আমেরিকায় ফের বাড়ছে অবৈধ অভিবাসন

দেশ বিদেশ

মানবজমিন ডেস্ক | ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার
নিশ্চিতভাবেই একে ‘ট্রাম্প ইফেক্ট’ বলে মনে হচ্ছিল। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আমেরিকায় প্রবেশের অপরাধে আটককৃতদের সংখ্যা ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় পৌঁছায়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তৎকালীন মন্ত্রী জন কেলির দেয়া হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা ছিল ১১১২৭। অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের সংখ্যা হ্রাসের নেপথ্যে ট্রাম্পের অভিবাসন সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশকে কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন জন কেলি। তবে একই বিভাগের উপমন্ত্রী ইলাইন ডিউক এজন্য অভিবাসন আইনের অধিকতর ভালো প্রয়োগকে কৃতিত্ব দিয়েছিলেন। অপরদিকে ট্রাম্প একে আখ্যা দিয়েছিলেন ‘ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন এক অর্জন’ হিসেবে।

এ ধরনের কোনো ইফেক্ট যদি সত্যি সত্যিও থেকে থাকে, তাহলে তা ক্ষণস্থায়ী বলে প্রমাণিত হচ্ছে।
এপ্রিলের শুরুতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, বর্ডার প্যাট্রল এজেন্টরা মার্চ মাসে ৩৭ হাজার ৩৯৩ জন মানুষকে অবৈধ সীমান্ত পারাপারের সময় আটক করেছে। গত বছরের চেয়ে এই সংখ্যা ২০০ শতাংশেরও বেশি। অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আটককৃত একাকী শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে ৩০০ শতাংশ। অপরদিকে আটককৃত পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে ৭০০ শতাংশ। এ খবর দিয়েছে দ্য ইকোনমিস্ট।

ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণী খবরে বলা হয়, এই অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের সংখ্যা স্থায়ীভাবে কমানোর জন্য ট্রাম্পের বাগাড়ম্বর যথেষ্ট নয়। প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, কথিত ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ’ প্রথা তিনি বন্ধ করবেন। ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ’ বলতে তিনি বুঝিয়েছিলেন, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ধরার পর আদালতে মামলা শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার চর্চাকে। কিন্তু এই চর্চা বন্ধ করা কঠিন হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলছে, প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ৩৯ হাজার অভিবাসীকে আটক রাখার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। ট্রাম্প এই সংখ্যাকে ৪৮ হাজারে উন্নীত করতে চান। তবে কয়েক দশক ধরে কার্যকর একটি রায় মোতাবেক, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ একাকী শিশুদের সর্বোচ্চ ২০ দিন আটক রাখতে পারবে। এরপর তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে তার কোনো পরিবারের সদস্য বা স্পন্সরের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আইনানুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীকে দেশে ফেরত পাঠালে তার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে, যদি না তিনি কোনো নিরাপত্তা হুমকির কারণ হন। এই আইনি সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ট্রাম্প অভিবাসন-বিরোধী ধরপাকড় অব্যাহত রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ৪ঠা এপ্রিল তিনি ঘোষণা দেন, মেক্সিকান সীমান্তে কেন্দ্রীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে ন্যাশনাল গার্ডের ২০০০-৪০০০ সৈন্য মোতায়েন করা হবে। তিনি নিজের এই অর্জনের কথা বলে বেড়ানো অব্যাহত রাখেন। পরের দিনই তিনি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একদল সমর্থকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা সীমান্ত কঠোর করছি। আমরা শ’ শ’ সংখ্যায় তাদেরকে ছুড়ে ফেলছি।’ কিন্তু ট্রাম্প হয়তো হতাশ হবেন এটা জেনে যে, ২০১৭ সালে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ মোট ২ লাখ ২৬ হাজার ব্যক্তিকে ফেরত পাঠাতে পেরেছে, যা কিনা পূর্বের বছরের চেয়ে ১৪ হাজার কম।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ধর্ষণকে পাপ বলে মনে করতেন না আসারাম বাপু

গাজীপুর জামায়াতের আমিরসহ ৪৫ জন আটক

দুই বছরের শিশুকে ধর্ষণ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় তিন মাস ধরে বন্ধ ৭৫ কোটি টাকার দুটি প্রকল্পের নির্মাণ কাজ

পার্লামেন্টে অযোগ্য ঘোষিত পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

৭ দিন অবস্থান করলেও তারেক রহমানকে ফেরাতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী: মোশাররফ

চোপ! গণতন্ত্র চলছে

শামসুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন মাইক পম্পেও

দক্ষিণ কোরিয়ায় কিম জং উন

সাব-ইন্সপেক্টর শবনম: "সব পুলিশ এমন হলে বদলে যেত বাংলাদেশ"

‘এই প্রাপ্তিটা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের’

লন্ডন মিশনে হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি, ডেপুটি হাইকমিশনার প্রত্যাহার

সব দলের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ নির্বাচন চায় ইইউ

অস্ট্রেলিয়া গেলেন প্রধানমন্ত্রী

রানা প্লাজা ধসের পর চাকরি হারিয়েছেন ৪ লাখ শ্রমিক