মিয়ানমারে ফিরে গেছে প্রথম রোহিঙ্গা পরিবার

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৫ এপ্রিল ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫৩
বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রথম একটি পরিবার মিয়ানমারে ফিরে গেছে। মিয়ানমার সরকার বলেছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ৭ লাখ উদ্বাস্তুর মধ্যে প্রথম রোহিঙ্গা পরিবারটিকে শনিবার তারা গ্রহণ করেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এখনও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে তৈরি হয় নি। ফলে প্রত্যাবর্তন এখনই সম্ভব নয় বলে হুঁশিয়ার করেছে জাতিসংঘ। তা সত্ত্বেও প্রথম পরিবারটি শনিবার সেখানে ফিরে গেছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ কিছু জানে কিনা তা নিশ্চিতভাবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায় নি। এএফপি লিখেছে, শনিবার দিনশেষে মিয়ানমার সরকার একটি বিবৃতি পোস্ট করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ওইদিনই প্রথম একটি রোহিঙ্গা পরিবার ফিরে গেছে দেশে। মিয়ানমার সরকারের ইনফরমেশন কমিটি এ বিষয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘শনিবার সকালে রাখাইনের তাউংপাওলেটুই শহরে প্রত্যাবর্তন ক্যাম্পে ফিরে গেছেন পাঁচ সদস্যের ওই পরিবার’। ওই পোস্টে এই পরিবারটিকে মুসলিম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে তাদেরকে রোহিঙ্গা হিসেবে উল্লেখ করা হয় নি। কারণ, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি অনুচ্চারিত। নিষিদ্ধ। তাই কথিত ফেরত যাওয়া পরিবারটিকে রোহিঙ্গা হিসেবে না দেখিয়ে তাদেরকে মুসলিম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তাতে দেখা যায় ওই পরিবারটিতে রয়েছেন একজন পুরুষ। দু’জন নারী। একজন তরুণী। একটি বালক। তারা আইডি এবং হেলথ চেকিং কার্ড সংগ্রহ করছেন। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই পরিবারটিকে মংডু শহরে তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে অস্থায়ী আবাসনে পাঠানো হয়েছে। তবে ভবিষ্যত প্রত্যাবর্তন কবে শুরু হবে, কতদিন লাগবে সে বিষয়ে আর কোনো তথ্য বা পূর্বাভাষ দেয়া হয় নি। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গারা নিজের দেশে সেনাবাহিনীর নির্মম নৃশংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে। এখানে আশ্রয় শিবিরগুলোতে তারা বসবাস করছেন গাদাগাড়ি করে। তাদের দুরবস্থার কথা বর্ণনা করে দেশে বিদেশের মিডিয়াগুলো প্রায়দিনই রিপোর্ট প্রকাশ করছে। তাদের ওপর চালানো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনকে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ঘটানো হয়েছে সেখানে। এ জন্য মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত দাবি করে আবেদন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে। এই আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর ফাতু বেনসুদা এমন আবেদন করেছেন। ওদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা ছিল জানুয়ারিতে। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেছে প্রায় চার মাস। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তা শুরু হয় নি। এক্ষেত্রে প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকার জন্য এক দেশের সরকার অন্য দেশকে দায়ী করছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

গার্মেন্ট শিল্পে এখনও শ্রমিকদের কণ্ঠরোধ

চীনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৮

সিলেটে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পন অনুভূত

তিস্তা নিয়ে মমতার সঙ্গে বৈঠকে বসবে আওয়ামী লীগ

নিহত শ্রমিকদের স্মরণ

ইনটেনসিভ কেয়ারে সিনিয়র বুশ

‘কাজের শিল্পীর চাইতে আমাদের বক্তব্যনির্ভর শিল্পীর সংখ্যা বেশি’

দাফনের আগে নড়ে ওঠা নবজাতকটি আর নেই

কানাডায় ফুটপাতের ওপর ভ্যান উঠিয়ে ১০ জনকে হত্যা

রুয়েটের বাস চালককে কুপিয়ে হত্যা

পুলিশি বাধায় পণ্ড বিএনপির বিক্ষোভ

প্লট পাচ্ছেন ৯৯ এমপি

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে তারেক রহমানের লিগ্যাল নোটিশ

তারেক বৃটিশ সরকারের কাছে পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ওদের এখনো দুর্বিষহ জীবন

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী