দখলই হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য। আইনের বিধানকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে দেশনেত্রীকে জামিন না দেওয়ায় কারাগারে তার প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সুচিকিৎসা থেকে তাকে বঞ্চিত করা এটা অমানবিক। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা তাকে(দেশনেত্রী) থ্যারাপী দেবার সুপারিশ করেছেন যা কারাগারে সম্ভব নয়। যে কারাগারের কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে তা সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থি। পরিত্যক্ত একটা কারাগারে রাখা হয়েছে যেটা স্যাঁত স্যাতে। মির্জা আলমগীর বলেন, দলের নেতৃবৃন্দ ও পরিবারের সদস্যদের গত ১০ দিন যাবত দেশনেত্রীর সাথে কারাগারে দেখা করতে না দেয়ার ঘটনাকে হীন উদ্দেশ্যমূলক। সরকারের মন্ত্রীতের এ বিষয়ে মন্তব্য ও কটুক্তি সকল শিষ্টাচার বহিভুত এবং চক্রান্তের বর্হিপ্রকাশ। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রীবৃন্দ যখন বলে ‘হায়াত- মওত আল্লাহর হাতে’ বিএনপি দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ে রাজনীতি করছে’ তখন এটা স্পষ্ট যে, তারা(সরকার) দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে ধুম্রজ্বাল সৃষ্টি করে জনগনকে বিভ্রান্ত করতে চান এবং বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে ও আসন্ন সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। তিনি বলেন, এতো ভয় কেনো? দেশনেত্রীকে মাঠে নামতে দিন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতে দিন, যথেচ্ছা পুলিশ ব্যবহার বন্ধ করুন। দেখুন আপনারা কোথায় দাঁড়াতে পারেন। রাজনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সাহস আপনাদের নেই। সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের ‍উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, সাবেক সাংসদ কামরুদ্দিন ইয়াহিয়া খান মজলিশ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। [কাফি]

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শিবির সন্দেহে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে পুলিশে দিল ছাত্রলীগ

তিন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে যা লিখেছেন ঢাবি শিক্ষার্থী মুশফিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় তুরস্ক

শহীদুল আলম: আত্মমর্যাদা ও মানবাধিকারের স্বপক্ষে একক কন্ঠস্বর

বিয়েতে বাবার অসম্মতি, যুবকের আত্মহত্যা

জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি পরিবারের ৪ সদস্য নিহত

‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না’

চীন ও চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে বিজেপি নেতার পরিকল্পনা

বাজপেয়ী প্রয়াত

কোটা আন্দোলনের নেত্রী লুমা রিমান্ডে

তাদের উদ্দেশ্য কি?

ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি

সাইবার হামলার আশঙ্কায় সব ব্যাংকে সতর্কতা জারি

ঢাকার নিন্দা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব

বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা ও প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন