মৃত্যুযন্ত্রণা পেলেও বৈশাখের সেরা উপহার পেয়েছি

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে | ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার
কারো জীবনে আনন্দ থেকেও যেন নেই। আবার কারো আনন্দ দ্বিগুণ আনন্দে পরিণত হয়। তিন নারীর জীবনে তেমনই ঘটেছে। বিগত বছরের মতো এবারো তাদের ইচ্ছে ছিল বৈশাখী আনন্দে নিজেকে মাতিয়ে তুলবে। রঙিন শাড়ি পরে সকালে পান্তা ইলিশ খেয়ে দিনটি শুরু করবে। প্রস্তুতিও ছিল তেমনই। কিন্তু রঙিন শাড়ি পরে পান্তা ইলিশের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেও দ্বিগুণ আনন্দযুক্ত হয়েছে তাদের জীবনে এবারের বৈশাখ। হাসপাতাল বেডে নবজাতকের কচি মুখ অন্যরকম এক অনুভূতি জন্ম দিয়েছে তাদের মধ্যে।
তারা দারুণ খুশি বৈশাখের এই সেরা উপহার পেয়ে।
নগরীর কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে শনিবার দুপুরে একটি ক্লিনিকে কথা হয় সদ্য নবজাতকের মা হওয়া সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল চৌধুরীবাড়ি এলাকার নিলীমার সঙ্গে। তিনি বলেন, বিয়ের তিন বছর, ‘ওর’ বাবার সঙ্গে এ দিনটায় ঘুরতে বের হই। কিন্তু এবারের নববর্ষ কাটলো হাসপাতালে। ১০ ঘণ্টার প্রসব যন্ত্রণার পর পেয়েছি ওরে। ২২শে এপ্রিল বাবু হওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার রাত ২টা থেকে ব্যথা শুরু হয়ে ১৪ এপ্রিল দুপুর ১২টায় আমার মেয়ে হয়েছে। হাসিমুখে তিনি বলেন, এবারের নববর্ষ উদযাপন করি নাই। তবে, আগামী বছর একসঙ্গে বের হব তিন জন। অনেক কষ্টের পর মেয়েটা দুনিয়ার আলো দেখেছে। আমি মৃত্যুযন্ত্রণা পেয়েছি মনে হয়েছে কিন্তু ওরে দেখার পরে অন্য রকম একটা অনুভূতি লাগছিল। সে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ওর চেহারায় আমি আমার মায়ের চেহারা দেখতেছি।
একই হাসপাতালে শহরের হাজীগঞ্জের খাদিজা আক্তার বলেন, বাঙালির উৎসব পহেলা বৈশাখ বাংলা বছরের প্রথম দিন। ছোটবেলা থেকেই বেশ আনন্দের সঙ্গে কাটিয়েছি দিনটি। এবার গর্ভবতী বিধায় অসুস্থ ছিলাম। কিন্তু তারপরেও বৈশাখের পোশাক কিনে ছিলাম, ভেবেছি বাসায় শাড়ি পরবো। কিন্তু হঠাত শুক্রবার রাতে ব্যথা হলে হাসপাতালে চলে আসি। ডাক্তার জানায় আমার বাচ্চার সমস্যা আছে, নড়াচড়া কমে গেছে। তারা বলল, সিজার করতে হবে। এরপর সময়ের দুই সপ্তাহ আগেই পৃথিবীর আলোয় চলে এসেছে আমার মেয়ে। তবে, আমার মেয়ের জন্ম আমার নববর্ষের খুশি বাড়িয়ে তুলছে।
ফতুল্লার ইসদাইর এলাকার নাজমা বলেন, এবারের নববর্ষে দুই থেকে তিন হয়ে গেছি। নববর্ষ প্রতিবছর খুশিতে খুশিতে কাটাই। আর এবারের নববর্ষের খুশি হয়ে গেছে দ্বিগুণ। বিয়ের চার বছর পর মেয়ে হয়েছে। আমার পরিবারের কাছে নতুন বছরের উপহার আমার মেয়ে। রাত ৪টায় ১৪ এপ্রিল আমার বাচ্চার জন্ম হয়। সকালে আমার স্বামীর কাছ থেকে মেয়েকে কোলে নিয়েছি। আর্থিক অবস্থার সমস্যার কারণে আমি নিজে কলেজ পর্যন্ত পড়ালেখা করে আর করি নাই। কিন্তু আমার মেয়েকে আমি পড়াশোনার পাশাপাশি সব কিছু শেখাবো।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বাংলাদেশকে এখন সবাই সম্মানের চোখে দেখে

এরপরও মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট পেলাম না

রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ধর্মের অপব্যবহার করছে

সেই চালক-হেলপারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

তৃতীয় ধাপে ভোট পড়েছে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ

কালরাত স্মরণে ব্ল্যাকআউট

সরকার ছদ্মবেশে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে

শহিদুল আলমের মামলায় হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হয়নি

সাহসিকতা ও সেবায় পুরস্কার পাচ্ছেন ৫৯ সদস্য

ঘুষ না খাওয়ার শপথ পড়ালেন অর্থমন্ত্রী

মৌলভীবাজার যুবলীগের কমিটিতে ছাত্রদল নেতা!

মঠবাড়িয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

মাদক পাচার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী

ফেল থেকে পাস ৮ হাজার শিক্ষার্থী

ক্রাইস্টচার্চের ঘটনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্তের ঘোষণা

ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষ নিয়োগে বাধা নেই