শেফালীর মুখে হত্যা-পরকীয়ার বর্ণনা

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে | ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩০
পরকীয়া সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই দুই সন্তানকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিই। আর এ জন্য ওদের কাঁথা দিয়ে মুড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেই। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে নিজ সন্তান হৃদয় (৯)কে পুড়িয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ঘাতক মা শেফালী আক্তার এ কথা বলেন। শনিবার নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মেহেদি হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আড়াইহাজার থানার এস আই আবুল কাসেম জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, স্বীকারোক্তিতে শেফালী আক্তার আদালতকে বলেন, তাদের দুজনের অনৈতিক কাজ ছেলেরা দেখে ফেললে প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে নিয়ে শিশু হৃদয় ও জিহাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী। মোমেনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের দু’সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঁথা মুড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে বড় ছেলে হৃদয় (৯)-এর সারা শরীর আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায় গুরুতর আহত অবস্থায় ছোট ছেলে জিহাদ (৭)কে বাড়ির লোকজন তাৎক্ষণিক ভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় সে বেঁচে যায়।
সূত্রমতে, আড়াইহাজার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শেফালী আক্তারের সঙ্গে তার বৈমাত্রেয় ভাই রাশেদুল ইসলাম মোমেনের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। প্রতিরাতেই রাশেদুল ইসলাম মোমেন ভাবি শেফালী বেগমের ঘরেই রাত যাপন করতো। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠক হয়। তাদের দুজনের অনৈতিক কাজ হৃদয় ও জিহাদ দেখে ফেলায় হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতো ১২ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটার সময় হৃদয় ও জিহাদকে কাঁথা পেঁচিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে যায় নিষ্পাপ দুই শিশুর দেহ। শিশুদের চিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে হৃদয়ের সারা শরীর পোড়া ও নিথর দেহ ও জিহাদের অর্ধ পোড়া অবস্থায় কাতরাতে দেখতে পান। সেখান থেকে আহত জিহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহত হৃদয় ৩৫ নং বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র এবং আহত ছোট ভাই জিহাদ প্রথম শ্রেণির ছাত্র।
শুক্রবার এ ঘটনায় নিহত হৃদয়ের দাদা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় শেফালী আক্তার ও রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘাতক মা শেফালী আক্তার ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইসলামপুর এলাকার সুন্দর আলীর কন্যা বলে পুলিশ জানায়।
মামলার বাদী বিল্লাল হোসেন ঘটনার নির্মমতার বর্ণনা দিয়ে জানান, গভীর রাতে শিশুদের চিৎকারে তার ঘুম ভেঙে যায়। পরে সে ও তার বড় ভাই আঃ হান্নান ও তার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে তার বিদেশ প্রবাসী ছেলে আনোয়ারের ঘরের সামনে গিয়ে দেখতে পান ঘর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। তারা সেই ঘরের একটি দরজা খোলা পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখতে পান পুত্রবধূ শেফালী আক্তার ও রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে। তারা দুজনে মিলে বিছানার কাঁথা ও তোষকে আগুন ধরিয়ে তার দুই শিশু নাতি হৃদয় ও জিহাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন দিয়ে পোড়াচ্ছে। এসময় শিশুদের রক্ষায় আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়লে রাশেদুল ইসলাম মোমেন দৌড়ে পালিয়ে যায়।
বিল্লাল হোসেন আরো জানান, এ নির্মম ঘটনার চারদিন অতিবাহিত হলেও এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে এখনো পর্যন্ত পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না।
এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ওসি এমএ হক জানান, অভিযুক্ত দুজনের মধ্যে শিশুর মা শেফালী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সে আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছে। অপর আসামি রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে খুব দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

রাজিব

২০১৮-০৪-১৬ ১৬:৫৭:৩৭

দেশে স্তারজলসা যিবাংলা আর মোবাইলের অপব্যবহার রোধ করা না গেলে এরকম ঘটনা ঘটতে থাকবে। এই হিংস্রতা মানুষের নৈতিক অবক্ষয় এর কারন বলে আমি মনে করি।

