ডে-নাইট এনজিওর ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার
খুলনার দাকোপ উপজেলার সদস্যদের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাত করে উধাও হওয়া বেসরকারি এনজিও ডে-নাইট পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার উপজেলা ব্যবস্থাপক সুফলা মণ্ডল সদস্যদের হাতে আটক হয়েছেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন সংস্থার সদস্যরা। অভিযোগের বিষয় জানতে পেরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পানখালী ফেরিঘাট এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাখা ব্যবস্থাপককে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যায় প্রতারণার শিকার দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষরা। উপজেলার চালনা বাজারে ২৭ জন কর্মী সাড়ে পাঁচ হাজার সদস্যের কাছ থেকে দৈনিক ১০ টাকা থেকে শুরু করে গ্রাহকের সাধ্য ও চুক্তি অনুযায়ী সঞ্চয় আদায় করতো।
এদিকে, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সংস্থা চলে যাওয়ায় বিপদে রয়েছে সংস্থার মাঠকর্মীরা। কারণ এরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। তাই সদস্যরা তাদের টাকার জন্য কর্মীদের সঙ্গে ইতিমধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু করেছে।

পানখালী গ্রামের মাঠকর্মী জেসমিন খাতুন বলেন, আমাকে মৌখিকভাবে নিয়োগ করেন সুফলা মণ্ডল। সদস্যরা আমাকে চেনে। তারা আমার কাছে টাকা দিয়েছে। এখন সংস্থাটি চলে যাওয়ায় গ্রাহকরা আমাকে বিরক্ত করছে।
তাই ব্যবস্থাপককে আটক করে সদস্যদের কাছে দিয়েছি।
চালনা বাজারের মাঠকর্মী দিপা সাহা, হাসিনা বেগমসহ আরো অনেকে জানান, সুফলা মণ্ডলের অধীনে আমরা কাজ করতাম। প্রতিদিন যে টাকা আদায় করতাম তা অফিসে জমা দিয়ে থাকি। তারপর মাস শেষে আদায়ের উপর পার্সেন্টটেন্স হিসাব করে আমাদের বেতন দিয়ে দিত। নির্ধারিত কোনো বেতন ছিল না।
চালনা লেকের পাড়ের হতদরিদ্র পঙ্গু নিরাপদ মিস্ত্রী বলেন, আমি ভিক্ষা করে দৈনিক ১০ টাকা করে ৯ মাস ধরে ডে নাইট সংস্থার কর্মীর কাছে সঞ্চয় জমা করেছি। আমার টাকা আমি পাব তো? একই ধরনের প্রশ্ন নিরাপদ’র বিধবা বোন সবিতা মিস্ত্রীরও।
সবিতা মিস্ত্রী বলেন, আমি পরের বাড়ি খেটে ২০ টাকা করে সঞ্চয় দিয়েছি। আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত দেবে তো? চালনা বাজারের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, আমি প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা করে ১১ মাসে ৩৩ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছি। চালনার ডাকবাংলো মোড়ের ফটোস্ট্যাট দোকানদার কিশোর বিশ্বাসের ৩৪ হাজার, লেকের পাড়ের পূর্ণিমা হালদারের দু’টি সঞ্চয় হিসাব রয়েছে বলে জানায়।
এ বিষয়ে শাখা ব্যবস্থাপক সুফলা মণ্ডল বলেন আমি এখন কিছু বলতে পারছি না। আমার অফিসে গিয়ে দেখে আসেন। কিন্তু অফিসে গিয়ে দেখা যায় তালা ঝোলানো।
দকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুল আলম বলেন, সন্ধ্যার পর শাখা ব্যবস্থাপক সুফলা মণ্ডলকে নিয়ে আমার বাসভবনে আসলে উভয়ের কাছে সব কিছু শুনেছি। পরে তাকে আইনের মাধ্যমে থানায় প্রেরণ করি।
দাকোপ থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সাহাবুদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেনাদার ও পাওনাদার উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সদস্যদের দাবি অনুযায়ী দুই কোটি টাকার স্বাক্ষরিত অঙ্গীকার নামায় মধ্যে প্রথম অবস্থায় সংস্থাটির উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক সুফলার কাছ থেকে পাঁচটি চেকের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার আমানত ও এক মাসের অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শুভদ্রা সরকার। তিনি আরো জানান, গ্রাহকদের বাকি টাকা পরবর্তীতে পরিশোধ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তীতে তার স্বামী ও ছেলের হেফাজতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বাংলাদেশের 'অপ্রত্যাশিত' সমৃদ্ধির নেপথ্যে: ভারতীয় অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিতে

মীরপুরে গ্যাস লাইনে বিষ্ফোরণ, শিশুর মৃত্যু

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে তুরুপের তাস মাহাথির

সহসাই দুই শতাধিক ক্যাডার বহির্ভূত সহকারি সচিবের পদোন্নতি

‘আমার কাছে সবার আগে দর্শক’

হাতে ফুল চোখে পানি শোকাকুল জুরাইন

গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা সর্বত্র

চার নেতার মুখে কোটা আন্দোলনের নেপথ্য কথা

ভুলে ভরা নথি রহস্যজনক: ফখরুল

চিঠিতে ভুল নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনেও হাস্যরস

দুই সিটিতে প্রচারযুদ্ধে দুই দল

গ্রেপ্তারকৃত ৩ জন রিমান্ডে

স্বজনদের কান্নায় ভারি সাভার

যুদ্ধাপরাধ মামলায় এনএসআই’র সাবেক ডিজি গ্রেপ্তার

সিলেটে কাজের মেয়েকে ধর্ষণ তোলপাড়