আদালতের রায়ে পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১২ এপ্রিল ২০১৮, বৃহস্পতিবার
পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে প্রবল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঘোষিত সুচি অনুয়ায়ী অর্থাৎ আগামী ১লা, ৩রা এবং ৫ই মে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আজ বৃহষ্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি ও বামপন্থীদের করা মামলায় আজ কলকাতা হাইকোর্ট আগামী ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াই স্থগিত রেখেছেন। সেইসঙ্গে নির্বাচন প্রয়োজনে পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। আদালত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন।
সেই তথ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট দেখার পরই হাইকোর্ট সুনির্দ্দিষ্ট রায় দিবেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমার মেয়াদ বাড়ানো এবং ফের তা খারিজ করা সংক্রান্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দু’টি নোটিশের প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল বিজেপি। সেই মামলার শুনানিতে গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, এ বিষয়ে যা বলার হাইকোর্টই বলবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের বেঞ্চে মনোনয়ন সংক্রান্ত মামলার শুনানির শেষে আদালত জানিয়ে দেয়, জনগণের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে ওই মামলা খারিজ করা হয়নি। আগামী ১৬ই এপ্রিল পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সমস্ত প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। বিচারপতি কমিশনের কাছে জানতে চান, ১০ই এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন? ৯ই এপ্রিল দুপুর ৩টার পর থেকে ১০ই এপ্রিল দুপুর ৩টা পর্যন্ত কতজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন? এই সময়সীমার মধ্যে কতগুলি অভিযোগ কমিশনের নজরে এসেছে? সেইসমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন? কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশন এ সংক্রান্ত কোনও তথ্যই জানাতে পারেনি। ফলে সব তথ্য নিয়ে আগামী শুনানির দিন কমিশনকে  হাজির থাকতে বলা হয়েছে। এদিনের আদালতের রায়ে বিরোধীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেছেন, এই রায় মাধ্যমে বাংলার মানুষের জয় হয়েছে। রায়কে স্বাগত জানিয়ে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ বলেছেন, এতদিন আমরা যে অভিযোগ করছিলাম তা প্রমাণিত হল। রাজ্য সরকার যে ভাবে কমিশনকে ভয় দেখিয়ে ব্যবহার করছে, তা অনুমোদন করেনি হাইকোর্ট। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, আদালতকে কুর্নিশ জানাই। প্রশাসন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন যখন আমাদের বক্তব্য শুনতে চাইছে না, তখন আদালত অন্তত আমাদের যন্ত্রণার কথা শুনেছে। তবে এদিনের আদালতের রায়ে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসে মোটেই খুশি নয়। আর তাই এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে একই সঙ্গে আজ হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হলেও কলকাতা হাইকোর্টকে না জানানোয় তথ্য গোপনের অভিযোগে আদালত মামলাকারীকে (বিজেপি) ভর্ৎসনা করেছেন আদালত।  মামলাকারীকে ৫ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সোনা কারসাজির নিরপেক্ষ তদন্ত চায় ফিনল্যান্ড বিএনপি

চবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানবন্ধনেও ছাত্রলীগের হামলা!

রিমান্ডে আসাদ পংপং

ছোট বড় সকল নির্বাচনে স্বচ্ছতা দেখতে চায় ইইউ

ঢাকায় সর্বোচ্চ গরম

দেশের বাইরে পাসের হার ৯২ দশমিক ২৮ শতাংশ

জাবিতে ১৯ বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন

আবারও বড় ঋণ কেলেঙ্কারিতে জনতা ব্যাংক

বিবি’র ওপর ‘আস্থা’ রাখুন!

হুমায়ূন আহমেদের শেষের দিনগুলো

দিনাজপুরে ছেলেরা পিছিয়ে

আরিফকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন সেলিম

যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বললেন বিপর্যয় নয়, কম পাস

ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ২০ থেকে ২৬ জুলাই

গতানুগতিক পড়ালেখায় ভাল ফল সম্ভব নয়

পাকিস্তানের নির্বাচনে দৃষ্টি সেনাবাহিনীর!