ওসমান গনী

২০১৮-০৪-১৬ ১১:০৫:০০

যানি না শেফালী জারয কি না,তবে মৃত্যু দন্ড ছাড়া তাদের আর কোন বিচারই হতে পারে না।

manik

২০১৮-০৪-১৬ ০৮:৫০:৩৫

মা নামের কলঙ্ক।কঠিন শাস্তি দেয়া প্রয়োজন।তা না হলে এসব নষ্টামি বন্ধ হবেনা।ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করা না হলে নষ্টামি বন্ধ হওয়া দূরহ।

Abul Basher

২০১৮-০৪-১৬ ১৭:২২:২৪

Word less.

শাহ

২০১৮-০৪-১৬ ০৪:১০:১৪

ইন্ডিয়ান চ্যানেল বন্ধ না করা হলে ঘরে ঘরে শেফালীরা এ ধরনের জঘন্য ঘটনা করবে।যত দ্রুত সম্ভব ইন্ডিয়ান চ্যানেল বন্ধ করা হোক।

Romeo

২০১৮-০৪-১৬ ০৪:০৭:২৮

এত জঘন্য কাজ করার পরেও যদি এই সব অপরাধী দের ফাসি না হয় তাহলে বুঝতে হবে এই দেশে আইন নেই |

Shafiqul Islam

২০১৮-০৪-১৬ ১৪:৪৫:০২

আসলে কি যে মন্তব্য করবো বুজতে পারছিনা

মো:শাহীন আলম

২০১৮-০৪-১৬ ০১:০৬:১৩

এমন জঘন্য মা 'র বেচে থাকার কোন অধিকার নেই।

Md.Salahuddin Robel

২০১৮-০৪-১৬ ০০:১৪:১৮

পরকিয়া প্রম এমন একটি ব্যাধি যা সমাজ কি সমাজ ধংস করে দিচ্ছে এমন শাস্তি দেওয়া হোক যেন কেউ আর ভবিষ্যৎতে করতে হাজার বার চিন্তা করতে হয়

Md.Salahuddin Robel

২০১৮-০৪-১৬ ০০:১৩:৪৬

পরকিয়া প্রম এমন একটি ব্যাধি যা সমাজ কি সমাজ ধংস করে দিচ্ছে এমন শাস্তি দেওয়া হোক যেন কেউ আর ভবিষ্যৎতে করতে হাজার বার চিন্তা করতে হয়

হাফিজ

২০১৮-০৪-১৫ ২৩:৫০:৪৯

I am wordless. A mother can do like this?

ataur

২০১৮-০৪-১৫ ২২:২৬:২১

R jeno kono beby k baba ma amon kosto na de

হাফিজ জামিল

২০১৮-০৪-১৬ ০৯:৩০:১৫

আমি পাথরের মত শক্ত হয়ে গেলাম মন্তব্য করার দেমাগ হারিয়ে ফেললাম।

আপনার মতামত দিন

আওয়ামী লীগের আরো ৫ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন

‘অবরুদ্ধ’ এলাকাছাড়া পাঁচ প্রার্থী

কমনওয়েলথের মাধ্যমে অবাধ নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করতে হবে

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার জাতির সঙ্গে তামাশা- আওয়ামী লীগ

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখন অর্থহীন কথায় পর্যবসিত হয়েছে

আমার লাশ নিয়ে যাবে ভোট দিতে

কোটা আন্দোলনের নেতাদের চোখে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন দূতের সাক্ষাৎ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশা

জেলে থাকা ১৪ প্রার্থীর মুক্তি দাবি ঐক্যফ্রন্টের

মাঠ ছাড়বো না

আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা আজ

নির্বাচন কমিশন সক্ষমতা দেখাচ্ছে না: বাম জোট

হামলা-সংঘাত অব্যাহত

উচ্চ আদালতে আটকে গেল বিএনপির পাঁচ জনের প্রার্থিতা

ব্যাংক-পুঁজিবাজারে আস্থাহীনতায় সঞ্চয়পত্রে ঝোঁক

মনিরুল হক চৌধুরীর অবস্থা সংকটাপন্ন