নি র্বা চ নী হা ল চা ল

সংকটে আওয়ামী লীগ সুসংহত বিএনপি

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ২১ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০৩
সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হচ্ছেন? এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এ আসনের এমপি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ঘোষণা দিয়েছেন তিনি আর লড়ছেন না। অন্যদিকে  পৃষ্ঠা এ আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট পেতে প্রায় আড়াই বছর আগে থেকে আলোচনায় রয়েছেন অর্থমন্ত্রীর ছোটো ভাই ড. একে আব্দুল মোমেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে আলোচনায় এসেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে এই অনিশ্চয়তার মধ্যে বিএনপির তৃণমূল থেকে এখন পর্যন্ত তারা একক প্রার্থী হিসেবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকেই সামনে রেখে প্রস্তুতি চালাচ্ছে। বিএনপি থেকে আর কোনো প্রার্থীর উপস্থিতি এ আসনে দেখা যায়নি।
সিলেট-১ আসনটি দেশের মর্যাদাপূর্ণ আসন।

সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর নিয়ে এ আসনের সীমানা। ভোটের রাজনীতিতে রেওয়াজ রয়েছে- সিলেট-১ আসন যার, ক্ষমতা তার। এ আসনে রয়েছে ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)সহ ৩৬০ আউলিয়ার অধিকাংশেরই মাজার। এ কারণে নির্বাচন এলেই সিলেট-১ আসনে শক্তিশালী প্রার্থী দেয় প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তবে এখানে কোনো দলই এককভাবে কর্তৃত্ব অর্জন করতে পারেনি। ভোটও প্রায় সমান সমান। ১৯৯৬ সালে এ আসনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। এরপর ২০০১ সালে এ আসনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে অদ্যাবধি কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরপর দুই বারের সংসদ নির্বাচনে এমপি হওয়ার পর অর্থমন্ত্রী নিজে থেকেই আর প্রার্থী হবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সর্বশেষ দুই মাস আগে তিনি ঢাকার একটি অনুষ্ঠানেও এ ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগও এ আসনে অর্থমন্ত্রীর বিকল্প প্রার্থীর চিন্তা-ভাবনায় রয়েছে। প্রায় আড়াই বছর আগে সিলেটের আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষিক্ত হন জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন। তিনি বড় ভাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাত ধরে সিলেটের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। আওয়ামী লীগও তাকে সাদরে বরণ করে নেয়।

অর্থমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হয়ে তিনি সিলেটে রাজনীতির মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে ড. মোমেনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে আলোচনায় এসেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন। ছহুল হোসাইনের ঘনিষ্ঠজনেরা দাবি করেছেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হতে চান ছহুল হোসাইন। এছাড়া এ আসনে সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নামও আলোচনায় রয়েছে। সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর সিলেট-১ আসনে প্রার্থী সংকটে পড়ে বিএনপি। পরবর্তীতে বিএনপির হয়ে সিলেটের রাজনীতিতে নামেন দলের সাবেক সহ-সভাপতি শমসের মুবীন চৌধুরী। তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করায় এ আসনে প্রার্থী সংকটে ছিল বিএনপি। গেল ৬ বছর ধরে ভোটের রাজনীতিতে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এখন পর্যন্ত খন্দকার মুক্তাদির একাই মাঠে রয়েছেন। আর কারও নাম শোনা যাচ্ছে না। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পিতা হচ্ছেন- সিলেট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম খন্দকার আব্দুল মালিক। তিনি এক সময় সিলেট বিএনপিকে শাসন করেছেন। জিয়া পরিবারের সঙ্গে রয়েছে তাদের গভীর সম্পর্ক। খন্দকার মুক্তাদির গেল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর জয়ে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন। ধীরে ধীরে সিলেট বিএনপিতেও তিনি গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। তাকে ঘিরে সরব ঝিমিয়ে পড়া নেতারাও। তবে বিএনপির একটি অংশ এ আসনে প্রার্থী চাইছে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে। জোবায়দা রহমান সিলেটের সন্তান। এ কারণে জয় নিশ্চিত করতে তারা এ আসনে জোবায়দাকে চান। এ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে। জাতীয় পার্টির কোনো উল্লেখযোগ্য প্রার্থী নেই সিলেটের মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে। আর মহাজোট হলে জাতীয় পার্টি এই আসনটি আওয়ামী লীগকে ছাড় দেবে বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। বারবারই সিলেট-১ আসনের কর্তৃত্ব বদল হয়েছে। যারা সরকার গঠন করেছেন তারাই এমপি পেয়েছেন। ফলে আগামী নির্বাচনে এ আসনে জয় ঘরে তুলতে নানা হিসাব-নিকাশ চালাচ্ছে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন- উন্নয়নের কারণে এবার এ আসনটি তারা পাবে। গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী দিলে তারা জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পারবে। আর বিএনপি হারানো দুর্গ ফিরে পেতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। কোন্দল মিটে গেছে। ঐক্যবদ্ধভাবে তারা দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মোবাইল ফোনে মিনিট প্রতি কলচার্জ ১০ পয়সা করার দাবি

‘আবারো গণঅভ্যুত্থান হবে’ আমান

‘ছিনতাইকারী কল্যাণ ফান্ড’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাত

‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছাড়া অন্যান্য সব কোটা বাতিল হচ্ছে’

ঈদ উদযাপন নিরাপদ করতে

কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মীদের মুক্তি দাবি

ফারিয়া গুজব ছড়াতে পূর্বে ধারণকৃত অডিও প্রচার করেছেন, দাবি র‌্যাবের

এক যুবকের মমিকে ঘিরে রহস্য

ঢাকায় পাইলটের ব্যর্থ চেষ্টা, শখের ইলিশ রেখেই ছাড়তে হলো এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বেশ কিছু নির্দেশনা

ছাত্রীকে গণধর্ষণ, আটক-২

অজ্ঞান পার্টি, জাল নোট চক্র ও মাদক ব্যবসা চক্রের ৭৯ সদস্য গ্রেপ্তার

নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিবর্তনের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

চারদিকে আওয়ামী লীগের পতনের শব্দ শোনা যাচ্ছে: রিজভী

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত