পশ্চিমবঙ্গে আচমকা পঞ্চায়েত নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণায় বিরোধীরা দিশেহারা

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১ এপ্রিল ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩৯
মাত্র তিন দিন আগে ডাকা সর্বদল বৈঠকে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার তিনস্তরের পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন তারিখের কোনও ইঙ্গিত দিতে পারেন নি। অথচ শনিবার নির্বাচন কমিশনার তড়িঘড়ি নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছেন। আর এই আচমকা ঘোষণায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রকৃতপক্ষে দিশেহারা অবস্থা। তারা আশা করেছিলেন, নির্বাচনের আগে আরও কিছুটা সময় পাওয়া যাবে। সর্বদল বৈঠকে মে মাসে নির্বাচন করা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। গোটা এপ্রিল মাস জুড়ে চলবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা।  কিন্তু নির্বাচন কমিশন যে নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে তাতে মে মাসের শুরুতেই তিন দফায় ভোট হবে। প্রতিটি দফার ক্ষেত্রে ব্যবধান রাখা হয়েছে মাত্র একদিন। আগামী ১লা মে ভোট নেওয়া হবে রাজ্যের ১২ জেলায়।
দ্বিতীয দফায় ৩ মে ভোট হবে দুটি জেলায়। আর ৫ই মে তৃতীয দফায় ভোট হবে উত্তরবঙ্গের ৬টি জেলায়। ফল ঘোষনা করা হবে ৮ই মে। অথচ বতৃমা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন বোর্ডের মেয়াদ রয়েছে আগষ্ট পর্যন্ত। বিরোধীদের অভিযোগ রাজ্য সরকারের বশ্যতা স্বীকার করে নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্র কুমার সিং এই নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছেন। এমনকি বিরোধীদের দাবি মেনে এই নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয বাহিনী থাকবে কিনা সেকথাও নির্বাচন কমিশনার জানাতে অস্বীকার করেছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে ৩ লক্ষ ভোটকর্মী, ৩৫০ জন পর্যবেক্ষক ও ৪৫ হাজার পুলিশ চেয়েছে। নজিরবিহীনভাবে এবারই প্রথম ১লা  মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হওয়া সত্ত্বেও সেদিন নির্বাচন করা হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নগুলি এ ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।  বিজেপি থেকে সিপিএম, কংগ্রেস সকলেই অভিযোগ করেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই এখন নির্বাচন কমিশন চলছে। তাই এভাবে বিরোধীদের আপত্তি উড়িয়ে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হযেছে। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আমরা তা করি না। তিনি আরও বলেছেন, গণতন্ত্র রক্ষা গণতন্ত্র দিয়েই হয়। স্বৈরতন্ত্র দিয়ে হয় না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হোক এটাই চাই। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল তড়িঘড়ি নির্বাচনের ঘোষণাকে রাজ্যের শাসক দলের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন। রাজ্য সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতেই নির্বাচনের ঘোষনা হয়েছে। একটি সুত্রের খবর, রাজ্য সরকার মুসলমানদের রমজান মাস শুরুর আগেই নির্বাচন শেষ করতে চেয়েছেন বলেই মে মাসের শুরুতেই নির্ঘন্ট ঘোষণার সুপারিশ করেছে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণার ফলে বিরোধীরা সব আসনে প্রার্থী দিতে পারবে কিনা সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এই নির্বাচনে ৫ কোটি ৮ লক্ষ ভোটার ২০টি জেলার ৫৮ হাজার ৪৬৭টি বুথে ভোট দেবেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আসিয়ানের সহযোগিতা নেবে মিয়ানমার

এবার হিজড়ারা প্রার্থনা করলেন ভারতের সেই আলোচিত মন্দিরে

নিজের দাতব্য সংস্থা বন্ধে বাধ্য হলেন ট্রাম্প

‘খুবই হেল্পফুল একটা মানুষ তিনি’

ভেড়ামারায় নৌকার মিছিলে বোমা হামলা

অধিকার-এর নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বাধা নেই

নিত্যদিনের গণতন্ত্রের অঙ্গীকার

তৃতীয় বেঞ্চে খালেদা জিয়ার রিট খারিজ

সবার সমান অংশগ্রহণ না হলে নির্বাচন পদ্ধতি কার্যকর হবে না

সিলেট-১ আসনে জমে উঠেছে লড়াই

আপিল বিভাগের সেই রায় আজও বহাল!

নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে ইসি ব্যর্থ

সৈয়দ আশরাফের সমর্থনে ভিডিও কনফারেন্সে কিশোরগঞ্জের ৬টি আসন চাইলেন শেখ হাসিনা

ব্যারিস্টার মইনুলের জামিন

‘মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য অসত্য’

শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন