নি র্বা চ নী হা ল চা ল, বগুড়া ৭

বিএনপির রিজার্ভ আসন স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগও

শেষের পাতা

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে | ২০ এপ্রিল ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২০
জাতীয় নির্বাচনের হাওয়া চারদিকে। নির্বাচন কীভাবে হতে যাচ্ছে অথবা আদৌ হবে কিনা এ নিয়ে তৃণমূলে রয়েছে সংশয়। তারপরও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় আগের চেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন। বছর খানেক আগেও কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলো উপজেলা পর্যায়ে তেমন চোখে পড়েনি। এখন উপজেলা পর্যায়েও পালন হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৭ আসন। এটি বিএনপির অনেকটাই রিজার্ভ আসন ধরা হয়। এই আসনে বরাবরই বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন করে থাকেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি গাবতলীর বাগবাড়িতে। ফলে বিএনপি ছাড়া এই আসনে অন্য কাউকে কল্পনাই করে না ভোটাররা। যদিও বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের ভাইস চেয়ারম্যান ওই আসনে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। অপরদিকে শাজাহানপুর উপজেলাতেও জামায়াতের আধিপত্য বিএনপি আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ দাবি করছে ওই আসনটি এখন আর এককভাবে বিএনপির নেই। তাদের সংগঠনও অনেক শক্তিশালী হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, গেল দশ বছরে যেসব নতুন ভোটার হয়েছে তাদের বেশির ভাগ ভোটার আওয়ামী লীগের আদর্শের। এসব তরুণ ভোটারের ওপর অনেকটা ভরসা করেই আওয়ামী লীগ এই আসনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। এই আসনে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির নেতা অ্যাডভোকেট  আলতাফ আলী। তিনি ইতিমধ্যেই নিজের দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন  হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমন কি তার নিজ দলের অনেক নেতাকর্মীও তার সঙ্গে নেই। তবুও তিনি জাতীয় পার্টি থেকে আবারো মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।  
এখানে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি কারাগারে। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও রয়েছে আলোচনা। ওদিকে আইনগত সমস্যা না থাকলে প্রার্থী হতে পারেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে তারা দু’জন প্রার্থী না হলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ ছাড়া বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাকিরুল ইসলাম শাকিলের নাম শোনা যাচ্ছে।
এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বিএমএ বগুড়া শাখার সভাপতি ডা. মোস্তফা আলম নান্নু। গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য এ.এইচ আজম খান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক টি জামান নিকেতা, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আসাদুর রহমান দুলু, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি কামরুন নাহার পুতুল, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ ইমারত আলী, বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফি নেওয়াজ খান রবিন।
এ আসনে জেলা জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা লুৎফর রহমান স্বপন সরকারও মনোনয়ন প্রত্যাশী।
এদিকে এই আসন নিয়ে জামায়াত তেমন ভাবছে না। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সম্মানে এই আসন তারা জোটের কাছে চাইবেন না বলেও জানিয়েছে দলটির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন নেতা।
গাবতলী এবং শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনের গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্ম হওয়ায় বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত এটি। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন তা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। জাতীয় রাজনীতির হাওয়া কোন দিকে গড়ে তার উপর নির্ভর করবে এই আসনের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে। এই আসনটি সরাসরি কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে স্থানীয় নেতারা এই আসনের জন্য নিজ থেকে তেমন কিছু বলতে পরবে না। তারপরও নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকায় দলের ভিত আরো মজবুত করতে স্থানীয় নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে আওয়ামী লীগ জোটের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা ব্যানার ফেস্টুন পোস্টারসহ বিভিন্ন ইভেন্টে সাধারণ মানুষকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এসব পোস্টারের মাধ্যমে। এতে নির্বাচনের আমেজ টের পাওয়া যাচ্ছে।  
বিএনপির দুর্গ ঘোষিত এই আসনটিতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পরপর তিন বার নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা আগামী নির্বাচনেও বেগম খালেদা জিয়া এ আসনে প্রার্থী হবেন। তবে দলের শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান প্রার্থী না হলে বিকল্প সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন তারেক রহমানের পত্নী ডা. জোবাইদা রহমান এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।
ইতিমধ্যেই এই আসন থেকে আওয়ামী জোট নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বিএমএ সভাপাতি ডা. মোস্তফা আলম নান্নু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টি. জামান নিকেতা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একেএম আছাদুর রহমান দুলু, সাবেক এমপি কামরুন নাহার পুতুল এবং কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় ক্ষেতমজুর বিষয়ক সম্পাদক ইমারত আলী, বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলতাফ আলী, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাপা (মঞ্জু) নেতা আমিনুল ইসলাম সরকার পিন্টু, গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য এ.এইচ আজম খান, শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেফাজত আরা মিরা, জাতীয় পার্টি বগুড়া জেলা শাখার যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং গাবতলী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী সরকার, শাজাহানপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সার্জেন্ট (অব.) আব্দুল হান্নান।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বলেন, এই আসন থেকে স্থানীয়ভাবে কেউ মনোনয়ন চান না। তিনিও কখনোই চাননি। বেগম খালেদা জিয়া তিন বার এই আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি আরো জানান, এই আসন নিয়ে কারো কোনো কথা নেই। কেন্দ্র যা ভালো মনে করবে তাই হবে। তারা কেবল দলের ভীত আরো শক্তিশালী করার জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা আলম নান্নু জানান, শেখ হাসিনার সরকার জনগণের সরকার। বিগত দুই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বগুড়ায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ আবারো আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে। তিনি আরো বলেন, বগুড়া-৭ গাবতলী-শাজাহানপুর আসনে কেন্দ্র থেকে তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে বলে তিনি আশাবাদী।
গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য এ.এইচ আজম খান বলেন, আসছে নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে অনেক আগে থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত ভাবেও গণযোগাযোগ করে যাচ্ছেন। তিনি ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একেএম আছাদুর রহমান দুলু মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনিও সাধারণ মানুষের দোরগোরায় যাচ্ছেন। কুশল বিনিময় করছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, নৌকার টিকিট কেন্দ্র থেকে তার জন্যই বরাদ্দ থাকবে।
আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি কামরুন নাহার পুতুল বলেন, তিনি জনগণের সঙ্গে আছেন। মানুষের যেকোনো সমস্যায় তিনি এগিয়ে যান। তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন এলাকায় কাজ করেছেন। এজন্য আবারো তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে চায়। তিনিও আশাবাদী নৌকার টিকিট পাওয়া।
কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় ক্ষেতমজুর বিষয়ক সম্পাদক ইমারত আলী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন তিনি পেয়েছিলেন। পরে জোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়ায় সেবার আর ভোট করা হয়নি। তিনি মনে করেন, এবারো জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকেই মনোনয়ন দেবেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-০৪-১৯ ২৩:৩৮:৩২

