কলকাতার মেয়রের প্রেম নিয়ে মুচমুচে আলোচনা

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ২৪ মার্চ ২০১৮, শনিবার
কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে নিত্যনতুন তোলা অভিযোগ নিয়ে দু’সপ্তাহ ধরে মুচমুচে আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, মেয়রের ব্যক্তিগত জীবন এখন মেগা সিরিয়ালের থেকে বেশি টানটান উত্তেজনায় ভরপুর। আলোচনা চলছে রাজনীতির অঙ্গনেও। সরস সেই আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যোগ দিয়েছেন। শোভনকে মমতা আদর করে ডাক নাম কানন বলেই ডাকেন। সেই কাননের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে যে আলোচনা চলছে তাতে তিনি অখুশি।
মেয়রকে তাই শোধরাতে ভাল করে কাজ করার ব্যাপারে মনোযোগী হতে বলেছেন। তবে মমতা তার প্রিয় কাননের প্রেম নিয়ে কৌতূহল চেপে রাখতে পারেন নি। তাই শুক্রবার বিধানসভায় শোভনকে দেখে মমতা বলেছেন, ‘শুধুই প্রেম করছিস, নাকি কাজও করছিস।’ তখন মেয়র বলেছেন, ‘আমি ও সব করি নাকি!’ এবার মমতাও পাল্টা বলেন, ‘ঠিক আছে, সবার সামনে ভোট হোক। দেখি কতজন তোর পক্ষে।’ আসলে শোভন চট্টোপাধ্যায় শুধু কলকাতার মেয়রই নন। দু’দুটি মন্ত্রকের মন্ত্রী। দলের হয়ে একটি জেলার দায়িত্বও তার কাঁধে ছিল। মমতাকে মা বলে ডাকেন মেয়র। তার মোবাইলে মমতার নম্বরটি মা বলেই সেভ করা। এহেন শোভনের ব্যক্তিগত জীবনের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে বিরক্ত দলের নেত্রী থেকে সবাই। কিছুদিন আগেই স্ত্রী রতœা চট্টোপাধ্যায়কে ডিভোর্সের নোটিশ দিয়েছেন মেয়র। তার শুনানি চলছে। রতœা সমঝোতার পক্ষে হলেও মেয়র শোভন তাতে রাজি নন। আসলে তৃতীয় এক নারীর উপস্থিতি মেয়রের ব্যক্তিগত জীবনে  নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছে। কলকাতার একটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজকাল মেয়রের পাশে পাশে দেখা গিয়েছে। বৈশাখিকে বন্ধু বলে পরিচয় দিলেও মেয়র এক কাপড়ে পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে আলাদা একটি ফ্ল্যাটে বাস করার পর থেকে এই বৈশাখিই তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে  সহায়তা করে আসছেন। এমনকি প্রতিদিন খাবারও পৌঁছে দিচ্ছেন। বৈশাখি নিজেকে মেয়রের পারিবারিক বন্ধু বলে পরিচয় দিলেও মেয়রের স্ত্রী তা মানতে রাজি নন। বরং মেয়রের শ্বশুর পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন মেয়রের বাসস্থান থেকে রাত তিনটেয় বৈশাখির বের হয়ে আসা নিয়ে। বৈশাখির স্বামী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক মানস মণ্ডল অবশ্য স্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে মেয়র শোভন যেভাবে বুক বাজিয়ে বলেছেন এমন বন্ধুত্ব তিনি ‘বুক’ দিয়ে আগলে রাখতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবেন না, তাতে দুই বিবাহিতা নরনারীর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার বৈশাখী কোনরকম লুকোছাপা না করে মিডিয়ার কাছে নিয়মিত মেয়রের হয়ে পারিবারিক ব্যাপারেও মন্তব্য করছেন। বৈশাখি বলেছেন, শোভন চট্টোপাধ্যায় তাকে বলেন, বিয়ে না করে দল করলেই তার ভালো হতো। এখন তার মনে হয় বিয়ে করেই তিনি ভুল করেছেন এবং সেই জন্যই এত সমস্যা তাকে সইতে হচ্ছে। বৈশাখি এও জানিয়েছেন, তার জন্য এমন ‘অকারণে’ মেয়রকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে দেখে তিনি নিজেও খুব দুঃখিত। বৈশাখি অবশ্য বলেছেন, আমি তো সম্পর্কের কথা অস্বীকার করিনি। কিন্তু সম্পর্কটা কী রকম, সেটা তো বুঝতে হবে। শোভনদার সঙ্গে আমার অত্যন্ত ভাল বন্ধুত্ব রয়েছে। শোভনদা আমার অত্যন্ত কাছের জন। সেই সম্পর্ক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে। অবশ্য তার ও মেয়রের মধ্যেকার সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে যে মুচমুচে আলোচনা চলছে সে সম্পর্কে বৈশাখির সাফ জবাব, এই গোটা পর্বটা আমার কাছে একটা অপ্রাপ্তমনস্ক সমাজের প্রতিফলন। সম্পর্ক কত রকমের হয়, তার কত রকম রং হয়, নির্যাস হয়, আমাদের সমাজ সেটা এখনও ঠিক মতো বোঝে না।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

পার্লামেন্টে অযোগ্য ঘোষিত পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

৭ দিন অবস্থান করলেও তারেক রহমানকে ফেরাতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী: মোশাররফ

চোপ! গণতন্ত্র চলছে

শামসুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন মাইক পম্পেও

দক্ষিণ কোরিয়ায় কিম জং উন

সাব-ইন্সপেক্টর শবনম: "সব পুলিশ এমন হলে বদলে যেত বাংলাদেশ"

‘এই প্রাপ্তিটা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের’

লন্ডন মিশনে হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি, ডেপুটি হাইকমিশনার প্রত্যাহার

সব দলের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ নির্বাচন চায় ইইউ

অস্ট্রেলিয়া গেলেন প্রধানমন্ত্রী

রানা প্লাজা ধসের পর চাকরি হারিয়েছেন ৪ লাখ শ্রমিক

সেনা ছাড়াই ভোট, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ

দুই প্রার্থীর সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের বৈঠক

তৃপ্তির লাশ উদ্ধার, রহস্য

এপ্রিলের মধ্যে গেজেট না হলে ফের আন্দোলন