মধ্যরাতে সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রী বিতাড়ন

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ এপ্রিল ২০১৮, শুক্রবার, ১০:৩৪ | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৪
গতরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে বের করে দিয়েছে হল কতৃপক্ষ। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে ছাত্রীদের এ হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেয়া হয়। হল ত্যাগের সময় তাদের এবং অভিভাবকদের কারও সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে দেয়া হয়া হয়। হল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, ফোন কেড়ে নিয়ে ফেইসবুকে কে কোন পোস্ট দিয়েছে তা পরীক্ষা  করে। ছাত্রীদের হয়রানির প্রতিবাদে শুক্রবার বিকাল ৪টায় সারা দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলন করা  বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
গত ১০ই এপ্রিল রাতে ছাত্রলীগের হল সভাপতি এশার হাতে কয়েক শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হন। পরে শিক্ষার্থীরাও তাকে লাঞ্চিত করে। এ ঘটনায় প্রথমে এশাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার হয়। অন্যদিকে, এশাকে লাঞ্চিত করার ঘটনায় ২৬ ছাত্রলীগ কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
২৬ ছাত্রীকে শোকজ করে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। আর এ ঘটনার জেরেই সর্বশেষ ২০ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটলো।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের নানা হুমকি-ধামকি দেয়া হয়। এর মধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষার্থীর স্থানীয় অভিভাবকদের ডাকা হয় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সন্ধ্যার পর থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ব্যাগ নিয়ে হল থেকে বের হতে দেখা যায়। আবদুল আউয়াল নামে এক অভিভাবক রাত ১০টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, আমি আমার বোনকে ফোন দিয়েছিলাম। সে না ধরে তার এক শিক্ষক ধরেন। তিনি আমাকে আসতে বলেন। রাত ১২টার দিকে গণিত তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শারমিনকে নিয়ে তার স্থানীয় অভিভাবক হল থেকে বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে তারা কোনো কথা বলতে চাননি। শারমিনের অভিভাবক বলেন, তাদের কোনো কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে।
একজন ছাত্রী বলেন, আমাদের ফোন চেক করে দেখছিল আমরা ফেইসবুকে উল্টোপাল্টা কোনো স্ট্যাটাস দিয়েছি কি না। কোটা সংস্কার আন্দোলনে কারা কারা ছিল সেটা জিজ্ঞাসা করছিল। আমরা বলেছি সবাই তো ছিল, এক হাজার মেয়ে ছিল। তখন বলল, লিখিত দাও, সবাইকে বের করে দেব।
রাতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর কয়েকজন নেতাও সেখানে আসেন। রাত আড়াইটার দিকে হলের গেইট থেকে চলে যাওয়ার সময়  ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর সাংবাদিকদের বলেন, রাতের অন্ধকারে কেন অভিভাবক ডেকে ছাত্রীদের হল থেকে বের করা হচ্ছে? এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার বিকাল ৪টায় সারা দেশে  সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়ে সুফিয়া কামাল হল এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ

বিপর্যয়ের মুখে তেরেসা মে

অনেক বাস হাওয়া, দুর্ভোগে রাজধানীবাসী

জাপায় কেন এই অস্থিরতা?

অনলাইনে ডলার বিক্রির নামে প্রতারণা

হঠাৎ বেড়েছে গুলির ঘটনা

ওবায়দুল কাদেরকে কেবিনে নেয়া হয়েছে

ডাক বিভাগের ‘নগদ’-এর কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিনেটরকে ডিম মারা প্রসঙ্গে যা বললেন ‘ডিম বালক’

মুক্তি কিসে স্বৈরশাসনে নাকি গণতন্ত্রের পুনঃউদ্ভাবনে?

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত হতো না

৪৮ বছর পরও আমরা এমনটি আশা করিনি

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত মাহবুব তালুকদার

বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতি না করলে দেশের আরো উন্নতি হতো

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই বিএনপির অঙ্গীকার

বিনম্র শ্রদ্ধায় সারা দেশে স্বাধীনতা দিবস পালিত