মোদীকে অভিযুক্ত করে কড়া চিঠি সাবেক আমলাদের

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৫
ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতান্ত্রিক ও উদার মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখে উদ্বিগ্ন ভারতের সাবেক আমলারা একযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছেন। শুধু উদ্বেগই নয়, ক্রোধের কথা জানিয়ে তারা লিখেছেন, আপনার দল এবং তার অসংখ্য, বহুলাংশে পরিচয়হীন শাখাপ্রশাখা এক বিভাজন ও ঘৃণার কর্মসূচি আমাদের রাজনীতির ব্যাকরণের মধ্যে এবং আমাদের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনের দৈনন্দিন বয়ানের মধ্যে সন্তর্পণে চালিয়ে দিচ্ছে। আমাদের ক্রোধ সেই কর্মসূচির প্রতি। এই কর্মসূচিই কাঠুয়া আর উন্নাওয়ের মতো ঘটনার সামাজিক অনুমোদন আর বৈধতা তৈরি করে। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্য সচিব, সাবেক কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সচিব জহর সরকার সহ দেশের সাবেক ৪৯ জন আইএস ও আইএএসরা এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে লেখা হয়েছে, আমরা আশা করেছিলাম, সংবিধানকে রক্ষা করার শপথ নেওয়া একজন হিসেবে আপনি, আপনার নেতৃত্বাধীন সরকার এবং আপনার দল এই উদ্বেগজনক অবক্ষয় দেখে নড়েচড়ে বসবে। কিন্তু আমাদের সেই আশা ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। সাবেক আমলাদের মতে, নৈতিক, আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে গর্ববোধ করা এক জাতি হিসেবে আমরা ব্যর্থ প্রতিপন্ন হয়েছি।
সভ্যতার উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, সৌভ্রাতৃত্বকে লালন করা সমাজ হিসেবে ব্যর্থ হয়েছি। হিন্দুদের নাম করে বর্বর আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়ায় মানুষ হিসেবেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কাঠুয়া এবং উন্নাওয়ের ঘটনার অবর্ণনীয় ভয়াবহতা দেখিয়ে দিয়েছে, মানুষের অর্পণ করা ন্যূনতম দায়িত্ব পালনেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সময়কে অন্ধকার অধ্যায় বর্ণনা করে সাবেক আমলারা জানিয়েছেন, এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে আমরা কোথাও আলো দেখছি না। লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে। আমাদের লজ্জা আরও বেড়েছে, কারণ যে অনুজ সহকর্মীরা এখনও চাকরিতে রয়েছেন, বিশেষ করে জেলায়, দুর্বলকে রক্ষা করতে যাঁরা আইনত বাধ্য, মনে হচ্ছে তাঁরাও কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। কাঠুয়া ও উন্নাওয়ের শিশু ধর্ষনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাবেক আমলারা জানিয়েছেন, অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী নির্যাতিতাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের সকলের হয়ে ক্ষমা চেয়ে নিন। সেইসঙ্গে এই নিষ্পাপ দু’টি মেয়ে ও ঘৃণার শিকার হওয়া অন্যদের স্মৃতিকে মাথায় রেখে ফের দলিত, মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার শপথ নিন। সেইসঙ্গে সাবেক আমলারা প্রস্তাব দিযেছেন, ঘৃণা থেকে যে অপরাধ হয় তা সামাজিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পথে কী ভাবে মোকাবিলা করা যায় তা স্থির করতে সর্বদল বৈঠক ডাকুন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-০৪-১৬ ০১:৪১:৩২

সাবেক আমলারা ভুলে গেছেন গুজরাটের সাবেক মুখ্য মন্ত্রীই প্রধান মন্ত্রী ।

আপনার মতামত দিন

ভেড়ামারায় নৌকার মিছিলে বোমা হামলা

অধিকার-এর নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাধা নেই

নিত্যদিনের গণতন্ত্রের অঙ্গীকার

তৃতীয় বেঞ্চে খালেদা জিয়ার রিট খারিজ

সবার সমান অংশগ্রহণ না হলে নির্বাচন পদ্ধতি কার্যকর হবে না

সিলেট-১ আসনে জমে উঠেছে লড়াই

আপিল বিভাগের সেই রায় আজও বহাল!

নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে ইসি ব্যর্থ

সৈয়দ আশরাফের সমর্থনে ভিডিও কনফারেন্সে কিশোরগঞ্জের ৬টি আসন চাইলেন শেখ হাসিনা

ব্যারিস্টার মইনুলের জামিন

‘মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য অসত্য’

শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন

ফলাফল তৈরিতে সতর্কতার নির্দেশ ইসির

আফরোজা আব্বাসের প্রচারণায় ফের হামলা

প্রেস ক্লাবে সাইফুল সভাপতি, ফরিদা সাধারণ সম্পাদক

অনিয়ম রোধে ইসির নিষ্ক্রিয়তায় টিআইবির উদ্বেগ