যে সব আসন কোন দলের শক্তঘাটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে অন্য দল সেখানে জিতবে না। সব আসনই যদি ক্ষমতাসীনরা জিতে (জিততে চায়) তাহলে নির্বাচন বলে কিছুই থাকত না বা প্রয়োজন ও ছিল না। ** অবাধ নির্বাচনই জনপ্রিয়তার মাপ কাটি। আমলনামার হিসাব নিকাশ ।

আপনার মতামত দিন

অপারেশন গর্ডিয়ান নট-এ নিহত জঙ্গী মোস্তাফার বাড়ি ঝিনাইদহে

ফারাক্কা ব্যারেজের লকগেট ভেঙে বিপত্তি

‘ডাবিং করতে গিয়ে বেশ ভয় পেয়েছিলাম’

আন্দোলন ও নির্বাচন ২ প্রস্তুতিতেই বিএনপি

মি-টু আন্দোলনের মুখে এম জে আকবরের পদত্যাগ

নীতিমালা নেই অ্যাপস চালুর চিন্তা

সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত করেছে ঐক্যফ্রন্ট

দুই উইকেট পড়ে গেছে আরো পড়বে

সক্ষমতা সূচকে পেছালো বাংলাদেশ

দুর্গাপূজায় সেই নাসিরনগর

কারাগারে থেকেই দুই পুরস্কার

গ ইউনিটে ফেল ঘ ইউনিটে প্রথম!

বিএনপি’র ভরসা ভোটার আওয়ামী লীগের উন্নয়ন

জিপ্লেক্স’র মাধ্যমে আরো উন্নত কন্টাক্ট সেন্টার গড়লো রবি

চ্যারিটেবলের রায় আগে লেখা হয়েছে: নজরুল

বিবেকের অনশন